ঢাকা   ০২:৪৪:৪৬ পিএম, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি হত্যা  আনোয়ারায যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ইরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন লাকসাম যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল  মাগুরার শ্রীপুরে বরিশাট ঈদগাহের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন  জাপান সফর শেষে দেশে  ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির ৫৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

শুক্র শনিবার হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিন

___ মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ______
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৬৯৪ বার
  • ৯ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

শুক্র ও শনিবার সারা দেশের অফিস-আদালত বন্ধ থাকে। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও এ দুই দিন এসএসসি পরীক্ষার্থী, এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া যেত। জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে শুক্র ও শনিবার হলেও স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা উচিত। করোনা সংক্রমণের উচ্চহারের সময়েও এ দুই দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না থাকায় এ কথাই প্রতীয়মান হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের শেখানোর কোনো ইচ্ছা নেই সরকারের। এভাবে একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

গত বছরের পুরোটা সময় করোনা সংক্রমণ কম ছিল। তখন পর্যটনসহ প্রায় সব খাত খুলে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি। সরকার বলছে সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে স্কুল-কলেজ খোলা হবে, যদিও গত বছর সংক্রমণে নিম্নহার থাকলেও খোলা হয়নি।
সরকারের উচিত ছিল আগেই শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা। তা করতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। করোনার মধ্যে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে নবম ও দশম শ্রেণিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করানো যেত। একইভাবে কলেজ পর্যায়ে দ্বাদশের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে এনে পড়ানো যেত। তাহলে পরীক্ষাও যথাসময়ে নেওয়া যেত, অটো পাস দিতে হতো না। সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে এসব সিদ্ধান্তও নেওয়া সম্ভব হয়নি। পড়াশোনার চিন্তা বাদ দিয়ে সরকার এখন শুধু পরীক্ষার কথা চিন্তা করছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে এখন চিন্তাভাবনা করতে হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে চিন্তা না করে এলাকাভিত্তিক চিন্তা করতে হবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের কম সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। রাঙামাটি বা রংপুর বা অন্য কোনো এলাকায় করোনার সংক্রমণ যদি কম পরিলক্ষিত হয় তবে সেসব এলাকার শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে থাকবে কেন? আবার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের যদি টিকাদান সম্পন্ন হয়ে থাকে তারাও পড়াশোনা বন্ধ করে বসে থাকবে কেন?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদেও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সুযোগ রয়েছে। যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তবে তারা খোলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম সেখানে হয়তো সহজেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত হওয়ায় নিজ নিজ অঙ্গনে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় যেগুলোয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বেশি সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা ঠিক হবে না। কারণ করোনা অনেক বাস্তবতা শিখিয়ে দিয়েছে আমাদের। ঢাকায় বসে কেন্দ্রীয়ভাবে সবার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

করোনা সংক্রমণের হার যদি কমতে থাকে তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক। তবে খুলে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাকে ভ্যাকসিন দিয়েছে, এটি ভালো খবর। কিন্তু সবার ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে।

গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গত বছরের আগস্টে যখন করোনার সংক্রমণ হার কমতে শুরু করল শিক্ষাবিদরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন খোলা হয়নি। অথচ তখন পরবর্তী পাঁচ-ছয় মাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে চালানো যেত। ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর ব্যবস্থা না করে শুধু পরীক্ষা নিয়েই আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। অথচ শেখানোটাই প্রথম।

পরীক্ষা কীভাবে হবে এ নিয়ে সরকার চিন্তায় আছে। এটা দেখে অবাক হই। আগে শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে পরে মূল্যায়নের চিন্তা করতে হবে। বাড়িতেই যদি শিক্ষা দিতে হয় তবে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার কী। করোনার জন্য আমরা পিছিয়ে যেতে পারি। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের শিখিয়ে নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট যেভাবে দেওয়া হচ্ছে এর ওপর মূল্যায়ন হলে তা হবে মারাত্মক ভুল। কারণ এ প্রক্রিয়ায় ভালো ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা লিখবে কিন্তু কম নম্বর পাবে। কিন্তু তুলনামূলক কম মেধাবীরা বাবা-মার কাছে বা টিউটরের কাছে লিখে আনবে, তারা বেশি নম্বর পাবে।

তা ছাড়া অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান বাজারেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। অনেক অ্যাসাইনমেন্ট হুবহু বই থেকেও তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাই এর ওপর মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অবকাঠামোগত সমস্যা থাকলে শিক্ষার্থীদের দুই শিফট করে ক্লাসে আনতে হবে। সকালের শিফটে জোড় আর বিকালের শিফটে বিজোড় সংখ্যার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আনা যেতে পারে। তবে একটু সময় নিয়ে কারিকুলাম শেষ করতে চাইলে অর্ধেক শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে তিন দিন, বাকি শিক্ষার্থীদের বাকি তিন দিন ক্লাস নেওয়া যেতে পারে।

লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক আপন আলো | সাবেক কাউন্সিলরঃ বিএফইউজে-বাংলাদেশ _ ও _ সদস্য ডিইউজে |

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি