https://www.dailyshamolbangla.com/
মীরসরাইয়ে প্রিয়া অটো ব্রিকস্ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অগ্রিম ইট ক্রয় বাবদ পাওনা টাকা, ইট আদায়, নির্মাণ কাজের জন্য সরবরাহকৃত মালামাল ও জ্বালানী তেল বাবদ পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। বৃহষ্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান বরাবর ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে এই অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৯ মে মীরসরাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামে প্রিয়া অটো ব্রিকস নামে একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। এতে এলাকাবাসী উৎসাহীত হয়ে নিমার্ণ কাজের সহযোগীতার হাত বাড়ায়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুরোধক্রমে নিমার্ণের পূর্বে অগ্রিম ইট ক্রয়, ভিটে বালি, কাজের বালি, ইট, রড়, সিমেন্ট, মাটি সরবরাহ কাজে সহযোগীতা করে ভূক্তভোগীরা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর উৎপাদনের কাজ শুরু করলেও শতাধিক গ্রাহকদের পাওনা টাকা/ইট পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখে গ্রাহকদের সাথে কোনরকম যোগাযোগ করছেনা। এতে ভূক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতিসহ নানা হতাশায় ভূগছে।
ভূক্তভোগী রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইছাখালী ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার বাসিন্দা আহসান উল্লাহ বলেন, আমি চাকরী থেকে অবসরে যাওয়ার পর এককালীন পাওয়া ২০ লাখ টাকা ও আমার মেয়ের ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সহ মোট ২৮ লাখ টাকা দিয়ে প্রিয়া অটো ব্রিকস থেকে ইট ফরোয়ার্ড করেছি। চুক্তিনামাও রয়েছে। কিন্তু চার বছর পরও এখনো একটি ইট কিংবা এক টাকাও পাইনি। মালিক পক্ষের কাছে ধর্না দিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। আমার সারা জীবনের অর্জিত টাকা গুলো প্রিয়া অটো ব্রিকসে দিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছি। মেয়ের টাকার জন্য তাঁর সংসারে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
আরেক ভূক্তভোগী মাহবুব আলম চৌধুরী খোকন বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পিয়া অটো ব্রিকস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১ লাখ ইট ক্রয় করেছি। চুক্তিনামায় ২০১৯ সালের জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে ইট অথবা লাভ সহ ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত একটি টাকাও পাইনি।
শুধু আহসান উল্লাহ, মাহবুব আলম চৌধুরী খোকন নয়, প্রায় শতাধিক গ্রাহক কোটি কোটি টাকার ফরোয়ার্ড ইট ক্রয় করে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
এবিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রিয়া অটো ব্রিকস্ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামানের ব্যবহত মুঠোফোনে একাধিকার কল করলেও রিসিভ হয়নি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান বলেন, ভূক্তভোগী গ্রাহকদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রিয়া অটো ব্রিকস্রে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করবো