https://www.dailyshamolbangla.com/
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাগপা সহ-সভাপতি রাসেদ প্রধান বলেন আমাদের সরকার বাহাদুর করোনা ভাইরাস নিয়ে এখন পর্যন্ত কী কোনো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত বৈঠক করেছে? না, করে নাই। তাহলে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কীভাবে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের গাইডলাইন দেবে? ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বিভাগ কীভাবে তাদের চেকআপ করবে? আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের জন্য কোনো সুরক্ষা ইকুইপমেন্টস সাপ্লাই দিয়েছে? তাহলে ডাক্তার-নার্সরা কীভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সেবা করবে?
আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কী কোনো সভা করেছে, কীভাবে বাজারের জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণ করবে? আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে তারা এই দুর্যোগের সময়ে নিজেদের আত্মরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে? আমাদের জনসাধারণকে কী সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যে কীভাবে তারা হোম কোয়ারেন্টাইন করবে?
আপনি স্কুল কলেজ ছুটি দিলেন কিন্তু ছুটি পেয়ে ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে বাড়িতে থাকবে, তার কী কোনো গাইডলাইন সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে?
আমাদের দেশের এখনো শপিংমলগুলো খোলা। মানুষজন নির্ভয়ে কেনাকাটা করছে। মানুষজন সিনেমা দেখতে যাচ্ছে। কারো জন্য সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনা নাই। তাহলে এই রাষ্ট্র কী এই দুর্যোগময় সময়েও স্রেফ ভূতে চালাচ্ছে? সরকার বাহাদুরের তাহলে কাজটা কী? শুধু মুজিব বর্ষ নিয়ে রাতদিন গলদঘর্ম করলেই করোনা আমাদের ছেড়ে দেবে তাই না?
জরুরিভিত্তিতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত বৈঠক ডাকুন। সেখানে প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টের কী কী কাজ হবে, তা যথাযথভাবে ভাগ করে দিন। বিদেশ থেকে যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশে ঢুকেছে, তারা কোথায় কোথায় কার কার সাথে ঘুরেছে, মিশেছে, তা আইডেনটিফাই করুন, তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করুন। ইতোমধ্যে যে সকল জেলায় এই ভাইরাস ছড়িয়েছে, সেগুলোকে লকডাউন করুন।
জরুরিভিত্তিতে কেবল ঔষধের দোকান, খাবারের দোকান, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, ব্যাংক এবং হাসপাতাল খোলা রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করুন। যাতে বাজারে কেউ জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর দুঃসাহস না পায়। বাকি সবকিছু বন্ধ করে দিন। জরুরিভিত্তিতে দুই সপ্তাহ সবকিছু লকডাউন করলে খুব একটা ক্ষতি হবে না। কিন্তু সবকিছু খোলা রেখে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করা সম্পূর্ণ বৃথা চেষ্টা হবে।
চীন উহানে যে কৌশল নিয়েছিল, সে ধরনের কঠোর কৌশল নিতে হবে। আমাদের মিডিয়া হাউজগুলো সংবাদ কর্মীদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা না দিয়েই সংবাদ সংগ্রহের জন্য এখানে সেখানে পাঠাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। করোনা ভাইরাস ধনী গরীব, উকিল, ব্যারিস্টার, রিক্সাওয়ালা, বড়লোক, মন্ত্রী, সিপাহশালার কাউরে চেনে না। করোনা ভাইরাস চেনে কেবল হিউম্যান বডি। করোনার কেবল একটা হিউম্যান বডির মত হোস্ট দরকার। আর কিছু না। করোনা কারো সামাজিক স্টাটাস দেখে তার কাছে ভিড়বে না, এমন কোনো প্রমাণ নাই।
চীনের উহানে করোনা ভাইরাস ধরা পরে গত ডিসেম্বর মাসে। ২১ জানুয়ারি থেকে গোটা বিশ্ব করোনা নিয়ে সতর্ক। আর বাংলাদেশ প্রায় আড়াই মাস সময় পেলেও করোনা ভাইরাস নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো জরুরি বৈঠক করেনি। ভাবা যায় আমরা কত বড় বেহায়া একটা রাষ্ট্র? আর কত বড় অদূরদর্শী এই দেশের সরকার? তাহলে এই রাষ্ট্র এই করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করবে কীভাবে?
কোনো সিঙ্গেল মানুষ কিংবা কোনো সিঙ্গেল পরিবার এককভাবে হোম কোয়ারেন্টান করে কোনো ফল পাবে না। যদি না গোটা দেশের সকল মানুষ একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন না করে। রোগতত্ত্ব বিভাগ দিয়ে প্রেস কনফারেন্স করিয়ে দায়িত্ব শেষ করানোর নাম সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বে অবহেলা। একটি সরকার এমন দুর্যোগ মুহূর্তে এভাবে দায়িত্বে অবহেলা করতে পারে না।