1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
নির্মম নির্যাতনের শিকার মমিনুল ও তার মাকে দেখতে গিয়ে যা বললেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন  ভাঙ্গুড়ায় ইট কিনার অগ্রিম ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর নামে মামলা,গ্রেফতার (১) কোম্পানীগঞ্জের রামপুর ইউনিয়নে গাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় যুবকের যুবকের মরদেহ উদ্ধার  এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না, ধারণা প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান শহীদ ফরহাদ হোসেন স্মৃতি চাকসু আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হলো চবিতে পোড়া তেলে সাঙ্গু নদী দূষণের অভিযোগ, কৃষি ও মৎস্য আহরণে ক্ষতির আশঙ্কা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ, হাসপাতালে ফের দুই পক্ষের সংঘর্ষ চন্দনাইশে মোবাইল কোর্টের অভিযানে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনে বেকারিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

নির্মম নির্যাতনের শিকার মমিনুল ও তার মাকে দেখতে গিয়ে যা বললেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০
  • ৩৬১ বার

ইব্রাহিম সাকিব, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি :
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা আজ বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার চাঁদনীবাজার এলাকার সরকারি আবাসনে নির্মম নির্যাতনের শিকার কিশোর মমিনুল ইসলাম ও তার মা গোলাপী বেগমকে দেখতে যান। পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মমিনুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ সুপার আবিদা মমিনুলের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং শরীরে নির্যাতনের চিহ্নগুলো দেখান। পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা মমিনুল ইসলামকে বলেন, তুমি যাতে ন্যায় বিচার পাও। আমরা সেই কাজটা করছি। তোমার জন্য যতটুকু পারি আমরা করবো। ওসি সাহেব আছে। এসব আজেবাজে কাজ করা যাবে না। তোমার বয়স কম, ছোট মানুষ। আর কখনোই এ জাতীয় কাজ করবে না। তুমি কাজ করে খাবে। দুনিয়াতে যার হাত আছে তো সব আছে। হাত নেই তো কিছু নেই। তোমার হাত-পা আছে। তুমি তো সুস্থ্য মানুষ। আর উল্টাপাল্টা কাজের সাথে জড়িত হবে না। আমরা কিন্তু সব সময় তোমার দিকে নজর রাখব। উল্টাপাল্টা কাজ করলে কিন্তু শেষ একদম, ঠিক আছে। আজেবাজে যা যা স্বভাব ছিল, আজ থেকে সেগুলো সব বাদ। আমি তোমাকে ভর্তি করে দেবো, লেখাপড়ারও সুযোগ করে দেবো।
এছাড়াও পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা মমিনুল ইসলামের পালিত মা গোলাপী বেগমের নিকট বিস্তারিত জানতে চান। অসুস্থ্য বৃদ্ধা গোলাপী বেগম ছেলের নির্যাতনের কথা জেনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুলিশ সুপার তাকে শান্তা দিয়ে গোলাপী বেগমকে বলেন, আপনি এমন একজন মা, সত্যিই সৌভাগ্যবান। আপনি জন্ম না দিয়েও যে মমিনুল ইসলামকে লালন-পালন করেছেন। এমন কাজ কয়জন করে? আপনার আর কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা সাধ্য মতো আপনার চিকিৎসা দেবো, ঔষধ দেবো। আপনি সুস্থ্য হয়ে যাবেন। ছেলেকে দেখে রাখবেন। আমরাও আপনাদের সাথে আছি।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, কিন্তু অপরাধ কেন করলো সে? অপরাধের জায়গায় সে যাতে না যায়। তাকে যাতে মানবিকভাবে আমরা দেখতে পারি, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। তারপরও সে যদি অন্যায় করেও ফেলে। সেক্ষেত্রে দেশে আইন আছে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। কিন্তু কেউ নিজের হাতে আইন তুলে এভাবে নির্মমভাবে নির্যাতন করবে? সভ্য সমাজে এটা হতে পারে না। সে কারণেই আমাদের পক্ষে যতখানি করণীয় সেটাই আমরা করছি। এবং বাচ্চাটি যাতে সুস্থ্য পথে স্বাভাবিক জীবনে থাকতে পারে। পিতা-মাতা নেই। এতিম একটা ছেলে। গোলাপী বেগম একজন ভদ্র মহিলা। তিনি কষ্ট করে মমিনুলকে বড় করেছে। লালন-পালন করেছে। এর চেয়ে সুন্দর জিনিস তো হতে পারে না। সে কারণেই আমরা চাচ্ছি যে, দেশের অন্য দশজনের মতো মমিনুল ইসলামও সুন্দর স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সীমিত সামর্থ নিয়ে সেটাই আমরা করতে চেয়েছি। আজকে আমার আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে- তার মাকে মানসিকভাবে শক্তি দেওয়া এবং অন্যরা যাতে তাদেরকে টিজ না করে, মানসিকভাবে পীড়ন না দেয়। এই মেসেজটি দেওয়া। সে ছোট বাচ্চা। সে একটা ভুল করেছে। যেন সে সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারে, এজন্য আমার এখানে আসা।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) এস এম শফিকুল ইসলাম শফিক, লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলমসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা মমিনুল ইসলামের মায়ের হাতে নগদ অর্থ, খাবার ও মৌসুমী ফলমূল তুলে দেন। লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকেও ওই পরিবারটিকে চাল, ডাল, তেল সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলা ট্রাক ও ট্যাক লরি মালিক সমিতির সভাপতি ও সীমান্ত শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আশরাফ আলী লালসহ অপর ৩ আসামী লালমনিরহাট কারাগারে রয়েছে। মামলার এজাহার নামীয় অপর ২ আসামীসহ অজ্ঞাত আসামীদেরও আইনের আওতায় অানা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net