ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা বিএনপি নেতা-কর্মী ও নিউইয়র্কপ্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি-সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার একটি সুযোগ। তবে এটি তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রত্যাশা।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার সফরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি
২২ সেপ্টেম্বর
সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এরপর ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন তিনি। এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এদিন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানও রয়েছে।
য়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ
নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দিতে পারেন। তাঁর জন্য প্রায় ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রয়েছে বলে সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এরপর রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৫ সেপ্টেম্বর
জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এ ছাড়া কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের শেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রাত ১১টায় নিউইয়র্ক সময় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।