কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ঘেরাবেড়া দিয়ে প্রতিবেশীদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড পূর্ব বোয়ালখালী গ্রামের প্রভাবশালী মোক্তার আহমদের পুত্রদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে ঐ পরিবারের সদস্যরা বিল ও পাশের সরু পথ দিয়ে কোনোরকম চলাচল করছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ইসলামাবাদ ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
এসময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ডজনাধিক পরিবারের বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা গত ২ দিন পূ্র্বে বাঁশ ও কাটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন বর্ণিত গ্রামের মোক্তার আহমদের পুত্র মোঃ জামাল, মোঃ নুরু ও সৈয়দ আলম।
চলাচল রাস্তার পূর্ব- পশ্চিম পাশ বন্ধ করে দিলেও দক্ষিণ পাশে ধানি জমি ও উত্তর পাশে বসতবাড়ি থাকায় বর্তমানে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই।
জানা গেছে, ওইচলাচল রাস্তা বন্ধ করায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বয়োজ্যেষ্ঠ ও অন্তসত্ত্বা নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো। কোন মতে উত্তর পাশের একটি সরু পথ দিয়ে ঘুরে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন তারা। এছাড়া কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কুলে করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হয়।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ সাইফুল, আব্দুস সালাম, আব্দু শুক্কুর, মোহাম্মদ আরিফ, মোঃ নুরুল কাদের মোহাম্মদ হানিফ, মোহাম্মদ সাইমন ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমরা রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছি। প্রতিবেশি মোক্তারের পরিবার আধিপত্য বিস্তার ও তারই পুত্র তহসিলদার ছৈয়দ নুরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। পাশের একটি সরু পথ দিয়ে যেতে হয়। যা খুবই কষ্টসাধ্য ও এভাবে যেতে সময় নষ্ট হয়।
অবরুদ্ধ পরিবারের নারী সদস্যরা বলেন, গত কদিন ধরে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে রাস্তার ব্যবস্থা করে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে মোক্তারের পরিবার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওইখানে অভিযুক্ত পরিবারগুলোর কোন জমি নেই। তারা খরিদা মালিক,যেহেতু নিজেদের জমি, তাই নিজেরাই নিরাপদের জন্য ঘেরাবেড়া দিয়েছেন। কারো চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা হয়নি বলে দাবী করেন।
চলচল পথ ছিল কিনা জানতে চাইলে তারা নিজস্ব জমি দিয়ে বিকল্প রাস্তা করে দেয়ার কথা জানান।
ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পেরেছি প্রায় ডজনাধিক পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই অমানবিক। বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে পরিষদে ডাকা হয়েছে। তারা বিকল্প রাস্তা করে দেয়ার কথা বলেছেন। আশা করি উভয়ের পরামর্শক্রমে বিষয়টির মিমাংসা করা হবে।