ঢাকা   ০৭:০৯:২৬ পিএম, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা বহিষ্কার কবিরহাটে জামায়াতে ইসলামীর সীরাতুন্নবী মাহফিল অনুষ্ঠিত: রাসূলের আদর্শ অনুসরণে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান কোম্পানীগঞ্জে নবআবিষ্কৃত সুন্দলপুর সাউথ-১ গ্যাসক্ষেত্র পরিদর্শনে এমপি ফখরুল ইসলাম মাগিরার শ্রীপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক মাগুরায় জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে আন্তঃদলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত  গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের দায়িত্ব ও করনীয়..  মাটিরাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত  ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি রুমা, রোগীদের নিলেন খোঁজখবর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতষ বর্ণিল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক রেডিওলজি দিবস পালি

জুলাই সনদের অনিশ্চয়তা ও নতুন সংবিধানের পূর্বাভাসে রাজনৈতিক ভূচিত্রের রূপান্তর

অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৯১ বার
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

১. আশা- নিরাশার দ্বন্দ্বে বিক্ষত জুলাই সনদ:

বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক রূপান্তর হিসেবে বিবেচিত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক দলিল হতে চলেছে ‘জুলাই সনদ’। তবে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এ সনদের সাতটি মৌলিক বিষয় অনিষ্পন্ন রয়ে যাওয়ায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত স্বাক্ষরে একটি চূড়ান্ত সনদ ঘোষণার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠেছে।

এই অনিশ্চয়তা দেশের রাজনীতিকে এক গভীর মোড় ঘোরানো অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে নতুন সংবিধান ও বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থার আয়োজন এখন কেবল সম্ভাবনা নয়—ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে।

২. সাতটি অনিষ্পন্ন প্রশ্ন: কেন রাজনৈতিক দলগুলো পিছিয়ে?

জুলাই সনদের খসড়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই বিষয়গুলো হলো:

(১) নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা

(২) বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের বিচারের নীতিমালা

(৩) নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসনের নিশ্চয়তা

(৪) প্রশাসনের দলনিরপেক্ষ পুনর্গঠন

(৫) ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক নিরপেক্ষতা

(৬) গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তিতে স্বাধীনতা ও ন্যায়নীতি

(৭) অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত ও দায়বদ্ধতা

এই সাত দফা বিষয়ে কিছু দল নীতিগত আপত্তি জানিয়েছে, কিছু দল আবার সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে। ফলে ২৯ জুলাই সনদের খসড়া পাঠানো হলেও কেউই এখনো স্বাক্ষরের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দেয়নি।

৩. নাগরিক কমিটির পদক্ষেপ: রাজনীতিকে উপেক্ষা করে গণচাপ:

এই স্থবিরতায় মুখ থুবড়ে না পড়ে, জাতীয় নাগরিক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তারা নিজেরাই ৩১ জুলাই থেকে রাজপথে আন্দোলন শুরু করবে, এবং ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের পক্ষ থেকে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে,

> “আমরা সনদে দেরি করতে পারি না। দলগুলো সময় নিক, কিন্তু জনগণ প্রস্তুত। আমরাই এবার সনদ দেব।”

এই ঘোষণায় স্পষ্ট যে নাগরিক সমাজ আর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্ভর করে নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে সামনে এগোতে চায়।

৪. সংবিধান বিলুপ্তির প্রস্তাব ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রূপরেখা :

বিশ্লেষকদের মতে,

> “জুলাই সনদ ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে সংবিধান বিলুপ্ত করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আয়োজন করতে হবে। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে তা এখনই অনুমান করা কঠিন।”

এই বক্তব্য শুধু একটি মতামত নয়; এটি বাংলাদেশে বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোর সম্পূর্ণ পুনর্লিখনের প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। অর্থাৎ জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, বরং এটি একটি বিকল্প রাষ্ট্রীয় সমাজচুক্তি (social contract) রূপে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

৫. রাজনীতির গতিপথ এখন জনগণের হাতে :

রাজনীতির ক্ষমতা-ভিত্তিক কেন্দ্র এখন ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষাভিত্তিক’ কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো বুঝে উঠতে পারেনি—এই সনদ কেবল একটি মিটিং নয়, এটি একটি আন্দোলনের দিকনির্দেশনা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ৩ আগস্ট নাগরিক কমিটি ঘোষিত সনদটি গণসমর্থন পায়, তবে তা বর্তমান সংবিধান ও সংসদীয় কাঠামোর উপর এক মৌলিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে একটি অস্থায়ী সংবিধান পরিষদ, গণভোট অথবা বিকল্প শাসনব্যবস্থার দাবি জোরালো হতে পারে।

৬. পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে :

এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা আর বিলম্ব কেবল তাদের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়াবে। ৩ আগস্টের ঘোষণার পরে যদি জনগণ তার পক্ষে রাস্তায় নামে, তবে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু হবে রাজনীতি-বহির্ভূত জনগণকেন্দ্রিক সংবিধান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

এই রূপান্তরের ফলাফল যে কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে—তা ১৯৭৫, ১৯৯০ বা ২০২৪ সালেও অনুমান করা যায়নি।

 

সাবেক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এর পরিচালক

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি