1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
দক্ষিণ আফ্রিকা রবিউল অপহরণ মামলায় আসামিদের ৪০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন: কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন  চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ওসমানগঞ্জে ফুটবল বিতরণ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হাটহাজারী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হাসান গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২ মেয়াদের পক্ষে সরকার, বিরোধী দলকে আলোচনার আহ্বান মাগুরায় নাশকতা মামলায় নিষিদ্ধ  সাবেক ছাত্রলীগ নেতা! সাগর হোসেন আটক মাগুরায় শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের বহুতল ভবনের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন বান্দরবানে এনসিপি নেতা মিজানুর রহমান আখন্দের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাগুরার শ্রীপুরে শিক্ষকের নামে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত  এলজিআরডি মন্ত্রীর সাথে সাইবার ইউজার দলের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ 

দক্ষিণ আফ্রিকা রবিউল অপহরণ মামলায় আসামিদের ৪০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত

আরিফুর রহমান দিলু দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২
  • ৫৪৭ বার

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানার্সবাগের মোঃ রবিউল হকের দায়ের করা অপহরণ মামলা দ্বীর্ঘ চার বছর চলাকালীন পর জোহানার্সবাগ হাইকোর্টে দ্বীর্ঘ সময় শুনানি শেষে গত শুক্রবার হাইকোর্ট মোট ৭টি অভিযোগে ভিত্তিতে উক্ত মামলায় ৪টি অভিযোগ সঠিক ভাবে প্রমানিত না হওয়ায় আসামিদের ৪টি অভিযোগ থেকে মুক্তি দিলেও অপহরণ, নির্যাতন ও ডাকাতি সহ মোট ৩টি অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের কে দোষী সাব্যস্ত করে এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল১১.৪৫ মিনিটে জোহানার্সবাগ হাইকোর্ট তিনটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আলাদা আলাদা সাজা দেন। অপহরণ মামলায় ২০ বছর, নির্যাতন মামলার ১৫ বছর, ডাকাতি মামলায় ৫ বছর সহ ৪০ বছর রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের ৫ বছর কারাভোগের কারনে তাদের দুই মামলায় একত্রে আরো ১৫ বছর কারাভোগ করতে হবে। রায়ের পর আসামি পক্ষ সাথে সাথে আপিল করলে আদালত সেটাও সাথে সাথে খারিজ করে দেন। এবং রায়ে আরো বলা হয়েছে যে আসামি পক্ষ আগামী ১৫ বছর উক্ত মামলায় কোন আপিল করতে পারবেন না।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায় যে, এই মামলা ৫ বাংলাদেশ ও লোকাল ইন্ডিয়ান (আসিফ নানা) নামে এক জন আসামি সহ সবাই কে গ্রেফতার করেন দেশটির পুলিশ। রায়ের আগে জেলে থাকা অবস্থায় মোঃ আবু জাফর ও মোঃ মহসিন নামে দুই বাংলাদেশী এক মাসের ব্যবধানে মৃত্যু বরন করেন। একজন বাংলাদেশীকে গত ১বছর পুর্বে এদেশের মুদ্রায় ৫০ হাজার রেন্ড মুচলেকা দিয়ে তার কাগজ পত্র সাময়িক বাতিল করে বাংলাদেশে জামিনে পাঠায়। বর্তমানে বাংলাদেশের আবু তাহের ও আসিফ নানা নামে একজন ইন্ডিয়ান দক্ষিণ আফ্রিকায় কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য এ মামলা চলাকালীন সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় কিডন্যাপের মামলায় আটক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাফর আহমেদ (৪২) নামে এক বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছেন। গত ৬ জুলাই সোমবার সকাল ৯ টায় জোহানেসবার্গের ‘বারা’ হাসপাতালে ব্রেন স্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মোহাম্মদ জাফর আহম্মেদ ভূইয়ার পিতার নাম মৃত মোহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া। তার দেশের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার মকিমপুর গ্রামের ভূইয়াঁ বাড়ী। মৃত্যু কালে সে এক কন্যা সন্তান রেখে যায়। এর প্রায় এক মাস পর জেলে মারা যায় মহসিন নামে অপর আসামি।
একটি মামলায় জাফর আহমেদ গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বেলা ৩.৩০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকায় বয়েজনস পুলিশ স্টেশনে( সি আই ডি ) কার্যালয় গ্রেফতার হন । সেই থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার
কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।

এ অপহরণকারি মামলায় বাদী মোঃ রবিউল হক মুঠোফোনে জানিয়েছেন যে, গত ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ সালে নিজস্ব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মালামাল ক্রয় করতে গেলে তাকে অপহরণ করে একটি চক্র। অপহরণ কারীরা প্রায় ১৭দিন ধরে তাকে আটকে রেখে মানুষিক নির্যাতন চালায়।

পরে রবিউলের কাছে প্রথমে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার রেন্ট (বাংলাদেশী প্রায় ১৬ লাখ টাকা) অপহরণকারীরা দক্ষিণ আফ্রিকায় আদায় করে। অপহরণকারীরা বাংলাদেশে তার স্বজনদরে কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ হিসাবে আরো ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হত।

মুক্তিপণের জন্য রবিউলকে বিভিন্ন রকম নির্যাতন করা হতে থাকে এবং দ্রুত টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক সময় তারা, তার দোকান বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করে দিতে বলে এবং দোকানের ক্রেতাও তারা নির্ধারণ করে দেয়। তারা টাকা প্রদান করার জন্য ২টি ব্যাংক একাউন্ট নাম্বারও দিয়ে দেয়। এরপর রবিউলের ভাই মাহবুবুল হক গত ১১ ফেব্রুয়ারি অহনা ইলেক্ট্রনিক্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লি. দাগনভুইয়া ব্রাঞ্চ, ফেনী, একাউন্ট নাম্বার- ০১৪৩১১১০০০০০৭৪৩ এ ৯ লাখ টাকা ও বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, ইউসিবিএল, মুরাদপুর ব্রাঞ্চ, চট্টগ্রাম, একাউন্ট নাম্বার- ০৭৬২১০১০০০০০৩৭৭৮ এ ১১ লক্ষ টাকা পাঠান। দোকান বিক্রিবাবদ ২০ লাখ টাকা দেয়ার পর অপহরণকারি রা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটায় তার নিজস্ব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে অক্ষত অবস্থায় মোঃ রবিউল হক কে রেখে যায়।

দীর্ঘদিন অপহৃত অবস্থায় অর্ধাহারে অনাহারে থাকার কারণে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এরপর তার স্বজনরা সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সিআইডির অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ গত ১৮ এপ্রিল ২০১৮ অভিযান চালিয়ে ২ বাংলাদেশীসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে তাহের বাংলাদেশের চৌদ্দগ্রাম চিওড়া ও মহসিন কক্সবাজারের বাসিন্দা ছিলেন।

এই মামলার বাদী মোঃ রবিউল হক এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আর্থিক ও মানসিকভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন , সে জন্য তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত সকল প্রবাসীদের সহ কমিটির স্থানীয় সদস্যদের কে অসংখ্য ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net