1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
খ্রিষ্টান পুলিশ কর্মকর্তার কুরআন বিতরণ করে প্রশংসায় ভাসছেন মাকারিয়াস দাস - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরায় জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি নোয়াখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন  ভাঙ্গুড়ায় ইট কিনার অগ্রিম ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর নামে মামলা,গ্রেফতার (১) কোম্পানীগঞ্জের রামপুর ইউনিয়নে গাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় যুবকের যুবকের মরদেহ উদ্ধার  এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না, ধারণা প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান শহীদ ফরহাদ হোসেন স্মৃতি চাকসু আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হলো চবিতে

খ্রিষ্টান পুলিশ কর্মকর্তার কুরআন বিতরণ করে প্রশংসায় ভাসছেন মাকারিয়াস দাস

মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী মানু,বিশেষ প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২
  • ৪৫১ বার

স্টাফ রিপোর্টারঃ মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান গ্রন্থ হলো আল-কুরআন। পবিত্র কুরআনের প্রতিটি বাণী শীতল করে মানুষের প্রাণ। তাইতো অন্য ধর্মালম্বী হয়েও মানুষের মাঝে আলো ছড়াতে পুলিশ কর্মকর্তা বেছে নিয়েছেন পবিত্র এই ধর্ম গ্রন্থ আল কুরআনকে। অবিশ্বাস্য হলেও একাজটি করে চলেছেন সাভার মডেল থানার খৃষ্টান ধর্মালম্বি পুলিশ কর্মকর্তা মাকারিয়াস দাস। এতে সাভারসহ আশেপাশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাকারিয়াস দাস গত তিন মাস থেকে মসজিদ, মাদ্রাসা ও দরিদ্রের মাঝে প্রায় দেড় শতাধিক মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআন বিতরণ করে চলেছেন। পবিত্র আল-কুরআন কোন শিক্ষার্থীর কাছে থাকলে সে ভাল মানুষ হয়ে গড়ে উঠবেন বলে তিনি মনে করেন।

শুক্রবার (১৩ মে) সকালে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাকারিয়াস দাশের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ছোট থেকে শুনে এসেছি কুরআন হলো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। যা আল্লার কাছ থেকে নাজিল হয়েছে। আমি চাই এই ধর্ম গ্রন্থের প্রতিটি বানী মানুষের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ার মার্ধ্যমে মানুষ ভাল ফলাফলের জন্য এগিয়ে আসুক, আল্লাহকে স্মরন করুক এটাই আমার কামনা।

পবিত্র আল-কুরআন বিতরন করার উদ্দেশ্য জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন- আমি যখন ইন্টারমেডিয়েটে পড়ি তখন থেকে টিউশনির মাধ্যমে অনেক কষ্টে টাকা উপার্জন করেছি। আমাদের দেশের মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ। অনেকেরই পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কেনার সামর্থ নেই তবে আমি সব সময় বিশ্বাস করি ভাল একটি গ্রন্থ যদি কোন শিক্ষার্থীর কাছে থাকে, অবশ্যই সে ভাল মানুষই হবে। এজন্যই এই পবিত্র গ্রন্থটিকেই বিতরনের জন্য বেছে নিয়েছি।

তিনি বলেন- আমি রমজান মাসেও কোরআন বিতরণ করি। আমাদের বড় দিন হলে খৃষ্টীয়দের মাঝে বাইবেল বিতরণ করি। হিন্দু ধর্মালম্বীদের পুজায় গীতা বিতরণ করারও চেষ্টা করি। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক মানুষ দিনমজুরির কাজ করছেন। তাদের সামর্থ হয় না একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কেনার। অনেক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও এমন রয়েছে । নতুন গ্রন্থ পেয়ে তারাও খুশি। এটা আমার রিদয়কে অত্যন্ত স্পর্শ করে। তাই আমি আমার অনুভূতি থেকে শত কষ্টের মধ্যেও চেষ্টা করি একটি পবিত্র গ্রন্থ বিতরণ করার।

পবিত্র কুরআন বিতরণের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন-পবিত্র আল-কুরআন আল্লাহর গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি যদি একটা মানুষের হাতে তুলে দিতে পারি, একজন খৃষ্টান হয়ে আমি বিশ্বাস করি সে মানুষটি ভাল হয়ে উঠবে। আমি বিশ্বাস করি সে মানুষটি একেবারে আলোর পথে চলবে। পাপাচার থেকে মুক্ত থাকবে। কারন আল্লাহকে আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি । তাঁকে আমরা ভালবাসি। গ্রন্থটি থাকলে তার যে আলো সে আলোর পথেই সে চলবে।

মাকারিয়াস দাস ছাত্রজীবন থেকেই টিউশনির টাকা দিয়ে এমন কাজ করে আসছেন। তিনি
পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার ফকিরগঞ্জ খ্রিস্টান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৮৪ সালের ১২ ই এপ্রিল প্রয়াত সিমন দাস ও খ্রিস্টিনা দাস দম্পতির ৪র্থতম সন্তান হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন উপহার পেয়ে আল-আমীন নামের একজন বলেন, আমি এই প্রথম ইসলামের প্রতি কোন বিধর্মীর ভালবাসা দেখেছি। শুধু তাই নয় তিনি প্রকৃত মানুষের ভূমিকা পালন করেছেন। আমি অনেক আনন্দিত এমন উপহার পেয়ে। এধারা অব্যাহত থাকুক আমি দোওয়াই করি।

তিনি প্রথমে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার পর আটোয়ারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে পরে মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রী কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বড়ভাইয়ের চাকুরীর সুবাদে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী শেষ করে ২০১০ সালের পহেলা জুলাই রাজশাহীর সারদা পুলিশ লাইনে থেকে নির্বাচিত হয়ে পুলিশ একাডেমিতে ট্রেনিং এর মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করেন।

দীর্ঘ ১ বছর ট্রেনিং শেষে উপ-পুলিশ পরিদর্শক পদে তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও থানায় শিক্ষানবিস হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তেজগাঁও থানা,
সদর কোট, তেজগাঁও রিজার্ভ , তেজগাঁও থানা,আদাবর থানা, শেরেবাংলা নগর থানা, তেজগাঁও জোন অফিস, তেজগাঁও থানায় দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সিআরও হতে গুলশান বিভাগ, গুলশান বিভাগের বনানী থানা ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনের পরে সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৫ ই মার্চ পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা রেঞ্জে যোগ দেন তিনি । ২০২১ সালের ২৩ মার্চ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হিসেবে ঢাকা রেঞ্জ অফিসে যোগদান করেন। একই দিন বিকেলে ঢাকা জেলায় পোস্টিং হয় তার।

২০২১ সালের ৩১ মার্চে পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) হিসেবে সাভার মডেল থানায় যোগদান করেন। পরে একই থানায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) হিসেবে বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net