ঢাকা   ০৯:৪১:১৫ পিএম, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালী সদর কোর্ট বার্ষিক পরিদর্শন করলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি  কোম্পানীগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিশাল সমাবেশ প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট: ইসি সচিব নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সহায়তায় হাটহাজারীতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা পাড়া পদির্শনে যান ইউএনও আবদুর রহমান চন্দনাইশে জ্ঞানের আলোর সন্ধানে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের হাঁটতে হয় প্রায় ২ ঘণ্টা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার কবিরহাটে জামায়াতে ইসলামীর সীরাতুন্নবী মাহফিল অনুষ্ঠিত: রাসূলের আদর্শ অনুসরণে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান কোম্পানীগঞ্জে নবআবিষ্কৃত সুন্দলপুর সাউথ-১ গ্যাসক্ষেত্র পরিদর্শনে এমপি ফখরুল ইসলাম

বাঁশখালীতে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৯১ বার
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল ডেপুটিঘোনা গ্রামের সাথে শিলকূপ ইউনিয়নের পশ্চিম মনকিচর গ্রামের সংযোগ জলকদরের চিবাখালের উপর নির্মিত ‘তক্তারপোল’ নামে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি ২টি গ্রামের দশ সহস্রাধিক মানুষের দূর্ভোগের কারণ। এ ব্রীজ নির্মানের দাবি ছিলো দীর্ঘদিনের। কিন্তু এলাকাবাসীর এ দাবির প্রতি নজর দেননি কোনো জনপ্রতিনিধি। বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি বা সরকারি দপ্তরে বার বার ধর্ণা দিয়েও মেলেনি সমাধান। এ অবস্থায় গ্রামবাসীরা সম্মিলিত ভাবে নিজেদের উদ্যোগে শুরু করেছেন ব্রীজটির নির্মাণ কাজ।

এলাকারবাসীরা বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন আসলে বিভিন্ন মিথ্যা প্রতিশ্রতি দিয়ে সহজ সরল লোকজনের নিকট থেকে ভোট আদায় করে থাকেন জনপ্রতিনিধিরা। পরে আর কোন খবর রাখেনা তারা। যার কারণে স্বাধিনতার পর থেকে অদ্যবধি সেতুটি বঞ্চিত করেছে দুই ইউনিয়নের দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগের মতো সেতুবন্ধনকে।

উপজেলার শিলকূপ ইউনিয়নের মনকিচর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা ১ নম্বর ওয়ার্ড সংযোগ চিবাখালের উপর এ ব্রীজ নির্মানের কাজ চলছে। ব্রীজটির দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে ৬ ফুট। চলতি বছরের ডিসেম্বরেরর প্রথম থেকে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গ্রামবাসীদের ধারণা আগামী জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ ব্রীজটি নির্মিত হলে চাম্বল ও শিলকূপ ইউনিয়নের দুই ওয়ার্ডের প্রায় ১০ হাজারের অধিক জনগোষ্টির দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে। চাম্বল চিবাখালের উপর নির্মিত ব্রীজ দিয়ে পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা এলাকার হাজীর বাড়ী, অছিয়র রহমানের বাড়ী, মইত্তার বাড়ী, চৌধুরী বাড়ী, রমজান আলী বাড়ী, অপর দিকে মনকিচর এলাকার মাষ্টার বাড়ী, আফিয়া বাপের বাড়ী, এয়াকুব আলী বাড়ী, নুরুল হক ও দিলদার মেস্ত্রি বাড়ীর কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের ব্রীজটি নির্মাণ হলেই জনম দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে দুই গ্রামের বাসিন্দা। তাছাড়া এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন যাতায়ত করে পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়, মনকিচর এমদাদুল উলুম মাদরাসা, মনকিচর দারুল হিকমা মাদরাসা, বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্টানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চাম্বলের বাংলাবাজারে অনেক মৎস্য ব্যবসায়ী এ ব্রীজ দিয়ে পারাপার করে থাকে। উপজেলার সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়তের জন্য ওই এলাকার লোকজনের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রীজটি। এই জায়গায় ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এলাকাবাসী জানান, গত ১০ বছর ধরে তারা চিবাখালের উপর ওই জায়গায় একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য বিভিন্ন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমনকি স্থানীয় সাংসদের কাছে তারা এ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া কয়েকবার আবেদন করেছেন উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়েও। কিন্তু তাতেও কোন ফল জোটেনি। এ কাজে সরকারি-বেসরকারি কোন সহায়তা না পেয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরা স্বেচ্ছায় গ্রামে গ্রামে টাকা তুলে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। চলাচলের পথে অনেকেই বাঁশের সাকো থেকে খালের মধ্যে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এমনকি অনেকের মোবাইল ফোনও পড়ে গেছে নদীর মধ্যে। এ অবস্থায় গত দুই মাস আগে এলাকাবাসী নিজেদের টাকায় ওই জায়গায় একটি সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেন।

ব্রীজ নির্মানের উদ্যোক্তাদের কয়েকজন বলেন,
প্রায় কয়েক সপ্তাহ আগে এ ব্যাপারে এলাকাবাসীকে নিয়ে একটি সভা করি। ওই সভায় নিজেদের টাকায় ব্রীজটি নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সভায় গ্রামের বিত্তশালীসহ সর্বস্তরের লোকদের কাছে ব্রীজ নির্মানের জন্য আর্থিক সাহায্য চাওয়া হয়। ইতিমধ্যে ৩০০ জন গ্রামবাসীর মাধ্যমে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা সংগ্রহ হয়। এ অবস্থায় ডিসেম্বরের শুরু থেকে ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। বালু, রড, সিমেন্ট দিয়ে নদীর ওপর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে বাজেট কম হওয়ায় ব্রীজের গ্রেডবিম নির্মাণ করে উপরে তক্তা বিছানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি