https://www.dailyshamolbangla.com/
অশোক দাশ,সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলে জেলেদের জাল বসানোর খুঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা,বয়া উচ্ছেদের সরকারী সিদ্ধান্তের নোটিশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে উত্তর চট্টগ্রামের শত শত জেলে। উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎসজীবি জলদাস সমবায় কল্যান ফেডারেশনের ব্যানারে বৃহস্পতিবার২ এপ্রিল বিকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অনুষ্ঠিত এ মানব বন্ধনকালে জেলেরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে মাছ ধরাই আমাদের একমাত্র পেশা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পেশা আঁকড়ে ধরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করছি। সম্প্রতি আমাদেরকে কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে যে, সাগরে মাছ ধরার সময় কোনরুপ খুঁটি স্থাপন করা যাবে না এবং জালে বয়া দিলে তা উচ্ছেদ করা হবে। সরকারী এ নির্দেশনা স্পষ্টতই মৎস্যজীবিদের পেশা ধংসের চক্রান্ত। কারণ, মাছ ধরার জাল পাততে হলে অবশ্যই খুঁটি স্থাপন করতে হয়। এছাড়া জাল ফেলতে গেলে বয়াও আবশ্যক। খুঁটি ও বয়া ছাড়া সাগরে মাছ শিকার করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তারা আগে খুঁটির উপর নির্ভর করে জাল পাততেন, যখন সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আসত তখন জাল তুলে নিলেও খুঁটি থেকে যেতো। কিন্তু গত ১৬ মার্চ এক নোটিশে জানানো হয় সব খুঁটি তুলে ফেলতে হবে। না হলে ৫ এপ্রিল সরকারীভাবে সেগুলো তুলে ফেলা হবে। এটি মেনে কখনোই মাছ শিকার করা যাবে না। এ কারণে সরকারী এ নোটিশ মানতে গেলে তাঁদের সংগঠনের আওতাধীন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর এলাকার ৭৫ হাজার পরিবারের ৩ লাখ ৭৫হাজার মৎস্যজীবির জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবী জানান জেলে নেতৃবৃন্দ। উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানব বন্ধন শেষে উক্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়কে স্মারক লিপি প্রদান করেন তাঁরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎসজীবি জলদাস সমবায় কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি লিটন জলদাশ, উপেন্দ্র জলদাশ, হরিলাল জলদাশ, বাদল জলদাশ, দুলাল জলদাশসহ বিভিন্ন জেলে নেতৃবৃন্দ। জেলেদের মানব বন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের কথা স্বীকার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, আমি তাদের যে দাবী তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।