ঢাকা   ১১:০৭:৩২ পিএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
আনোয়ারায যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ইরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন লাকসাম যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল  মাগুরার শ্রীপুরে বরিশাট ঈদগাহের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন  জাপান সফর শেষে দেশে  ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির ৫৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মাগুরার বিনোদপুরে ১০ম বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল ও ইছালে সওয়াব অনুষ্ঠিত মাগুরায় হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল কারাগারে

ডিবির ক্যাশিয়ার নূরুর চাঁদাবাজি চলছেই, কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা

দম্ভ করে অপকটে স্বীকারও করেন

নিজস্ব প্রতিবেদক |
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৩৯ বার
  • ৯ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মন্তব্য হলো : এসপি জায়েদুল আলম রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চলেন একই সাথে তিনি কোন অপরাধীকে প্রশ্রয় দেন না । এর বড় প্রমাণ চাঁনমারী বস্তিতে বিশাল মাদকের দীর্ঘদিনের হাট বাজার উচ্ছেদ করে বীরত্বের প্রমাণ রেখেছেন। যার উচ্ছেদ করা ছিলো কল্পনার অতীত । আর সেই বীরত্বকে ম্লন করে দিচ্ছে কুখ্যাত ও দূর্ধর্ষ চাঁদাবাজ ক্যাশিয়ার নূরু । যিনি ভন্ডামীতেও মহাপটু । কথায় কথায় পবিত্র হজ্বের কসম কাটেন । নিজ সন্তানের কসম কাটেন । মরা মায়ের দুগ্ধ পানের কসম কেটে কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে অনবরত মিথ্যে বলে সকলকে ধোকা দিয়ে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর যাবৎ

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার যিনি ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত। অন্যায়কে কখনই প্রশ্রয় দেন না। তিনি তার ডিপার্টমেন্টের অসাধু অনেক সদস্যের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তিনি হচ্ছে মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। তার এই সুনাম নারায়ণগঞ্জে রয়েছে। সাধারণ মানুষতো বটেই, পুলিশ অফিসারদের মুখে মুখেও তার এমন প্রশংসা প্রায় শোনা যায়।

অন্যদিকে, অতীতকালে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কর্মকাণ্ড সুখকর ছিল না। অনেক দুর্নাম শোনা গিয়েছিলো এই বিভাগটিকে ঘিরে। অনেক অভিযোগও উঠতো ডিবির বিরুদ্ধে। এমনকী ডিবির অন্যায়, অত্যাচারের ফিরিস্তি তুলে ধরে অনেকে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন অতীতে। তবে, বর্তমানে ডিবি পুলিশের সেই দুর্নাম নেই। অনেকের মন্তব্য, বর্তমানে ডিবি দায়িত্বে যিনি আছেন, তিনি হচ্ছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ। তিনি কোনো রকম অনিয়মকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দেননা।

তবে, অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, জেলা পুলিশে এই দুজন সৎ ব্যক্তিত্ব থাকার পরও পুলিশের সাবেক কনস্টেবল নূরু মিয়া, যিনি ক্যাশিয়ার নূরু নামে পরিচিত তিনি কী করে ডিবি পুলিশের নাম করে প্রতি মাসে অন্তত বিশ তেকে পঁচিশ লাখ টাকারও উপরে চাঁদাবাজি করছেন ! তাহলে, নূরুর এই টাকাটা কোথায় যাচ্ছে, কারা এই টাকা পকেটস্থ করছেন ?

সচেতন মহল গ্যারান্টিসহকারে বলেন, নূরু পুলিশের নাম করে যে চাঁদাবাজি করছেন সে টাকার কোনো অংশ ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে যায় না। এমনকী তারা এই বিষয়টি আদতে জানেন বলেও মনে হয় না। কেননা, তাদের কান অবধি এই তথ্য পৌঁছালে নূরু কখনই অবৈধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের নাম করে চাঁদাবাজি করতে পারতেন না। তবে, তারা এইটুকু বলছেন, নূরুর এই চাঁদাবাজির সাথে পুলিশেরই কোনো না কোনো সদস্য জড়িত রয়েছেন। যে কারণে বিষয়টি ওই দুই কর্মকর্তার কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না।

সূত্র বলছে, কাশিপুর এলাকায় অবস্থিত একটি নাট বল্টুর কারখানা থেকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার, একই ইউনিয়নের একটি অবৈধ তারের কারখানা থেকে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা, ফতুল্লার যমুনা ও মেঘনা ডিপো এলাকায় ছোট বড় ১০টি চোরাই তেলের দোকান থেকে অন্তত দেড় লক্ষাধিক টাকা ডিবি পুলিশের নামে তিনি আদায় করে থাকেন।

এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর আকিজের ঘাট এলাকার চোরাই তেল কারবারি বারিক মাঝির কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা, রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকার চোরাই তেল কারবারি (সোয়াবিন) আক্তারের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা এবং শহরের সেন ও কেরো এন্ড কোম্পানি (মদের দোকান) থেকে কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা আদায় করে থাকে নূরু মিয়া।

শুধু তাই নয়, সীমা ডাইংয়ের মাসুমের চোরাই তেল কারবার থেকে প্রতি মাসে ২২ হাজার টাকা, সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মাশীল, এসও এলাকা থেকে সব থেকে বেশি অংকের মাসোয়ারা আদায় করে থাকে নূরু মিয়া। এখান থেকে কম করে হলেও চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়। বুড়িগঙ্গা নদীর চোরাই তেল ব্যবসায়ী পাবেলের চারটি দোকান থেকে প্রতি মাসে অর্ধলক্ষ টাকারও অধিক আদায় করে থানে এই ক্যাশিয়ার নূরু। এসব টাকাই তিনি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের নাম করে তুলে থাকেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব বিষয়ে কয়েকটি স্থানের কথপোকথনের রেকর্ডও পাওয়া গেছে। এসব রেকর্ড পর্যালোচনা করে এর সত্যতাও মিলেছে ।

সূত্র আরও জানায়, নূরু মিয়ার একাধিক বাড়ির মধ্যে যমুনা ডিপো এলাকার উল্টো দিকে রুসেন হাউজিং এলাকায় রয়েছে একটি ষষ্ঠতলা বাড়ি। এই বাড়ির মূল গেটের কাছেই আছে একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বর। মাসোহারার অনেক টাকাই এই এজেন্টের কাছে পাঠানো হয়। এই দোকানির নম্বরে ফোন করের নূরুর কথা বলার সাথে সাথেই চেনা হোক বা অচেনা, ভাতিজা সাইফুল নামক একজন বলে উঠেন, ‘এটা নুরু কাকার বিকাশ নাম্বার, এই নাম্বারে পাঠান।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানিয়েছিলেন, নূরু মিয়ার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। এর প্রেক্ষিতে তাকে আমরা গ্রেফতারও করেছিলাম। এবারও যদি তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, “নূরুর বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, তদন্ত করে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি