1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
মং দি গাইড - দৈনিক শ্যামল বাংলা
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : মীর হেলাল চন্দনাইশে কারিতাস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১,২৮০ বন্যার্ত পরিবার পেল নগদ সহায়তা, হাইজিন কিট ও ত্রাণ” চন্দনাইশের বরমায় ৩ হাজার ৫০০ বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে আবদুর রহিম চৌধুরী ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল আল-মুঈন ত্রাণ তহবিল কর্তৃক বন্যাদুর্গতদের নগদ অর্থ বিতরণ কিশোরগঞ্জে ৭ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী অপহরণ, সপ্তাহ পরেও হয়নি উদ্ধার মাগুরায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা  শুরু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২ কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক উধাও, থানায় অভিযোগ সোনারগাঁয়ে কুপিয়ে হত্যা: বিএনপি নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ চকবাজার থানা কমিটি কর্তৃক সাইবার ইউজার দলের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গুজব/তথ্য সন্ত্রাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

মং দি গাইড

সাজিদ মোহন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫০৫ বার

বর্ষায় দুই পাশের উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিতে সাঙ্গু নদী থাকে টালমাটাল। পাথুরে এই নদীতে থানচি থেকে রেমাক্রি যাওয়ার পথটা তখন হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। নদীতে স্রোত কমে শীতের শুরুতে। শুরু হয় পর্যটকদের আনাগোনা। মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্পট বান্দরবনের থানচি উপজেলার রেমাক্রি, তিন্দু, বড়মোদক, নাফাখুম, আমিয়াখুম, সাতভাইখুম, ভেলাখুম, আন্ধারমানিক। পর্যটকদের মতো বছরের এই সময়টার জন্য উন্মুখ হয়ে বসে থাকে স্থানীয় গাইড মং হ্লা মারমা।

বান্দরনের থানচি উপজেলার থানচি বাজার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে জিনিঅং পাড়ায় মং হ্লা মারমার(১৮) বসবাস। বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়, তখন সে ক্লাস ফাইভে পড়ে। মা আর চার বোনকে নিয়ে তার সংসার। মা জুম চাষ করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারে দ্বিতীয় উপার্জনক্ষম পুরুষ না থাকায় বাধ্য হয়ে ধীরে ধীরে মংকে বেছে নিতে হয় গাইডের পেশা। পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছে সে। এবার এইচ এস সি পরীক্ষা দেবে থানচি কলেজ থেকে। মংয়ের স্বপ্ন একদিন সে পড়বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মংয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারা বছর পর্যটকদের তেমন চাপ থাকে না থানচি-রেমাক্রি রুটে। ভীড় থাকে শীতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। দেশ বিদেশের শত শত পর্যটক ঘুরতে আসে এখানে। মং মূলত থানচি বাজার থেকে তিন ঘন্টার নৌকা ভ্রমণে সঙ্গু নদী পাড়ি দিয়ে পর্যটকদের নিয়ে যায় তিন্দু, রেমাক্রি, দেবতা পাহাড়, নাফাখুম,আমিয়াখুম, সাতভাইখুম ও ভেলাখুম। থানচি বাজার থেকে আমিয়াখুম হয়ে আবার থানচি বাজার পৌঁছে দিলে পারিশ্রমিক বাবদ সে পায় ৪,৫০০ টাকা। বছরে ১০/১৫টি ট্যুর করে সে। এই উপার্জন আর মায়ের জুম চাষের আয় দিয়ে চলে সংসার।

পর্যটকেরা জীবনে একবারই আসেন পাহাড়, নদী,ঝর্ণা, ঝিরি, জলপ্রপাত আর পাথর ঘেরা বান্দরবনের দূর্গম এসব জায়গায়। প্রকৃতির মায়া আর এডভেঞ্চারের নেশায় কেউ কেউ আসেন বারবার। কিন্তু মং আসে প্রতিনিয়ত জীবিকার প্রয়োজনে। বারবার এক জায়গায় যেতে যেতে একঘেয়েমি এসে যায় না? মং বলে, ‘ঠিক একঘেয়েমি না। ক্লান্ত লাগে। থানচি থেকে রেমাক্রি। রেমাক্রি থেকে নদী, পাথর, পাহাড়ে হেঁটে ৩ ঘন্টায় নাফাখুম। নাফাখুম থেকে আরও কয়েক ঘন্টা হেঁটে আমিয়াখুম। আমিয়াখুম, সাতভাইখুম, ভেলাখুম। আবার এই পথে ফিরে আসা। শরীর কাজ করতে চায় না অনেক সময়। তবে, একবার রওনা দিলে পাহাড়, নদী, ঝর্ণা সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। প্রকৃতির নিজস্ব শক্তি আছে ক্লান্তি দূর করার।’

রেমাক্রি ফেতর পর্যটকদের থানচি পৌঁছে দিয়ে থানচি বাজারে বা জিনিঅং পাড়ায় জুমঘরে পরের দিনের নতুন পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করে মং। পুরাতন পর্যটকরা ফিরে যায় শহরে, যে যার ঘরে। মং রয়ে যায় গহীন পাহাড়ে, গভীর অরণ্যে। প্রতিদিন পর্যটক আসে। যদি কপালে জোটে, সে তাদের নিয়ে যায় গন্তব্যে। নাফাখুম বা আমিয়াখুম গিয়ে জলপ্রপাতে পর্যটকরা ঘুরতে ঘুরতে বেশি দেরী করে ফেললে সংকোচ নিয়ে বলে, ‘একটু তাড়াতাড়ি করেন স্যার। আপনাদের সন্ধ্যার আগে রেমাক্রি পৌঁছে দিতে পারলে, কাল সকালে আরেকটা ট্যুর ধরতে পারবো।’

শত শত পর্যটকের মুখ মুখস্ত করতে করতে একসময় সে হয়তো ভুলে যায় অনেকেরই মুখ! পর্যটকরাও কি ভুলে যায় তাকে?

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net