ঢাকা   ০১:১৩:০৩ এএম, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের যারা গণহত্যা চালিয়েছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগুরার শ্রীপুরে স্মারক গ্রন্থ ‘স্বপ্ন সারথি’র মোড়ক উন্মোচন এবং বৃক্ষরোপণ মাগুরায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের শপথ নিলেন অধ্যাপক সাইদ আহমাদ বাচ্চু    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২) এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত পরীমণির সঙ্গে কি ঘটেছিল জানালেন সেই সাংবাদিক কুমিল্লার গাংচরে বহুতল ভবনে ফাটলের পর হেলে পড়েছে, মালিকের দাবি ইঁদুরের কাণ্ড মাগুরায় নকল কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা মাগুরা-১ আসনের এম পি মনোয়ার খানের দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত কুমিল্লায় শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন, থাকছে ফ্রি পার্ক রাইড উপভোগের সুযোগ

আমাকে ক্ষমা কর, পরকালে দেখা করার চেষ্টা করব মা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪০৪ বার
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

অলিউল্লাহ নোমান :
মা জননীর সাথে দেখা হয়নি অনেক দিন। অফিসের কাজে নানা বিষয়ে ব্যস্ততা। সে বছর কোরবানীর ঈদের পর আর বাড়ি যাওয়া হয়নি তখনো। যাব যাব বলে ফুসরত পাইনি। এর মাঝেই ডিসেম্বর মাস চলে আসে। আরো কয়েকদিন আগে থেকেই একটা সিরিজ রিপোর্ট লেখার অনুসন্ধানে দেশের কয়েকটি জেলার সীমান্ত এলাকা ঘুরতে হয়েছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে রেডি স্কাইপ স্ক্যান্ডল। এটাও সিরিজ রিপোর্ট হবে। চাপা উত্তেজনা পুরো নভেম্বর মাস জুড়েই। অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে অফিসের একটি রুমে বসে লিখতে হচ্ছে। মাত্র মাস দুয়েক আগে উপদেষ্টা সম্পাদক শ্রদ্ধেয় আতাউস সামাদ স্যার ইন্তেকাল করেছেন। তাই তার জন্য বরাদ্দ রুমটি তখনো খালি। আমার জন্য সাময়িক বরাদ্দ হয় এ রুমটি। রেকর্ড করা কনভারসেশল এখানে বসেই দিনে রাতে লিখছি। একটি প্যানড্রাইভে স্কাইপের কথোপকথনের রেকর্ড বেশ কিছুদিন আগে থেকেই সোরস আমাকে হস্তান্তর করে। এটি তখন আমার নিকট মিলিয়ন ডলারের রিপোর্ট।
সম্পাদক মহোদয়কে দিলাম প্রথম। তিনি প্রথমে শুনলেন। বললেন কোন কথা নেই। এটা যেন আর কেউ জানতে না পারেন। আতাউস সামাদ স্যারের রুমটি বরাদ্দ করে দিলেন গোপনীয়তা রক্ষা করে লেখার জন্য । অফিসে দ্বিতীয় কেউ জানেন না ওখানে বসে আমি কি লিখছি।
লেখা শেষে অপেক্ষা, কবে থেকে প্রকাশ হবে!
এরমধ্যে নানা ঘটনা ঘটে যায়। অবশেষে ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৮টার পর অপেক্ষার পালা শেষ হয়। রিপোর্ট প্রকাশের জন্য চুড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেল।
প্রথম দিনের শিরোনাম বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের একটি উক্তি। ‘গভর্ণমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়’!
এরপর একে একে সিরিজ চলতে থাকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।ওইদিন হাইকোর্ট থেকে একটি আদেশ জারি হয়। শামসুদ্দিন মানিক এ আদেশ জারি করেন। স্কাইপের কথোপকথন প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি। আমাদের প্রতি রুল জারি করে তার আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য একটি দিন ধার্য করে দেন।
সেদিন রাতেই ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয় সিএমএম আদালতে। শুরু হল নতুন উত্তেজনা। ১৭ ডিসেম্বর (২০১২) সকালে ট্রাইব্যুনাল একটি নির্দেশ দেয় সরকারের প্রতি। এতে স্কাইপ স্ক্যান্ডাল কিভাবে রেকর্ড হল সেটা খুঁজে বের করতে বলা হয় সরকারকে।
১৭ ডিসেম্বর বেলা ২ টার পর সম্পাদক মহোদয় আমাকে তার রুমে ডাকলেন। ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন দেশের ভিসা আছে কিনা পাসপোর্টে! বললাম ইউকের ভিসা আছে। তবে মেয়াদ শেষ হতে মাস খানেক বাকি। বললেন, তোমাকে একটু লন্ডন যেতে হবে ইমারজেন্সি। ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠল। জানতে চাইলাম কবে যেতে হবে? বললেন আজই যাও। এখনি টিকেটে র ব্যবস্থ করা হচ্ছে। তবে এটা যেন কেউ না জানতে পারে। শুধু আমরা দুইজনে যেন সীমাবদ্ধতা থাকে।
এ কথা গুলোর অবতারনা করলাম বিশেষ কারনে।প্রায় দুইমাস পরিবারের সাথেও তেমন একটা সময় দেয়ার সুযোগ হয়নি। ৯ ডিসেম্বরের পর থেকে অফিসেই নিবাস। মাকে গ্রামের বাড়িতে ফোন করে রীতিমত খোঁজ নেয়ার ফুসরতও পাইনি।
স্ত্রীকে যখন ফোনে জানালাম আজ সন্ধ্যায় লন্ডন যেতে হচ্ছে। শুনে চমকে উঠেলন। বল কি! তাইলে বাসায় আসবে না তুমি! বললাম ছোট ভাইকে দিয়ে পাসপোর্টটা একটু অফিসে পাঠাও।
মাকে ফোন করলাম এয়ারপোরট থেকে বিমানে উঠার আগে। মা শুনে অবাক। হঠাৎ করে লন্ডন কেন? বাড়িতে আসলে না যে অনেক দিন হয় গেল! যাওয়ার আগে তো একবার বাড়ি ঘুরে যেতে পারতে বাবা। বললাম, আজই সিদ্ধান্ত হয়েছে লন্ডন যাওয়ার বিষয়ে। তাই আগে জানানো হয়নি। কবে ফিরব জানতে চাইলেন। বললাম চলে আসব সপ্তাহ ২/৩ পর।
অথচ আমি নিজেই জানিনা কেন যাচ্ছি কবে ফিরছি!
লন্ডনে আসার পর থেকে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মা’র সাথে কথা বলতাম। যখন তিনি জানলেন আমার দেশে ফেরা অনিশ্চিত। তখন অনেক কাঁদলেন।
২০১৪ সালের ৭ রমজান। প্রতিদিনের ন্যায় ঘুম থেকে উঠে মাকে ফোন দেই। সেদিন ফোনটা ধরেন ছোট বোন। জানালেন সেহরীর পর থেকে মা হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করছেন। এখন একটু ঘুমাচ্ছেন। পরে আবার ফোন দিও। ততক্ষনে ঘুম থেকে উঠলে কথা বলতে পারবে তুমি।
ঘন্টা দুয়েক পর আবার ফোন দিলাম। বলা হয় শরীরটা আগের মতই। একটু অস্থিরতা বেড়েছে। এর কয়েক মিনিট পর এক আত্মীয় ফোন দিয়ে জানালেন মা কয়েক মিনিট আগে ইন্তেকাল করেছেন।
আজ ৭ রমজান। মা’ ইন্তেকাল দিবস। মা আমাকে ক্ষমা করো। পরকালে দেখা করার চেষ্টা করবো। সত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল তোমার ছেলে। তাই শেষ বিদায়েও পাশে থাকতে পারেনি!
আল্লাহ, তোমার হাবিব মুহাম্মদ স: বলেছেন সন্তানের দোয়া মা-বাবার জন্য কবুল হয়। রমজানের পবিত্র দিনে দোয়া করছি। আল্লাহ মা ও বাবাকে জান্নাতের মেহমান বানাও। বাড়ির পাশে পাশাপাশি চির শায়িত মা ও বাবার কবরকে জান্নাত বানিয়ে দাও।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি