ঢাকা   ০৫:৫৫:৪৮ এএম, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  চন্দনাইশে নানা আয়োজনে সাংসদ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত চন্দনাইশে উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল মাটিরাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশী নিহত মাগুরায় ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  আনোয়ারা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সাথে, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শিক্ষা সফরের আনন্দ রূপ নিল বিভীষিকায়, প্রাণ হারালেন শিক্ষিকাসহ দুজন- আহত ৩০

অল্প জমিতে বড় সম্ভাবনা: নবীনগরে সুইট কর্ণ চাষে সাফল্য

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৪০৬ বার
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

ইব্রাহীম খলিল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো সুইট কর্ণ (Sweet Corn) আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন বীরগাঁও ইউনিয়নের কেদারখোলা গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন। অল্প জমিতে আধুনিক কৃষি জ্ঞান ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি সম্ভাবনাময় এই উচ্চমূল্যের ফসল চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

জানা গেছে, নতুন ফসল আবাদে আগ্রহী কৃষক জাকির হোসেন এর আগেও উপজেলায় প্রথমবারের মতো বিটরুট চাষ করে সাফল্য পেয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে তিনি মাত্র তিন শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সুইট কর্ণ আবাদ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি বীজপাতা কোম্পানির ‘সুইট গোল্ড’ জাতের সুইট কর্ণের বীজ রোপণ করেন।

 

শুরুতে নতুন ফসল নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, সবুজ সতেজ পাতা ও শীষ ধরার দৃশ্য দেখে তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। প্রথমবার চাষ করেও ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি আশাবাদী। এক বিঘা জমিতে প্রায় দেড় কেজি সুইট কর্ণের বীজ প্রয়োজন হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা সম্ভব।

 

সুইট কর্ণ সাধারণ ভুট্টার তুলনায় নরম, রসালো ও মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় শহরাঞ্চলে এর চাহিদা বেশি। সালাদ, স্যুপ, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ফসল স্বল্প সময়ে (৭০–৮০ দিন) সংগ্রহ করা যায় এবং বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে ভালো হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

কৃষক জাকির হোসেন বলেন, “আমি আগে কখনো সুইট কর্ণ চাষ করিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শে ছোট পরিসরে শুরু করেছি। তিন শতাংশ জমিতে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এলাকার মানুষকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

 

তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে আশপাশের কৃষকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। অনেক কৃষক মাঠে এসে সুইট কর্ণ চাষ পদ্ধতি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নবীনগরে এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সফলতা অব্যাহত থাকলে সুইট কর্ণকে একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগের মাধ্যমে ফসলটিকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন,

“সুইট কর্ণ একটি স্বল্পমেয়াদি ফসল, মাত্র ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। পাশাপাশি গাছ সবুজ থাকায় এটি সাইলেজ হিসেবে গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। জাকির হোসেনের এই উদ্যোগ নবীনগরে ফসল বৈচিত্র্যকরণ ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

 

কৃষক জাকির হোসেনের এই সফলতা নবীনগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে সুইট কর্ণ আগামী দিনে এই অঞ্চলের কৃষিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি