1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
ঔপনিবেশিক আমলের পুলিশ আইন পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি - দৈনিক শ্যামল বাংলা
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
ভারতের হাসপাতালে আগুন, প্রাণ গেল ৩ নবজাতকের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অপেক্ষায় বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম ইমরান খানের চিকিৎসার দাবিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে গাভাস্কার-কপিলদের চিঠি নোয়াখালীর সেনবাগে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু  নোয়াখালীর হাতিয়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ফার্মেসি মালিক আটক  গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের জন্য অধিদপ্তর হচ্ছে চান্দগাঁও মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন এমপি এরশাদ উল্লাহ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে দরগাহ মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটির অভিনন্দন! আগামী দিনে সমাজের নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের দিতে হবে: এশরাদ উল্লাহ নবীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকের কোচিং ও পরীক্ষার ফি আদায় 

ঔপনিবেশিক আমলের পুলিশ আইন পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ৮২৬ বার

জামালউদ্দিন বারীঃ
পর্যটন শহর কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কে পুলিশ চেকপোস্টে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত তরুন সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। উল্লেখ্য মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশ ছাড়াও বিজিবি ও সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিও আছে। সেনা কর্মকর্তা সিনহার গাড়িটি এসব চেকপোস্ট পেরিয়ে পুলিশের চেকপোস্টে গিয়ে নির্মম হত্যাকান্ডের সম্মুখীন হল কেন। এমন প্রশ্নে আবারো দেশের পুলিশ বাহিনীকে দেশের নাগরিক সমাজের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। যদিও পুলিশ বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিনহা হত্যার দায় বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের। কোনো বাহিনীর নয়। এবং এই ঘটনায় দেশের প্রধান দুই বাহিনীর মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি নষ্ট হবে না। পুলিশ বাহিনী রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য্য প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র যেমন নাগরিক সমাজের একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, তেমনি পুলিশ বাহিনীও রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের মধ্যে একটি নিবিড় সেতুবন্ধন। রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক সমাজের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করে বলেই পুলিশ ও তার সহযোগি বাহিনীগুলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলে অভিহিত করা হয়। বিশ্বের উন্নত ও সভ্য জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেশগুলোতে পুলিশ বাহিনী ইতিমধ্যে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাস্তায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে কমিউনিটি শৃঙ্খলা এবং যে কোনো পারিবারিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য পুলিশের হেল্পলাইন হয়ে উঠেছে নাগরিক সমাজের অন্যতম অবলম্বন। অপরাধ দমনের পাশপাশি অসুস্থ্য রোগীকে হাসপাতালে পৌছে দেয়া বা সরাইখানায় অতিরিক্ত মদ্যপান করের মাতালকে ঘরে পৌছে দেয়ার মত সামাজিক দায়িত্বও পালন করে থাকে পুলিশ। বৈশ্বিক সমস্যাগুলো যেমন সব দেশের সব নাগরিককেই কমবেশি আক্রান্ত করছে, একইভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে বৈশ্বিক সামাজিক-রাজনৈতিক প্রবণতা ও প্রক্রিয়াগুলোও সব দেশের সমাজকে কমবেশি প্রভাবিত করে চলেছে। পুলিশ হেল্পলাইন এখন আমাদের দেশেও চালু হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ট্রিপল নাইন, ট্রিপল থ্রি বা কোভিড-নাইনটিন হেল্পলাইন থেকে উপকৃত হচ্ছে। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেআইনী, বেপরোয়া কর্মকান্ড থেকেও বেরিয়ে আসতে পারছে না। নানা ধরনের অপরাধ-দুর্নীতির দায়ে প্রতি বছর হাজার হাজার পুলিশ সদস্য বিভাগীয় শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার পরও পুলিশের অপরাধ প্রবণতা কমছে না। আইনগত সুরক্ষা কবচ ব্যবহার করে এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্য গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির নামে লঘুদন্ডের কারণেই পুলিশের অপরাধপ্রবণতা কমছে না বলে দেশের অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

পুলিশের এক শ্রেণীর সদস্যের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কোনো নতুন বিষয় নয়। ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত পুলিশ আইনেই অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছিল। ১৮৬১ সালের পুলিশ অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছিল বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামি ভারতীয়দের দমনের উদ্দেশ্যে। এটি কোনো স্বাধীন-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনী ছিল না। অন্য মহাদেশের, অন্য ধর্মাবলম্বী একটি ক্ষুদ্র জাতি বিশাল ভারতকে শাসন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনীকে যথেচ্ছ শক্তি প্রয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিল। দীর্ঘদিনের অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অবশেষে এ উপমহাদেশ ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড় থেকে মুক্ত হয়ে রাজনৈতিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বেশ কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হলেও স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা ঔপনিবেশিক আমলের আইনী কাঠামো থেকে বের হতে পারি নি। তখন বৃটিশরা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পুলিশের আইন ও অস্ত্রকে ব্যবহার করেছে। স্বাধীনতা পরবর্তি সময় থেকে দেশের শাসকশ্রেণী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করে নিজেদের কায়েমি রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে পুলিশের পুরনো আইনের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ দেশের সাধারণ মানুষ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন রাষ্ট্রের আইনগত সুরক্ষা ও পুলিশি নিরাপত্তার স্বাদ কখনো পায়নি। এখনো দেশের মানুষের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর প্রতি ভীতি, বিদ্বেষ ও অনাস্থা কাজ করছে। এখনো এ দেশের মানুষকে শুনতে হচ্ছে, ‘দেশের রাজা পুলিশ’।পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য, বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড, ক্রসফায়ার ইত্যাদি শব্দগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং গণদাবিকে দাবিয়ে রাখার ইতিহাস। অতএব পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের যেমন দায় রয়েছে, তেমনি দায় রয়েছে দেশের সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার। পুলিশ বাহিনী নিজেইর নিজের আইন প্রণয়ন করেনি। নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনে জনগণের উপর স্টিম রোলার চালায়নি। বৃটিশ ঔপনিবেশিক কাল থেকে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক সরকার নিজের প্রয়োজনে পুলিশের আইন তৈরী করেছে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অগ্রহ্য করে পুলিশকে ক্ষমতা প্রয়োগের হুকুম জারি করেছে। এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্য রাজনৈতিক যোগসাজশে ক্ষমতার সেই খেলাকে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ারে পরিনত করার মধ্য দিয়ে পুরো বাহিনীকে জনগণের আস্থার সংকটে ঠেলে দিয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এই সমাজেরই মানুষ। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কবলে পড়ে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশের চাকরি, পদায়ন, বদলির যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল তা প্রকারান্তরে পুলিশকে ঘুষ-চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলার মত অনৈতিক কাজে বাধ্য করেছে। ক্ষমতাসীনরা পুলিশকে রাজনৈতিক ক্ষমতার লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করার কারণে এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্য পেশাদারিত্ব ও আইনগত বাধ্যবাধকতার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক তকমা ব্যবহার করে অগাধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার আগেও অনেক পুলিশ কর্মকর্তার শত শত কোটি টাকার সম্পদের হদিস পাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন শহরে ওসি প্রদীপের বেশ কয়েকটা বাড়ি ও সম্পদের সন্ধান ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net