1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
টেন্ডার বিহীন অর্থ লোপাট মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানীর  - দৈনিক শ্যামল বাংলা
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
এলজিআরডি মন্ত্রীর সাথে সাইবার ইউজার দলের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ  নাঙ্গলকোটে ভূয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা প্রদান : জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি ২২ অবৈধ পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চিহ্নিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ সাংবাদিকরা সাইবার সুরক্ষা আইনের শিকার হোক, সেটা আমরা চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগুরার মহম্মদপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের  উদ্বোধন  ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবের বার্তা নিয়ে লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মৌডুবী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী যুবদল নেতা লিটু গাজী প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগ ‘রিলিফ’ বাস্তবায়ন করল জেসিআই ঢাকা ডায়নামিক

টেন্ডার বিহীন অর্থ লোপাট মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানীর 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩২৮ বার

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থ লোপাট ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার ছাড়া কাজ পাওয়া এবং ইচ্ছেমতো পাথর উত্তোলন, লেবার নিয়োগ, উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ক্রয় ও বিপণনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি, যা কিনা পেট্রোবাংলার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। বিশেষ করে, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিভিন্ন কাজ ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে দেওয়া এবং এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে, কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিভিন্ন মহল থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী পেট্রোবাংলার অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। যার মূল উৎপন্ন দ্রব্য পাথর। এই পাথর উৎপাদন ব্যয় নির্ভর করে উৎপাদন খরচের উপর। তবে উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ক্রয় ও লেবার নিয়োগের মধ্যে রয়েছে ব্যপক অনিয়ম। গত স্বৈরাচার সরকারের সময় সুবিধাভোগী শ্রেণি টেন্ডার ছাড়া অবৈধভাবে চাপ দিয়ে জিটিসির (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) সঙ্গে ৬ বছর ধরে কাঁচামাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করে নেয়া হয়। যা এখনো সেই চুক্তি বলবৎ আছে। ফলে দেশের কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে (ডেটেনটর ও এমোনিয়াম নাইট্রেট) কাঁচামালের মূল্য অনেক হ্রাস পেয়েছে। অথচ জিটিসির (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়া প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ অধিক মূল্যে কাঁচামাল ক্রয় করছে।

অভিযোগ আছে, মধ্যপাড়া মাইনিং গ্রানাইট কোম্পানির জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা কাঁচামালে বাজার মুল্য থেকে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি দাম দেখানো হচ্ছে। কোন ধরনের টেন্ডার ছাড়াই এই কাজ করে যাচ্ছে কোম্পানিটি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল হিসেবে ডিটোনেটর এনং এমোনিয়াম নাইট্রেড ক্রয় করা হচ্ছে। সেগুলোও বাজার মুল্য থেকেও অনেক বেশি দামে ভাউচার করে থাকে।

শ্রমিক নিয়োগ নিয়েও রয়েছে অস্বচ্চতার অভিযোগ। কাগজে কলমে অনেক শ্রমিক থাকলেও বাস্তবে তা নেই। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দেয়া ও যখন তখন শ্রমিক ছাটাইয়ের অভিযোগ রয়েছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। এছাড়া দেশের কনস্ট্রাকশন খাতে কম দামে পাথর সরবরাহে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বাজার হারাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। যা ধীরে ধীরে পেট্রোবাংলার এ প্রতিষ্ঠানটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হচ্ছে।

জিটিসি (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) গত ৩-৪ বছরে পেট্রোবাংলার অবৈধভাবে কোটি টাকা লুটপাট করছে। যার হিসাব হওয়া জরুরী বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোম্পানিটির অর্থ লোপাটের হিসাব হওয়া জরুরী। জিটিসি (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) একটি কনসালিটিং ফার্ম। অথচ টেন্ডার ছাড়া টানা ৬ বছর পন্য সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদেরকে জবাবদিহির ভেতর আনা উচিৎ বলে মনে করেন তারা।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এটা ওপেন টেন্ডার করা হয়। সেখানে যে রেট পড়ে সে দামেই কেনা হয়। ওখানে ৩-৪টা রেট পড়ে। এখন মূল বিষয় হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দামটা অনেক কমে গেছে। মার্কেট আপ ডাউন করে। যুদ্ধের সময় দাম বেশি ছিল। এখন দাম কমে গেছে। এটা এমার্জেন্সি আইটেম। যে ভেন্ডর, সে বেশি দাম চাচ্ছে। এখন মার্কেটে যদি ৩০টাকা দাম থাকে আর সে যদি ১০০ টাকা চায় তাহলে আমরা কী কিনবো? এটা জনগণের টাকা। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থে কিছু কাঁচামাল ডাইরেক্ট কেনা হচ্ছে। এখন আমি চাইলেই ইচ্ছেমতো সবখান থেকে কিনতে পারবো না। ’

ওপেন টেন্ডার আহ্বান করা হয় কী না – জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। ওপেন টেন্ডার আয়োজন করা হয়। টেন্ডার ছাড়া কিছু করা হয় না। এখন মাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা সরকারি আদেশ ফলো করেই করে থাকি। এমন অভিযোগ কেউ করলে সেটা সঠিক নয়। পিপিআরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ওপেন টেন্ডারে কিনি বা লিমিটেড টেন্ডারে কিনি-পিপিআরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

জিটিসির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জিটিসির সঙ্গে ৬ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। তিন বছর শেষ, এখনো তিন বছর আছে। তারা কনটালটেশন নয়, তারা প্রোডাকশন ডেভেলপমেন্ট করে থাকে। আপনারা তো জানেনই গত সরকারের আমলে কেমনে চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি রিভিউ করার জন্য উপরে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করতাছি। এটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।’

এক প্রশ্নে জাবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রোডাকশন হচ্ছে প্রতিদিন। এই পাথরগুলো যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। এখন তাদের হঠাৎ বাদ দিয়ে দিলে চালাবে কে? এটা চালানোর মতো প্রযুক্তি ও ম্যান পাওয়ার আমাদের নেই। আমরা ধীরে ধীরে ডেভলপ করতাছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই আমরা শূণ্যস্থান পূরণ করে ফেলবো। আর চুক্তি বাতিল করারও প্রক্রিয়া আছে। সে গুলো চলমান আছে। আমাদের এখান থেকে কিছু করা নেই। আর শ্রমিকের বিষয়টা আমরা দেখি না। তা ঠিকাদার বলতে পারবে। কত লেবার নিবে এটা আমাদের জানার দরকার নেই। ওদের আমাদের চুক্তি ৫ টনে এতা টাকা পাবে। এখন সেই পাঁচ টন পাথর ওঠাতে ওরা যদি ৫০০ লেবার ব্যবহার করে- সেটা আমাদের দেখার দরকার নেই। আবার তারা যদি কোন লেবার ছাড়াই কাজ করতে পারে তাতেও আমাদের কোন আপত্তি নেই।’

জিটিসির (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) কর্মকর্তা ডা. ফারুখ হোসাইন বাবুকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net