1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
নয়ন যেন শীতের আনন্দ - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিকে অভিনন্দন: এলাকায় মিষ্টি বিতরণ  আনোয়ারায় মাদক সেবনের দায়ে তিনজন কারাদণ্ড মাগুরায় ভূতুরে বিল! পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত! বিদ্যুৎমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ মাগুরায় প্রতিবন্ধী ও স্বামীহারা সাহিদা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত! অর্থাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন – জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম  নবীগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি প্রদান  মাগুরায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত  দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতি রাশিয়ার বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬ মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন: কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন 

নয়ন যেন শীতের আনন্দ

সাজিদ মোহন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৭৪ বার

শীতকাল এলে গ্রামের ছেলেপুলেদের ঘুম ভাঙে একজনের মিষ্টি মধুর ডাকে। ‘মোয়া লাগবে মোয়া…এই মোয়া লাগবে…মোয়া…।’ আশ্চর্য হলেও সত্য,গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছর কুয়াশা ঢাকা, শিশির ভেজা শীতের সকালে গ্রামের মেঠো পথে হেঁটে হেঁটে মাথায় ঝাকাভর্তি ‘আনন্দ’ নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে হাজির হয় নয়ন মজুমদার(৪০)। তার ডাকে ঘুম ভেঙে মোয়ার ঝুড়ির চারচাপে ঘিরে ধরে ছেলে বুড়ো সবাই।

নয়নের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে। শারীরিক প্রতিবন্ধী নয়ন পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেনি। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর লেগে পড়ে বাবার সঙ্গে মোয়া বানানো ও বিক্রির কাজে। অন্য কোন কাজ করতে না পারায়, ছোটবেলা থেকে এখন অব্দি এই কাজটাই সে করে আসছে ।

১২ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে নয়নদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শীতবিকেলের মিঠে হয়ে আসা রোদে উঠনে দুটি মাটির চুলার সামনে মোয়া তৈরীর জন্য মিঠাই গরম করছেন নয়নের মা বিপুল মজুমদার(৬০)।

চুলায় জ্বাল দিতে দিতে তিনি জানান, ৩ বছর বয়সে নয়নের নিউমোনিয়া হয়েছিল। ৬ মাস হাসপাতালে জীবন মরন যুদ্ধের পর নয়ন বেঁচে ফিরলেও, ওর মুখে জড়তা এসে যায়। স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সে কোন ধরনের সরকারি বেসরকারি সুযোগ সুবিধা পায় না।

মা, বা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে নয়নের ছোট সংসার। মোয়া বানানোর কৌশল পুরোপুরি রপ্ত করতে না পারলেও, সে জানে কাগজ- আঁঠা দিয়ে ঠোঙা তৈরীর কৌশল। মায়ের পাশে মাদুর পেতে ঠোঙা বানাতে বানাতে নয়ন জানায়, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোয়া বিক্রি করে। এ কাজটা করতে তার আনন্দ লাগে। মূলত মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া ও টফি বিক্রি করে সে। অবসর সময়ে ঠোঙা বানায়, বিকেলে বাজারে বাবার সঙ্গে দোকানে সময় দেয়।

কথার ফাঁকে ফাঁকে শীতের কাপড় পরে, মাথায় তেল মেখে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন নয়নের বাবা ছিদাম মজুমদার(৭০)। এতক্ষণ বানানো মোয়া নিয়ে স্থানীয় গুপ্তছড়া বাজারে সন্ধ্যার হাটে যাবেন তিনি। সেখানে তার ছোট একটা দোকান আছে। সিদাম বলেন, ৪০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। এখন শরীরে আর কুলোয় না, চোখে কম দেখেন, কানে কম শোনেন। আগের তুলনায় বিক্রি এখন কম। মোয়া-মুড়ির মত খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখন কমে গেছে।

২০ বছর আগে কোন এক শীতের সকালে নয়নের ডাকে ঘুম ভেঙে লেপ কাঁথা থেকে দুই হাতে চোখ কচলাতে কচলাতে বেরিয়ে আসা ছোট্ট শিশুটি আজ ৩০ বছরের যুবক আহসান। চাকরী করছেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি বলেন, তার মতো তার ছোট মেয়েটিরও সকালে মাঝে মাঝে ঘুম ভাঙে নয়নের ডাকে। এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় নয়ন ভাইয়ের ডাকে সকালে আমাদের ঘুম ভাঙতো। উঠোনে যেন আনন্দের জোয়ার বয়ে যেত তখন। সবাই তাকে ঘিরে ধরে হইচই করে মোয়া কিনতাম। সে এক অন্যরকম সুখের সময় ছিল।

সময় বয়ে যায়। পাল্টে যায় পরিপাশ্ব। তবুও, প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমুদ্রঘেরা এক পাড়াগাঁয়ে, খালি পায়ে শীতের শিশির মেখে খুব সকালে বাড়ি বাড়ি মুঠো মুঠো আনন্দ বিলিয়ে দিতে নয়নের বয়স যেন বাড়ে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net