1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
ফেসবুকীয় প্রেসক্রিপশন বিপদ ডেকে আনছে, সতর্কতা জরুরি - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরায় দুর্বৃত্তের গুলিতে পৌর যুবদল নেতা নিহত!  বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ মাগুরার শ্রীপুরে ১১দলীয় ঐক্য জোটের খুলনা বিভাগীয় লং মার্চ ও ২৮ অক্টোবর পালনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও বাড়ি নির্মাণে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন  ভাঙ্গুড়ায় বড়াল-গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব লক্ষ্মীপুর বিসিকের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস মাটিরাঙ্গায় পুজা মন্ডপ পরিদর্শনে পৌর বিএনপি রামগড়ে পুজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া মাগুরায় ‘আব্দুল মালেক বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হাসপাতাল’-এর উদ্বোধন”গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে কমল সোনার দাম নকলায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

ফেসবুকীয় প্রেসক্রিপশন বিপদ ডেকে আনছে, সতর্কতা জরুরি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ৪৪০ বার

অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার |
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এখন পাওয়া যাচ্ছে নানা রোগের নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন। বরং বলা যায়, এমন কোনো রোগ নেই, যার ব্যবস্থাপত্র ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই ওই সব ব্যবস্থাপত্র অনুসরণও করছেন। এতে করে সুফল কতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর ফেসবুকের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করতে গিয়ে অনেকে বিপদে পড়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন এমন দৃষ্টান্ত ক্রমেই বাড়ছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই ফেসবুকে নানা ধরনের টোটকা পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুকে দেখে ভারতে গরুর মূত্র খাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। অথচ কোনো চিকিৎসক ওই পরামর্শ দেননি। বাংলাদেশে ফেসবুকে থানকুনি পাতাসহ নানা ধরনের গাছ গাছড়া বেটে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। নিজে উপকার পেয়েছেন এমন কথা বলে কেউ কেউ নানা ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। আর এগুলো ঠিক না বেঠিক তার কোনো বাছবিচার না করেই এক শ্রেণীর মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ওই ব্যবস্থা অনুসরণে। এমনকি কাঁচা হলুদ বেটে খেয়ে অনেকে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে, এমন তথ্যও ফেসবুকে হামেশাই পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এমন অনেক রোগী তাদের কাছে এসেছে, যারা ফেসবুকে পাওয়া ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করে নানা ধরনের বিপদে পড়েছে। এমনকি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়নি এমন মানুষও ভয় পেয়ে ফেসবুকে পাওয়া পরামর্শমতো করোনার ওষুধ খেয়ে গুরুতর জটিলতায় পড়েছে। বাধ্য হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে তাকে। শুধু মানুষের দেয়া টোটকাই নয়, অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনও ফেসবুকে অত্যন্ত সুলভ। বুঝে না বুঝে সেগুলোও অনুসরণ করছে অনেকে। কিন্তু তারা ভেবে দেখছে না, ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়তো একজন রোগীর বয়স, দৈহিক গঠন, তার অন্যান্য রোগের উপসর্গ ইত্যাদি নানা বিষয় বিবেচনা করেই তাকে বিশেষ ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিলেন। সেটি আপনার জন্য কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুকে একশ্রেণীর মানুষ করোনাভাইরাসের উপসর্গ, প্রতিরোধের উপায় এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পদ্ধতিও পুরোপুরি বলে দিচ্ছে। অনেকের লেখা এতটাই আকর্ষণীয় যে, পাঠক সেটি সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বাস করে। এসব কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিকিৎসাপত্র নিয়ে মানুষের মধ্যে দুর্ভাবনা বাড়ছে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কার্যকর কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় দেশে-বিদেশে চিকিৎসকরা অবস্থা বুঝে বেশ কিছু ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এরই মধ্যে ফেসবুকে এমন কিছু ওষুধ ব্যবহারের পর কার্যকারিতা পাওয়ার দাবি করেছেন কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগী ও দেশীয় চিকিৎসক। আর বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ায় মানুষ সেই নির্দিষ্ট ওষুধগুলো কিনতে ফার্মাসিগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এমনকি সামান্য জ¦র বা সর্দি-কাশি, গলাব্যথায় আক্রান্ত রোগীরাও এসব ওষুধ কিনতে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবনে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুকের এসব চিকিৎসা সত্যিই বিপজ্জনক এবং সর্বনাশ ডেকে আনছে।
দেশের সেরা চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, গরম পানিতে গারগল করা, প্রয়োজনে উষ্ণ গরম পানি বা চা খাওয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা বা হাত ধোয়া এ ধরনের কাজই সাধারণ মানুষকে করতে হবে। বিনা কারণে কারোরই ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। যদি সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। বিনা কারণে ওষুধ খেলে লাভ নয় বরং ক্ষতিই হবে।

লেখকঃ বিশেষ প্রতিবেদক | সাবেক কাউন্সিলর – বিএফইউজে-বাংলাদেশ ও সদস্য ডিইউজে -|

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net