1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
কিশোরগঞ্জে পুলিশের সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত প্রতারিত প্রেমিকা - দৈনিক শ্যামল বাংলা
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
একদিন আগেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর : নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসের অনিয়মে ক্ষুব্ধ ভূমি প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুরে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, আটক ৩  নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাকে গাড়িতে তুলে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই  সোনারগাঁয়ে চৈতী কম্পোজিট কে পৌনে ১ কোটি টাকা জরিমানা জাতীয় নবম বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন, দুই বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের সংঘর্ষ, আহত ২ শেরপুরে ৫০ লাখ টাকার চেক মামলায় ইদ্রিস কোম্পানির সাবিক ডিএমডির ১ বছরের কারাদন্ড বাসসের নেতৃত্বে কাদের গনি চৌধুরী, সিএমইউজের অভিনন্দন চোরাচালান, মাদক ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাড়ৈখালিতে এতিম শিশুদের ওপর নির্যাতন: মিষ্টি জামালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জে পুলিশের সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত প্রতারিত প্রেমিকা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০
  • ৩১৩ বার

তন্ময় আলমগীর, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের রাকিবকে ভালোবেসে ঘর বাঁধতে চেয়েছেন খুলনার মেয়ে আসমা (ছদ্মনাম)। সরল বিশ্বাসে তাকে ভালোবেসে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ভালোবাসা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

প্রতারক প্রেমিকের ফাঁদে পড়ে আসমাকে নানা লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। অধিকার আদায়ে সবকিছু ছেড়ে ছুটে যান কিশোরগঞ্জে। তবুও দেখা পাননি প্রেমিকের। পালিয়ে গেছেন প্রেমিক রাকিবের মা-বাবাও। অবশেষে পুলিশের আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে। সেখানেও মেলেনি সহযোগিতা। থানা থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। গভীর রাতে ফেলে আসা হয় ঢাকায়।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে কাটাতে হয়েছে চারটি ভয়াল রাত। অবশেষে আইনি সহায়তা পেতে পুলিশি সহযোগিতায় তাকে ঢাকার গুলশান থানায় পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। প্রথম দেখাতেই রাকিবুল হাসানের প্রেমে পড়েন খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার সিএনবি কলোনী এলাকার আসমা। প্রেমিক রাকিব কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কামালিয়ারচর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার তিতুমীর কলেজের ছাত্র।

আসমা বিজেএমসি খুলনা জোনের কৃতি ক্রীড়াবিদ। হাই জাম্পের একজন খেলোয়াড়। বাবা-মা হারা আসমা বড় বোনের বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তিনি।

ইমুতে কলেজছাত্র রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয়। প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। রাকিবের ডাকে খুলনা থেকে কয়েকবার ঢাকায় আসেন আসমা। রাকিবও খুলনায় বেড়াতে যান প্রেমিকার বাড়িতে। সিদ্ধান্ত হয় বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন দুইজন। বিয়ের প্রলোভনে ঢাকায় তাদের শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বিয়ের জন্য চাপ দিতেই বেরিয়ে আসে রাকিবের আসল রূপ। কয়েক মাস ধরে আসমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রাকিব। বারবার চেষ্টা করেও রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না আসমা।

খবর পান প্রেমিক রাকিব বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ৭ জুন কিশোরগঞ্জে রাকিবের বাড়িতে চলে আসেন আসমা। খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেমিক ও তার বাবা-মা। সবশেষে রাকিবদের তালা দেয়া ঘরের বারান্দায় অবস্থান নেন আসমা।

চরম বিপাকে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। সহযোগিতা চান কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদরের বিন্নাটি পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বাবুলের।

চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বাবুল বলেন, মেয়েটির বিপদের কথা শুনে আমি রাকিবের বাড়িতে গিয়ে তাদের ঘরে তালা দেখতে পাই। বিষয়টি কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানাই।

আসমা বলেন, আমি তাকে পাগলের মতো ভালোবেসেছি। নিজের সাধ্যমতো তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। তাকে বিশ্বাস করেছি কিন্তু কথা রাখেনি। বিয়ে করবে বলে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেছে রাকিব। এরপরই কেটে পড়ল। বাধ্য হয়ে করোনার মৃত্যুভয় মাথায় নিয়ে কিশোরগঞ্জে আসি।

তিনি বলেন, ৮ জুন ঘটনাস্থলে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে চলে যায় পুলিশ। কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ৯ জুন বিকেলে চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আসাদকে দিয়ে আমাকে কিশোরগঞ্জ থানায় পাঠান। আমি প্রতারণার বিষয়টি বর্ণনা করে রাকিবুলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলি। কিন্তু থানার ওসি আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন।

আসমার ভাষ্য, ‘ওসির কথামতো থানা ক্যাম্পাসে লিচু গাছের তলায় বসে অপেক্ষা করছিলাম। সন্ধ্যায় রাকিবের মামা ও আরও দুই সহযোগী রাকিবের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে আমাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যায়। গভীর রাতে আমাকে ঢাকার সায়েদাবাদে নামিয়ে দেয়া হয়। সারারাত সেখানে অপেক্ষার পর ১০ জুন দুপুরে আবারও কিশোরগঞ্জ এসে রাকিবের বাড়িতে উঠি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে ওই দিন (১০ জুন) আমাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ওই দিন কোন ধারায় মামলা করা যায়- এ নিয়ে সার্কেল এসপির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাই মেয়েটিকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেছি। পরে আর তাকে খুঁজে পাইনি। পরে গ্রামবাসীর কাছে খবর পেয়ে রাকিবের বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করি।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি শোনার পর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

মাসুদ অনোয়ার বলেন, মেয়েটির সঙ্গে প্রতারণা করেছে রাকিবুল। বিয়ের কথা বলে ঢাকায় তাকে ধর্ষণ করেছে। ঘটনাস্থল যেহেতু ঢাকার গুলশান এলাকার, তাই কিশোরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ রেখে মেয়েটিকে ঢাকার গুলশান থানায় পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে থানা পুলিশের এসআই আসাদের নেতৃত্বে পুলিশের গাড়িতে করে মেয়েটিকে ঢাকার গুলশান থানায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, আসমার বাড়ি আসার খবরে তিনদিন পালিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার নিজেদের বাড়িতে ফেরেন রাকিবের বাবা-মা।

তারা জানান, মেয়েটি বাড়িতে চলে আসায় ঝামেলা এড়াতে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম। ছেলের প্রেমের বিষয়টি আমরা জানতাম না। আমরা মেয়েটিকে কোনোদিন দেখিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net