সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে ধানের বীজ তুলে দেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী।
এ সময় শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সেই ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে সরকার, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কৃষকদের আবারও উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে যা যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষকরা দ্রুত আবাদে ফিরতে পারলে খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসহাক, আইবিডব্লিউএফের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষিজীবী ইউনিয়নের সেক্রেটারি দিদারুল ইসলাম, সাতকানিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকরা।
একই দিন বিকেলে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীজ বিতরণ করেন শাহজাহান চৌধুরী। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম, আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন, কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক, বিআরডিবির চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ ছালেহ এবং জামায়াত নেতা মাস্টার মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কৃষকরা দ্রুত নতুন করে আবাদ শুরু করতে পারবেন, যা কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।