1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
এপ্রিলের বেতন বিলম্বের জটিলতা হবে বড় ইস্যু পোশাক খাতে অস্থিরতা বাড়ার শঙ্কা - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিকে অভিনন্দন: এলাকায় মিষ্টি বিতরণ  আনোয়ারায় মাদক সেবনের দায়ে তিনজন কারাদণ্ড মাগুরায় ভূতুরে বিল! পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত! বিদ্যুৎমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ মাগুরায় প্রতিবন্ধী ও স্বামীহারা সাহিদা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত! অর্থাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন – জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম  নবীগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি প্রদান  মাগুরায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত  দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতি রাশিয়ার বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬ মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন: কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন 

এপ্রিলের বেতন বিলম্বের জটিলতা হবে বড় ইস্যু পোশাক খাতে অস্থিরতা বাড়ার শঙ্কা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ৪৮২ বার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধসহ আন্দোলন বিক্ষোভে শামিল হচ্ছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা।

এপ্রিল মাসের বেতন তো দূরের কথা, অনেকে এখনও মার্চ মাসের বেতন পাননি। এর মধ্যে কমপ্লায়েন্স প্রতিপালনের শর্ত হিসেবে মাসের সাত কার্যদিবসের মধ্যে আগের মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার কথা।

কিন্তু বাস্তবতা হল, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্যাকেজের অর্থ কোনো গার্মেন্ট মালিক বা শ্রমিক পাননি।

ইতোমধ্যে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পার হয়েছে। তাই শ্রমিক-কর্মচারীদের সময়মতো বেতন-ভাতা দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন বেশির ভাগ শিল্প মালিক। এর মধ্যে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে সাব-কন্ট্রাক্টে থাকা প্রায় ৪ হাজার কারখানা।

এসব কারখানা বিজিএমইএ সদস্য নয়। ফলে ঋণ প্যাকেজ থেকে এখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ নেই। এই যখন অবস্থা তখন ঈদের আগে বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বড় পরিসরে রাস্তায় গড়াতে পারে।

এমন শঙ্কার বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্মেন্ট সেক্টরের ১০ জন নেতা শ্রমিকদের উসকে দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছেন।

এদিকে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত গার্মেন্টের পরিসংখ্যান নিয়েও রয়েছে নানান বিভ্রান্তি। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে মুখে যা বলা হয়, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

এছাড়া শিল্প পুলিশের ডাটার সঙ্গে রয়েছে বিস্তর ফারাক। অনেকে মনে করেন, গার্মেন্ট কারখানা ও শ্রমিক সংখ্যার প্রকৃত তথ্য নিয়ে শুরু থেকেই এক ধরনের লুকোচুরি করা হয়। করোনা সংকটের উত্তাপে যার গোমর এবার অনেকটা ফাঁস হতে চলেছে।

তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। কেননা যে কোনো সংকট ভালোভাবে মোকাবেলা করতে হলে সরকারের কাছে কারখানা ও শ্রমিক সংখ্যা নিয়ে সঠিক তথ্য থাকাটা জরুরি।

শিল্প পুলিশের তথ্য মতে, দেশে মোট ৭ হাজার ৬০২টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৮৮২টি।

যদিও বিজিএমইএ’র ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য মতে, সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৪ হাজার ৩৭৬টি। তবে সংগঠনটি বলছে, এসবের মধ্যে সচল আছে ২ হাজার ২৭৪টি।

অন্যদিকে বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানা রয়েছে এক হাজার ১০১টি, বিটিএমএ’র কারখানা ৩৮৯টি এবং বেপজার ভেতরে রয়েছে ৩৬৪টি। কিন্তু এর বাইরে আরও ৩ হাজার ৮৬৬টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা সাধারণত বড় কারখানা থেকে অর্ডার নিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে।

কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বিদেশি ক্রেতা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাব-কন্ট্রাক্টিং অনুমোদন না করলেও গার্মেন্ট মালিকরা নিজেদের স্বার্থে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করায়, যা নিয়মবহির্ভূত।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বুধবার পর্যন্ত বিজিএমইএ’র ১ হাজার ৮৮২টি কারখানার মধ্যে এক হাজার ২৩২টি কারখানা খুলেছে। কিন্তু সাব-কন্ট্রাক্ট বা বিজিএমইএ-বিকেএমইএ’র সদস্যবহির্ভূত ৩ হাজার ৮৬৬টি কারখানার মধ্যে খুলেছে মাত্র এক হাজার ২৮৭টি।

বাকি আড়াই হাজারের বেশি কারখানা বন্ধ আছে। অর্থাৎ অর্ডার না থাকায় এসব কারখানা খোলেনি মালিকরা, তাই শ্রমিকরাও বেকার বসে আছে।

এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোনে কথা বলা সম্ভব না হওয়ায় ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। এর জবাবে বিজিএমইএ’র জনসংযোগ কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম জানান, ‘শুধু সদস্যভুক্ত কারখানাগুলো নিয়ে বিজিএমইএ কাজ করে। এর বাইরে অন্য কারখানার সমস্যা দেখার দায়িত্ব বিজিএমইএ’র নয়।’

কেসস্টাডি : নারায়ণগঞ্জের বিসিকে অবস্থিত স্কাইলাইন নিট ফ্যাশন একটি রফতানিমুখী পোশাক কারখানা। কিন্তু কারখানাটি বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ’র সদস্য নয় বিধায় কারখানার মালিক সরকার ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারছে না।

ধারদেনা করে ফেব্র“য়ারি মাসে শ্রমিকদের বেতন দিয়েছেন। মার্চ-এপ্রিলের বেতন কীভাবে দেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে মালিকের।

এ কারখানার মালিক মিশেল শেখ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, তিনি সিএন্ডএফের মাধ্যমে ফিলিপাইনে পোশাক রফতানি করেন। কিন্তু করোনা সংকটে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বেকায়দায় পড়েছেন। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না। আর সরকারের কাছ থেকেও কোনো সহায়তা পাননি। তিনি জানান, শুধু নারায়ণগঞ্জের বিসিকে এ ধরনের ২৫টি কারখানা আছে। যাতে ৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে। প্রত্যেক মালিকই দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

এ তো গেল ছোট কারখানার কথা। সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা কারখানাগুলো এপ্রিলের বেতন-ভাতা দিতে পারেনি। উপরন্তু বেড়েছে করোনার প্রকোপ। এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাই ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ ছোট ও সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা কারখানা রফতানিমুখী না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তহবিল থেকে এ ধরনের কারখানা সহায়তা পাবে না। আর ঋণ সহায়তা না পেলে শ্রমিকদের এপ্রিলের বেতন দিতে পারবে না। ইতোমধ্যেই শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কার কথা জানিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সরকারের উচ্চ মহলে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে গার্মেন্ট সেক্টরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারেন অন্তত ১০ জন নেতা। এদের নজরদারিতে আনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুপারিশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

বিকেএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে পড়ে বিজিএমইএ-বিকেএমইএ’র অনেক সদস্যই তহবিল থেকে টাকা পাচ্ছে না। এই দুই সংগঠনের বাইরে যেসব কারখানা আছে তারা শ্রমিকদের নিয়ে বিপদে পড়বে, বেতন দিতে পারবে না। তখন শ্রমিকরা রাস্তায় নামলে সবাই বিজিএমইএ-বিকএমইএ-কে দোষারোপ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net