1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
বই পড়ার অভ্যাসঃ নতুন প্রজন্মকে শিকড় জানতে হবে - দৈনিক শ্যামল বাংলা
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরায় ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ৩ ইটভাটাকে ১৫লাখ টাকা জরিমানা সোনারগাঁয়ে কাজীর ওপর হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জামায়াতের মাগুরায় মাদক বিরোধী অভিযানে নারীসহ গ্রেফতার -২ ৪ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি প্রাইভেট কার ১টি মোটরসাইকেল ও ৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার! মাগুরায় ১১দলীয় ঐক্য জোটের খুলনা বিভাগীয় লং মার্চের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত রামগড়ে দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে চাল বিতরণ, বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা সাতকানিয়া আমিলাইষে দুর্গোৎসবে ১০০ পরিবারকে বস্ত্র উপহার দিলে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান  কুমিল্লায় তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার অনাবাসিক শাখার উদ্বোধন গত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের মিথ্যা শেখানো হয়েছে” মাগুরায় এমপি মনোয়ার হোসেন খান মাগুরায়  ৭৫ জন অসহায়কে আর্থিক সহায়তা ও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত  মাগুরার শ্রীপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত 

বই পড়ার অভ্যাসঃ নতুন প্রজন্মকে শিকড় জানতে হবে

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৪১ বার

গত ১৮ মার্চ ২০২১ ঢাকায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাঠ ও বাংলা একাডেমির সম্মুখে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা। দিন যতই গড়েছে বইমেলায় পাঠক দর্শক ও শ্রোতাদের আগমনী প্রতিদিন জমে উঠেছে শ্রুতির ধারায়। দীর্ঘ এক মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার এখন শেষ সমাপনী প্রান্তে এগিয়ে এসে। এই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার পর্দা নামবে ১৪ এপ্রিল ২০২১। মেলাজুড়ে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এই ঘেঁটে দেখেছেন। বই হাতে নিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন অহরহ। বেচাকেনা মন্দের দিক থেকে ভালো হয়েছে এবারের মেলায় । বইমেলা আমাদের সর্বজনীন উৎসব। লেখক, প্রকাশক, ও পাঠকের মিলনমেলা। এক সময় বই-ই ছিল মানুষের বড় বন্ধু। অবসর সময়টা বই পড়ে কাটত। দীর্ঘ যাত্রার বই ছিল সঙ্গী। নানা উপলক্ষে বই উপহার দেওয়া হতো। আমাদের ছোটকালের স্কুল – কলেজের শিক্ষকরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাইরের বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করতেন।

বাংলা একটি ভাষার নাম। একটি চেতনার নাম। বাংলা সারা বিশ্বের অহংকার। কেননা পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালিরাই প্রথম ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল। তাই ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে । তবে ভাষাকে নিয়ে ভাবার ইতিহাসটা আরো আগের। ১৯৪০ সালে পাকিস্তানের লাহোরে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠনসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে একটি প্রস্তাব করা হয়, যা ইতিহাসে ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামে খ্যাত। ১৯৪৭ সালে শুধু ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয়। সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের। পাকিস্তানের আবার দুটি ভাগ ছিল— পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশ আর পশ্চিমে পশ্চিম পাকিস্তান। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই দুই পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয় দূরত্ব। ধীরে ধীরে পশ্চিম পাকিস্তানে সব উন্নতি সাধিত হয়। বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তান ক্রমান্বয়ে হতে থাকে অবহেলিত।

আমাদের বই পড়ার অভ্যাসটা হারিয়ে যাচ্ছে । এটা কোনো সুলক্ষণ নয়। বই পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কারণেই যুবসমাজ অপরাধজগতে জড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি এখন বই কেনেন না, আবার সংগ্রহে থাকার পরও বই পড়েন না। সবাইকে বই কেনা ও পড়ার আহবান জানিয়ে তিনি মাহমুদ হোসেন এই মন্তব্য করেন।

প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ মৃত্যুর আগে বলে গেছেন বই-ই পারে মানুষকে সুস্থ জীবনের সন্ধ্যান দিতে। শিশুরা গল্প শুনতে পছন্দ করে। বই পড়ে শোনাতে হবে শিশুদের। মনীষীদের জীবনীগ্রন্থ ও শিক্ষামুলক বই পড়তে হবে বেশি।।পরবর্তী প্রজন্মকে মেধা ও মননে সমৃদ্ধ করতে বই পড়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন এমাজউদ্দীন আহমদ।
ফিরে আসুক আমাদের বই পড়ার অভ্যাস। বই হোক নির্মল আনন্দের উৎসব।

ভাষা আমাদের ভিক্তি। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই মুক্তি যুদ্ধ হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন এখনো চলছে। এখন ভাষার,ওপর যত কাজ হচ্ছে তাও আন্দোলনেই একটা অংশ। কিন্তু ভাষাকে আমরা যেভাবে মুল্যায়ন মর্যাদা দিতে চেয়েছি সেভাবে তা দিতে পারিনি। প্রচুর ভালো বই লেখা হচ্ছে। সেগুলো অনুবাদ করতে হবে। না হলে আমাদের শিল্প সাহিত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছাবেনা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে একটি ভালো বই বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা অনুবাদ করে নিচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হচ্ছেনা? আমাদের দৌড় বড়জোড় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত। সেখানকার পাঠকরা ও আমাদের দেশের বই পড়তে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। শুধু ইংরেজি কেন? জার্মান ভাষায়, ফ্রেঞ্চ ভাষায় কেন? অনুদিত হবেনা। যেমন সৈয়দ হকের বই জার্মান ভাষায় অনুদিত হয়েছে। সেখানে জার্মান ছেলেমেয়েরা বঙ্গবন্ধুর বীরগাথা এখন পড়ছে জার্মান ভাষায়। এই বইটা যদি অনুদিত না হলে তো তারা তখন পড়তে পারত,না।

এবার ৫৬০ টি প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশ নিয়েছে। মেলা উপলক্ষে প্রতি বছর ৪-৫ হাজার বই প্রকাশিত হয়। গতবছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত অধিকাংশ বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাজারো বইয়ের ভিড়ে পাঠকরা ভালো বই খুঁজে পাবেন কিভাবে? এর উত্তর আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। হাতে গোনা কয়েকটি নামজাদা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে সম্পাদনা পরিষদ আছে । বাদবাকি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো সম্পাদনা বা ফিল্টারিং ছাড়াই বই প্রকাশ করছে। এ নিয়ে প্রতিবছর অনেক কথা হয়। কিন্তু কাজের কাজ আর হয়না। পরিশেষে বলতে চাই এই সমস্ত বিষয়গুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং ভালো মানসম্পন্ন বইগুলো মেলায় আনার জন্য সকল সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই উদ্যোগ নিতে হবে সেই আশাবাদ করছি।

লেখকঃ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ( ডিইউজে সদস্য ) ও কাউন্সিলর বিএফইউজে-বাংলাদেশ। আহবায়কঃ জাতীয় জনতা ফোরাম এবং প্রকাশক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net