ঢাকা   ০১:২৮:৪২ পিএম, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
বর্ণিল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক রেডিওলজি দিবস পালি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  চন্দনাইশে নানা আয়োজনে সাংসদ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত চন্দনাইশে উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল মাটিরাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশী নিহত মাগুরায় ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  আনোয়ারা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সাথে, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

খেলনা তৈরী যাদের জীবন জীবিকা করোনা ভাইরাসের কারণে গাইবান্ধায় কুম্ভকাররা দুর্ভোগের কবলে পড়েছে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩৮৩ বার
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
করোনা ভাইরাসের কারণে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার হাটে-মাঠে-ঘাটে ও নদীর পাড়ে প্রতিবছর যে সমস্ত নির্ধারিত চৈতালি, বৈশাখী ও নববর্ষের মেলা বসতো এবার নিষেধাজ্ঞার কারণে কোথাও কোন মেলা বসেনি। ফলে মেলা উদযাপিত না হওয়ায় খেলনা তৈরী যাদের জীবন জীবিকা সেইসব মৃত শিল্পী কুম্ভকার পরিবারগুলো এখন দুর্ভোগের কবলে পড়েছে। তারা বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত মাটি, শোলা, তালপাতাসহ বিভিন্ন উপকরণের যে সমস্ত খেলনা ইতোমধ্যে তৈরী করেছিল সেগুলো বিক্রি করতে না পারায় তারা এখন অর্থাভাবে ঋণ নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
প্রসঙ্গত উলে¬খ্য যে, গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য একান্ত নিজস্ব কৃষ্টি এই গ্রামীণ বৈশাখী মেলা। যেখানে পল¬ীর চারু ও কারু শিল্প পণ্যের সমারোহু ঘটে, বেচা কেনা হয়। গাইবান্ধার এইসব মেলার পণ্য সম্ভারের আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে। গাঁয়ের নিয়মিত হাট-বাজারগুলোতে এসব পণ্য পাওয়া যায় না। শুধু বৈশাখী মেলাতেই মেলার বিশেষ চিহ্নিত কিছু পণ্যের আমদানী হয়। মেলার বিচিত্র বর্ণের এসব চারু কারু পণ্য কিনতেই নানা বয়সের মানুষের আগমনে মুখর হয় মেলাগুলো।
কিন্তু চারু কারু পণ্যের পাশাপাশি মাটি, শোলা, বাঁশ ও তালপাতার তৈরী নানা খেলনা মেলাগুলোর অন্যতম আকর্ষণ। গাইবান্ধায় এসব খেলনা তৈরী করে গাঁয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পেশাদার মৃৎশিল্পী ও খেলনা শিল্পীরা। জেলার সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ও খোলাহাটী ইউনিয়নের পালপাড়া, শিবপুর, কলাকোপা, ধুতিচোরা, ফুলছড়ির রসুলপুর, কঞ্চিপাড়া, সাঘাটার ঝাড়াবর্ষা, পুটিমারী, সুন্দরগঞ্জের বেলকা, পাঁচপীর, ধুবনী, চন্ডিপুর, কঞ্চিবাড়ী, শ্রীপুর, ধর্মপুর, সাদুল্যাপুরের রসুলপুর, দামোদরপুর, পলাশবাড়ীর হিজলগাড়ী এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর, আরজিশাহপুর ও শক্তিপুর গ্রামের পেশাদার মৃৎশিল্পীরা নানা খেলনা তৈরীর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। নানা প্রতিকূলতা সত্বেও তারা এখনও এই পৈত্রিক পেশাকে আঁকড়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
শুধু মেলাতেই এসব পণ্যের বেচা কেনা বেশী হয় বলেই এদের প্রকৃত মৌসুম হচ্ছে ফাল্গুনÑজ্যৈষ্ঠ ৪ মাস এবং আশ্বিন, অগ্রহায়ণ ও পৌষ এই ৩ মাস। অন্য সময়ে এসব জিনিষের চাহিদা যেমন থাকে না। তেমনি বর্ষা মৌসুমে বান-বন্যার সময়টিতে এসব জিনিষ তৈরী করাও সম্ভব হয় না বলে জানালেন মৃত শিল্পীদের সুত্রে জানা গেছে।
মেলার মৌসুমের এসব খেলনার চাহিদা পুরণে আগে থেকেই খেলনা বানিয়ে মজুত করে রাখতে হয়। কিন্তু এবার কোথাও নববর্ষ, বৈশাখী ও চৈতালী মেলা না হওয়ায় ওই সমস্ত তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। এ কারণে করোনা ভাইরাসের দূর্যোগের সময়টিতে এই গাইবান্ধার মৃৎ শিল্পী পরিবারগুলো তাদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার আবেদন জানিয়েছে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি