https://www.dailyshamolbangla.com/
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ বাস্তবায়ন, শিক্ষক-চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিতকরণ এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধের আইনি জটিলতা নিরসনের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি (হোমেকশিস) বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. খলিলুর রহমান।
মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক জাতীয় ঐক্য জোটের আহ্বায়ক ডা. শাহজালাল আহমেদ। তিনি বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়ন এবং এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁরা সমবেত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ এ চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করছেন। অথচ দুঃখজনকভাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাঠামো এবং পেশাগত অধিকার এখনো নানা জটিলতা ও বৈষম্যের মুখোমুখি।
তিনি তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, প্রথমত, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩-এর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের গভর্নিং বডি ও নির্বাহী পরিষদ গঠন করে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমান রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তৃতীয়ত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের অযৌক্তিক অন্তর্ভুক্তি ও নিয়ন্ত্রণের জটিলতা নিরসন করতে হবে। ওষুধের উপাদান, ব্যবহার, প্রস্তুতপ্রণালি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃত নীতিমালা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিসংগত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
ডা. শাহজালাল আহমেদ আরও বলেন, তাঁরা সরকারের কাছে কোনো অনুগ্রহ চাইছেন না; বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার, আইনের বাস্তবায়ন এবং পেশাগত মর্যাদার স্বীকৃতি দাবি করছেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা ও পেশার সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভক্তি আমাদের দুর্বল করবে, আর ঐক্য ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ সুগম করবে।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি কোনো ব্যক্তির নয়, এটি সমগ্র হোমিওপ্যাথিক সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা, ডা. জাকির হোসেন, ডা. কাসেমুর রহমান, ডা. এনামুল হক, ডা. কাজী মাহবুবুর সেলিম, ডা. শামস, ডা. কবির, ডা. আবুল হাসনাত মো. আমিন, ডা. আল হাসান মোবারক (সদস্য সচিব, হোমিওপ্যাথিক ঐক্য জোট), ডা. মাহবুবুর রহমান ও ডা. আবু আক্তারসহ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ সময় ছাত্রনেতা নোমান, রুমি, আবদুল্লাহ, রাকিব ও অমিতসহ বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে আগত ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, এইচড্যাব এবং হোমিওপ্যাথিক জাতীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ দ্রুত বাস্তবায়ন, পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ওষুধের আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।