‘আল্লাহর রং গ্রহণ করো; আর রঙের দিক থেকে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে?’-পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১৩৮ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া বলেছেন, মানুষের জীবনকে আল্লাহর নির্দেশিত আদর্শ ও মূল্যবোধে রাঙিয়ে তুলতে হবে। দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের গুহাট্রা গ্রামে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার ১২৭তম শাখার শুভ সূচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ডিরেক্টর আসলাম মিয়া মাদরাসার নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা ঘোষণা করেন। এ উপলক্ষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ডিরেক্টর আসলাম মিয়া। মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত সমর্থিত সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. আসগর আলী, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আতাউর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ, সোনারগাঁ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইব্রাহীম, আসদুল ইসলাম মোল্লা, পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাংবাদিক মুহাম্মাদ শাহজালাল মিয়া, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট সারোয়ারসহ স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার, গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম-খতিব, আলেম-ওলামা ও সাংবাদিকরা।
বক্তারা বলেন, তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সারাদেশের ১২৭টি শাখার মধ্যে সোনারগাঁয়ের এ শাখাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
তারা বলেন, তানযীমুল উম্মাহ বাংলাদেশের একটি পরিচিত ও সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। সোনারগাঁয়ের মতো গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা উপকৃত হবেন।
বক্তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয় আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এটি গ্রামীণ জনপদ। তাই এলাকার শিশুদের দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সহজ করতে মাসিক বেতন ও অন্যান্য খরচের ক্ষেত্রে পরিচালকদের সহনশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। এতে আরও বেশি শিশু কোরআন হিফজ ও দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার নতুন শাখার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।