৬১টি সড়ক ও ৬টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত; সরেজমিন পরিদর্শনে এমপি শাহজাহান চৌধুরী, প্রাথমিকভাবে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে উপজেলার ৬১টি সড়কের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার অংশ এবং ৬টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অবকাঠামো সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বাস্তব চিত্র দেখতে বুধবার বিকেলে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ঘুরে দেখেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং বন্যায় সৃষ্ট দুর্ভোগ সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর প্রাথমিক জরিপে ৬১টি সড়কের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার অংশ এবং ৬টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জরুরি মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তীতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সড়কের একাধিক স্থানে ধস, ভাঙন এবং পিচ উঠে যাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ খালে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাইম উদ্দীন জানান, আমিলাইষের খোদারহাট-হিলমিলি-কাঞ্চনা সংযোগ সড়কের কয়েকটি স্থানে রাস্তা খালের দিকে দেবে গেছে। এছাড়া একাধিক অংশে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
অন্যদিকে, চরতি ইউনিয়নের শিক্ষার্থী এরফানুল হক বলেন, মৌলবির দোকান-চরতি-দুরদরী সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সেখানে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি মেরামতের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ না করলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ছবির ক্যাপশন: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের একটি সড়ক পরিদর্শন করছেন স্থানীয় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী