1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
মুড়ির টিন ও মোমিন কোম্পানি - দৈনিক শ্যামল বাংলা
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের এলাকাভিত্তিক নেতাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে ট-ব্লকে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত বাড়ি-ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির নবগঠিত কমিটির সভা কর্ণফুলী প্রেসক্লাবের মাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন! পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী, এলাকায় চাঞ্চল্য জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে অপরিহার্য: ড. খলিলুর রহমান জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিতে বেড়েছে সবজির দাম সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীর হাতিয়ায় আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোপের মুখে এমপি হান্নান মাসউদ  নোয়াখালীর চৌমুুহনীতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ মিছিলি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়

মুড়ির টিন ও মোমিন কোম্পানি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩০ মে, ২০২০
  • ৬২০ বার

এইচ এম আবুল হোসাইনের টাইমলাইন থেকে :
চল্লিশের দশক থেকে সত্তর দশক পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় খুবই জনপ্রিয় গণ পরিবহন ছিল মোমিন কোম্পানির বাস। এই বাসগুলো মজবুত হলেও নাম ছিল মুড়ির টিন। মুড়ির টিন নামকরণ কেন হলো তার সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও ধারণা করা হয় বাসের আকৃতির কারণে এমন নামকরণ করা হয়। এই বাসগুলো সেলফ স্টার্ট বা এখনকার গাড়ির মতো চাবি ঘুড়িয়ে স্টার্ট করা যেত না। বাংলা ‘ দ ‘ আকৃতির একটি লোহার দন্ডের এক মাথা ইঞ্জিনে প্রবেশ করিয়ে জোরে ঘুড়িয়ে স্টার্ট দেয়া হতো। বাসে ছিল না কোনো ইলেকট্রনিক বা হাইড্রোলিক হর্ন।ড্রাইভারের ডান পাশে দরজার সাথে ভেপু বা হর্ন ছিল। ড্রাইভার হাত দিয়ে চেপে এই হর্ন বাজাতো। মুড়ির টিনের পাশাপাশি এই বাসগুলোকে মোমিন কোম্পানির বাস বলা হতো।
পুরনো ঢাকার উর্দু রোডের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন জনাব আব্দুর রহমান। ছিলেন অঢেল সম্পত্তির মালিক। তার দুই ছেলে আব্দুল আজিজ এবং আব্দুস সাত্তার। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট আব্দুস সাত্তার ছিলেন তখনকার নাম করা ওষুধ কোম্পানি ফার্মাদেশ এবং হোটেল পূর্বাণীর মালিক। ফার্মাদেশ ওষুধ কোম্পানির ফ্যাক্টরি ছিল (এখনো আছে) তেজগাঁও শিল্প এলাকা। হেড অফিস সেগুন বাগিচা। অষ্টাশি সালে সাত্তার সাহেবের সাথে আলাপ হয় সেগুন বাগিচায় ফার্মাদেশ অফিসে। আলাপের ব্যবস্থা করে দেন বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান ফার্মাদেশের তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম ( বর্তমানে পরিচালক হামদার্দ ) আলাপ চারিতায় সাত্তার সাহেব বলেন চল্লিশের দশকে তারা ইংল্যান্ড থেকে বেডফোর্ড গাড়ি আমদানি করেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে নির্মাণ করেন গ্যারেজ। নাম দেয়া হয় মোমিন মোটর কোম্পানি। লোকজন বলতো মোমিন কোম্পানি। মোমিন নামটি নেয়ার কারণ হলো এটি আরবী শব্দ। যার অর্থ ঈমান বা বিশ্বাস নেকী। মোমিন নামে তাদের পরিবারে কেউ ছিল না। তারা প্রথম রামপুরা টু সদরঘাট রুটে সার্ভিস শুরু করে। এরপর সদরঘাট টু চকবাজার। সেসময় ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল ছিল চকবাজার, শ্যামবাজার, বাবুবাজার নয়াবাজার, চকবাজার এবং বুড়িগঙ্গার ওপারে জিঞ্জিরা এবং রুহিতপুর। একই সাথে বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই এলাকা। গুলিস্তান, মানসী বা নিশাত, নাগরমহল, আজাদ, রূপমহল, লায়ন, শাবিস্তান সিনেমা হলগুলো ছিল পাশাপাশি। মোমিন কোম্পানির বাস ছিল যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। চলতো কচ্ছপ গতিতে। পরবর্তীতে শীতলক্ষ্যার ওপার বাস সার্ভিস চালু করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের কাছ থেকে জায়গা লীজ নিয়ে নিজেদের খরচে রাস্তা নির্মাণ করে তারাবো থেকে বাবুরহাট, নরসিংদী মুড়ির টিন চলতো। এরপর জিঞ্জিরা থেকে রুহিতপুর রুট চালু করা হয় । কারণ হিসেবে সাত্তার সাহেব বলেন নরসিংদী, রুপগঞ্জ, তারাবো ছিল তাত শিল্প এলাকা। একই ভাবে রুহিতপুরও ছিল তাত শিল্প এলাকা। সারা দেশে তাত শিল্প এবং তাঁতের কাপড়ের প্রসারের জন্য তারা নিজ খরচে রাস্তা নির্মাণ করে বাস সার্ভিস চালু করে। সত্তর দশক পর্যন্ত রাজধানীতে মুড়ির টিন চলতো। আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জিঞ্জিরা টু রুহিতপুর রুটে কয়েকটি মুড়ির টিন চলতো। এখন সবই স্মৃতি।
: লেখাটি আরো বিস্তারিত ভাবে দৈনিক বাংলার বাণীর রকমারি পাতায় প্রথম ছাপা হয়। আমি তখন বাংলার বাণীর স্টাফ রিপোর্টার। তারপরও লেখাটির জন্য আলাদা সম্মানি পেয়েছিলাম ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net