1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
কবে যেন আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। - দৈনিক শ্যামল বাংলা
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরায় ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ৩ ইটভাটাকে ১৫লাখ টাকা জরিমানা সোনারগাঁয়ে কাজীর ওপর হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জামায়াতের মাগুরায় মাদক বিরোধী অভিযানে নারীসহ গ্রেফতার -২ ৪ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি প্রাইভেট কার ১টি মোটরসাইকেল ও ৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার! মাগুরায় ১১দলীয় ঐক্য জোটের খুলনা বিভাগীয় লং মার্চের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত রামগড়ে দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে চাল বিতরণ, বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা সাতকানিয়া আমিলাইষে দুর্গোৎসবে ১০০ পরিবারকে বস্ত্র উপহার দিলে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান  কুমিল্লায় তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার অনাবাসিক শাখার উদ্বোধন গত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের মিথ্যা শেখানো হয়েছে” মাগুরায় এমপি মনোয়ার হোসেন খান মাগুরায়  ৭৫ জন অসহায়কে আর্থিক সহায়তা ও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত  মাগুরার শ্রীপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত 

কবে যেন আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।

নেহাল আহমেদ। কবি ও সাংবাদিক।
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৪৯৫ বার

আমরা কোন সমাজে বাস করছি।আমাদের চাওয়া কি? আমরা যে স্বর্গের কথা চিন্তা করি সেটা কি স্বর্গে বানানো সম্ভব?ইদানিং সমাজ মাঝে একটা কমন রোগ হয়েছে। ভাল্লেনা রোগ।কি করলে ভালো লাগবে তা আমরা জানি না যার কারনে ভালো লাগার জন্য কখনো দৌড়াচ্ছি আবার কখনো থেমে যাচ্ছি। ভালো লাগার জন্য বিভিন্ন চাহিদা তৈরি হচ্ছে।সেই চাহিদা শেষ পর্যন্ত কাল্পনিক চাহিদায় পরিনত হয়েছে।কাল্পনিক চাহিদার সমবপর্কে মার্ক্স বলেছিলেন পুঁজিবাদ এমন সব জিনিস তৈরি করবে, যা মানুষের দরকার নেই, কিন্তু তারপরেও সে বস্তুর চাহিদা তৈরি হবে। একেই তিনি ‘কাল্পনিক চাহিদা’ বলে নাম দিয়েছিলেন।

যেমন ধরা যাক, ফ্যাশন। চলতি হাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে কাপড়-চোপড় পরতে গিয়ে আমরা এমন সব কাপড়-চোপড় ফেলে দিচ্ছি যেগুলো আসলে এখনো ব্যবহার করা যায়।
অথবা স্মার্টফোনের কথাই ধরা যাক । যে স্মার্টফোনটি আপনার হাতে আছে, তার তুলনায় বাজারে আসা নতুনটির তফাৎ খুব সামান্যই। তারপরও ফোন কোম্পানিগুলো বিরামহীন নতুন মডেল উদ্ভাবন করে বাজারে ছাড়ছে এবং সর্বশেষ মডেলের ফোনটির জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা চলছে ভোক্তাদের মধ্যে।মুক্তবাজার অর্থনীতি আমাদের মাঝে চাহিদা তৈরি করছে।মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং কর্পোরেট পুঁজিবাদের একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থাপনা যখন বিশ্বের সম্পদকে গুটি কয়েক পরিবারের হাতে পুঞ্জিভ’ত করে তুলছে, তখন সম্পদের সুষম বন্টনই এ সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত অর্থনীতির সুষম বন্টন ব্যবস্থাই শান্তি, সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত।এই অর্থনীতির সুষম বন্টন যদি না হয় আমাদের কি সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে একবার কল্পনা করুন।আমাদের ভোগবাদীর দিকে ধাবিত করছে কারা।আগে মানুষ পর্যাপ্ত সময় পেতো অবসরের।

এখন মানুষের অবসর কোথায়? আমরা যত ভোগবাদী হয়ে উঠছি আমাদের কাছ থেকে আমরা দুরে সরে যাচ্ছি।বর্তমান সময়ের একজন আধুনিক মানুষকে সপ্তাহে প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়। জাপানিরা ভোগবাদের এই ফাঁদে টিকে থাকার জন্য দিনে আট/নয় ঘণ্টা পরিশ্রমের সঙ্গে প্রতিদিন চার/পাঁচ ঘণ্টা ওভারটাইম করে থাকে। সপ্তাহ শেষে তাদের অনেককেই মেট্রো স্টেশনে জ্ঞানহীন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত এই কাজের চাপে প্রতি বছর জাপানে প্রায় ১০,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। জাপানি ভাষায় এটাকে বলা হয় ‘কারোশি’ বা কাজের চাপে মৃত্যু। পুঁজিবাদী পৃথিবীতে গরিব থাকা ‘অন্যায়’। এখন একটা বাড়ী কিংবা গাড়ীতে আমাদের সোসাইটিতে মানায়না।বিলাসিতা ক্রয়ের এই প্রতিযোগিতায় আমরা প্রতিনিয়ত অনেক বহুজাতিক কোম্পানির ফাঁদে আটকা পড়ছি।অসুস্থ ভোগবাদী মানুসিকতা ও সমাজ ব্যবস্থার কারণে আমরা সবাই একে অপরকে বিষ খাওয়াচ্ছি এবং খাচ্ছি,ধোঁকা দিচ্ছি এবং ধোঁকা খাচ্ছি, অন্যয় করছি এবং অন্যায়ের স্বীকার হচ্ছি কিন্তু তবুও আমাদের বোধের দুয়ার খুলছে না আত্মকেন্দ্রিক ভাবনার কারণে।আমাদের অদূরদর্শী চিন্তা ফলে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ বানিয়ে একটি ভয়ংকর সমাজ গড়ে তুলে সমগ্র জাতিকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছি।আমাদের নৈতিকতা, সামাজিক মুল্যবোধ, দায়বদ্ধতা কিছুই আর নাই।আমরা শিক্ষা গ্রহণ করছি অর্থ উপার্জনের জন্য।আগে আমরা একান্নবর্তী পরিবারে বাস করতাম। এখন আর একান্নবর্তী পরিবার দেখা যায় না।নিজেদের সুবিধার জন্য আমরা আলাদা হয়ে বসবাস করতে চাই।অনেক সময় জন্মদাতা বাবা মাকে কে আশ্রয় দেবে সেটা নিয়ে ফ্যাসাদ হয়।ক্রশশ বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ে এ সব ভোগবাদী সংস্কৃতি মানুষের মাঝে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা-চেতনা জোরদার করছে। কারণ ভোগবাদীরা নিজের চাওয়া-পাওয়া দিয়েই পৃথিবীকে বিচার করেন। পাশ্চাত্যে ভোগবাদী যে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাতে মানুষের মনে এক ধরণের কৃত্রিম স্বাধীনতা ও মুক্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছে, ব্যক্তি কেন্দ্রিকতার মধ্যেই রয়েছে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা এবং এখানেই কেবল একজন ব্যক্তি তার সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করতে সক্ষম। এই ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি অন্যের প্রতি কোন ধরনের দায়িত্ব অনুভব করে না। দায়িত্ব এড়িয়ে জীবন যাপন করতে পারাকে বড় ধরণের সাফল্য বলে মনে করে। এর ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ে তারা কষ্ট পান না এবং পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে তারা চিন্তিত হন না।আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের ভাবতে হবে। অবশ্যই ভাবতে
হবে।আমরা যে গাছটিকে কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেবেছিলাম/যার উদ্দেশ্যে ধ্রুপদী বিন্যাসে কয়েক অনুচ্ছেদ প্রশস্তি লিখেছিলাম/গতকাল বলাই বাবু বললেন, ‘ঐটি বাঁদরলাঠি গাছ’।… আমাদের কবে সর্বনাশ হয়ে গেছে।”
কবি তারাপদ রায়ের ‘আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে’ কবিতাটি সময়ের কারণে খুব বেশি মনে পড়ছে।

—-নেহাল আহমেদ।
কবি ও সাংবাদিক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net