1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
স্পেনের আন্দালুসিয়ায় মুসলিমদের রক্তে ভিজে গিয়েছিলো স্পেনের রাস্তা - দৈনিক শ্যামল বাংলা
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম সালাহউদ্দিনের মমতাময়ী মায়ের মৃত্যুতে প্রেস ক্লাবের গভীর শোক রামপুরায় মাদকাসক্ত ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে বলায় বিজ্ঞানী সরোয়ারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ট-ব্লক বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির শুভেচ্ছা দুর্গাপূজায় ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন ও ২০০ বাস চালু হচ্ছে আজ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা নাটোরে বাস-বালুবোঝাই ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১০ রাঙ্গাবালীতে খাস খাল বাঁধ দেয়ার পাঁয়তারা,খাল থেকে ট্রলার সরিয়ে দিতে এলাকায় মাইকিং বাংলাদেশ মানব কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতিকে সংবর্ধনা মাটিরাঙ্গায় অস্ত্র ও নগদ অর্থ সহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার 

স্পেনের আন্দালুসিয়ায় মুসলিমদের রক্তে ভিজে গিয়েছিলো স্পেনের রাস্তা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৪৬ বার

সরদার আবদুল কাদের:

১৪৬৯ সালে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা স্পেনে মুসলিম সভ্যতার অস্তিত্বকে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য পরস্পর বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৪৮৩ সালে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী পাঠান মালাগা প্রদেশে। যাদের প্রতি হুকুম ছিল শস্যক্ষেত্র জ্বালিয়ে দেয়া, জলপাই ও দ্রাক্ষা গাছ কেটে ফেলা, সমৃদ্ধিশালী গ্রাম ধ্বংস করা, গবাদিপশু তুলে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

সেই সময় মৃত্যু ঘটে স্পেনের শাসক আবুল হাসান আলীর। শাসক হন আজজাগাল। এক পর্যায়ে প্রাণরক্ষা ও নিরাপত্তার অঙ্গীকারের ওপর নগরীর লোকেরা আত্মসমর্পণ করলেও নগরী জয় করেই ফার্ডিনান্ড চালান গণহত্যা। দাস বানিয়ে ফেলেন জীবিত অধিবাসীদের। এরপর ফার্ডিনান্ড নতুন কোনো এলাকা বিজিত হলে বোয়াবদিলকে এর শাসক বানাবে বলে অঙ্গীকার করে।

৪ ডিসেম্বর ১৪৮৯। আক্রান্ত হয় বেজার নগরী। আজজাগাল দৃঢ়ভাবে শত্রুদের প্রতিহত করলেন। কিন্তু ফার্ডিনান্ডের কৌশলে খাদ্যাভাব ঘটে শহরে। ফলে শহরের অধিবাসী নিরাপত্তা ও প্রাণরক্ষার শর্তে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু তাদের ওপর চলে নৃশংস নির্মমতা। আজজাগাল রুখে দাঁড়ালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে করা হয় আফ্রিকায় নির্বাসিত।

ডিসেম্বর ১৪৯১-এ গ্রানাডার আত্মসমর্পণের শর্ত নির্ধারিত হলো। বলা হলো : ‘ছোট-বড় সব মুসলমানের জীবনের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে। তাদের মুক্তভাবে ধর্ম-কর্ম করতে দেয়া হবে। তাদের মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অক্ষত থাকবে। তাদের আদবকায়দা, আচার-ব্যবহার, রাজনীতি, ভাষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ অব্যাহত থাকবে।আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন মুসা বিন আকিল। তিনি বললেন, গ্রানাডাবাসী! এটা একটা প্রতারণা। আমাদের অঙ্গারে পরিণত করার জ্বালানি কাঠ হচ্ছে এ অঙ্গীকার। কিন্তু গ্রানাডার দিন শেষ হয়ে আসছিল। ১৪৯২ সালে গ্রানাডাবাসী আত্মসমর্পণ করল।

রানী ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ডের মধ্যে শুরু হলো চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা। চারদিকে চলছিল ভয়াবহ নির্যাতন। পাইকারি হারে হত্যা বর্বরতার নির্মম শিকার হতে থাকলেন অসংখ্য মুসলমান। স্পেনের গ্রাম ও উপত্যকাগুলো পরিণত হয় মানুষের কসাইখানায়। যেসব মানুষ পর্বতগুহায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাদেরও মেরে ফেলা হলো আগুনের ধোঁয়া দিয়ে।

পহেলা এপ্রিল, ১৪৯২। ফার্ডিনান্ড ঘোষণা করলো যেসব মুসলমান গ্রানাডার মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। যারা পানির জাহাজে উঠবে তারা ও নিরাপদ লাখ লাখ মুসলমান আশ্রয় নিলেন মসজিদগুলোতে,এবং সামুদ্রিক জাহাজে।

ফার্ডিনান্ডের লোকেরা সবগুলো মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিল, এবং সাগরের মাঝখানে নিয়ে জাহাজের তলা ছিদ্র করে দিয়ে জাহাজ ডুবিয়ে দিলো, তিনদিন পর্যন্ত চললো হত্যার মহাউৎসব।

ফার্ডিনান্ড লাশপোড়া গন্ধে অভিভূত হয়ে হাসলেন। বললেন, হায় মুসলমান! তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা (এপ্রিল ফুল)

এই গণহত্যার পরও যেসব মুসলমান আন্দালুসিয়ায় রয়ে গিয়েছিলেন, তাদের ফার্ডিনান্ডের ছেলে তৃতীয় ফিলিপ সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় সমুদ্রপথে নির্বাসিত করেন। তাদের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখেরও বেশি। ইতিহাস বলে, তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক লোকই জীবিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ সমুদ্রের গহিন অতলে হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য। এভাবেই মুসলিম আন্দালুসিয়া আধুনিক স্পেনের জন্ম দিয়ে ইতিহাসের দুঃখ হয়ে বেঁচে আছে।
#দুঃখের বিষয় হলো সেই মুসলিম গনহত্যার ১লা এপ্রিলকে মুসলিম সন্তানেরা শোক দিবস হিসেবে পালন না করে এপ্রিল ফুল দিবস(বোকা দিবস) পালন করে।। অতএব আসুন আমরা ১লা এপ্রিলকে মুসলিম গনহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে তাদের আত্ত্বার মাগফিরাত কামনা করি। ভবিষ্যতে আর যেন কেহ আমাদেরকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিতে না পারে সে ব্যাপারে সচেতন থাকি।
#নিছের ছবিগুলোর চিত্র দেখলেই অনুমান করতে পারবেন কত নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে স্পেনের মুসলমানদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো!!

তথ্যসূত্র: সৈয়দ আমীর আলী : দ্য স্পিরিট অব ইসলাম অ্যান্ড সারাসিল, সম্পাদনা-মাসউদ হাসয়ান, স্পেনে মুসলিম কীর্তি—এমদাদ আলী, ইউরোপে ইসলাম—তালিবুল হাশেমী, অনুবাদ—আমীনুর রশীদ।]
লেখক : উপন্যাসিক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net