1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
বন বিভাগের নজরদারীর অভাবে সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রতিযোগিতা - দৈনিক শ্যামল বাংলা
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
হাজী আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে জেলা পুলিশের আয়োজনে আসন্ন দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী বিবাহ নিবন্ধন যুক্ত হবে এনআইডি ও পাসপোর্টে: আইনমন্ত্রী বিয়ে নিবন্ধন হবে অনলাইনে, সহজেই জানা যাবে আগের বিয়ের তথ্য: আইনমন্ত্রী মাগুরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান মনোহরগঞ্জে শিশুর বাবা-মা ঋণের চাপে গ্রাম ছাড়া সেই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বায়েজিদ বোস্তামী থানা মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত  আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে ডিবি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

বন বিভাগের নজরদারীর অভাবে সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রতিযোগিতা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ৩৪৯ বার

নইন আবু নাঈম ঃ
করোনা পরিস্থিতিতে দেশ যখন লক ডাউনের ফঁাদে ঠিক তখনই সুন্দরবনের মায়াবী চিত্রল হরিন নিধনে মেতে উঠেছে চোরা শিকারী চক্র। তারা ফাঁদ পেতে হরিন শিকার করে গোপনে মাংশ বিক্রি করছে। কখনো বা জীবিত হরিন পাচার করে দেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। করোনার কারনে বন বিভাগের নজরদারী অনেকটা শিথিল থাকার সুযোগ নিচ্ছে শিকারীরা। গত এক মাসের ব্যাবধানে শরনখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাচার হওয়ার ২৪টি, মায়াবী চিত্রল হরিন , একমনের অধিক মাংস সহ প্রায় চার হাজার ফুট ফঁাদ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
অনুসন্ধানে-জানাগেছে ,পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেষ্টে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ মায়াবী চিত্রল হরিণ । কিন্তু তা শিকারে যেন এক প্রকার প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে সুন্দরবনে। থামছেনা চোরা শিকারী চক্রের অপতৎপরতা। বিভিন্ন ভাবে শিকারীদের কবলে পড়ে সম্প্রতি মারা পড়ছে বনের অনেক হরিণ। বনের সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগ তৎপর থাকলেও শিকারিরা নানা কৌশলে বনে প্রবেশ করে ফঁাদ পাতা সহ বিভিন্ন কায়দায় হরিণ শিকার করে প্রশাসনের চোখ ফঁাকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে । মাঝে মধ্যে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড সহ পুলিশের হাতে দু -একটি চালান সহ চক্রের ২/৪ জন সদস্য ধরা পড়লেও মুল হোতারা থাকছেন অধরা । শিকারীদের হাতে মারা পড়া ছাড়াও বছরে বাঘের হামলায়ও প্রাণ হারায় এ বনের অনেক হরিণ। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়োতন ৬০১৭ বর্গ কিঃ মিটার । বনের ৭০ ভাগ অংশে রয়েছে সুন্দরী, পশুর, কেওড়া,গেওয়া হেন্তাল, গরান, গোলপাতা এবং বাকি ৩০ ভাগ নদী-ও খালবিল বেষ্ঠিত।
এছাড়া বনের শরণখোলা রেঞ্জের পর্যটক স্পট হিসাবে খ্যাত বঙ্গোপসাগর তীরবতর্ী কটকা, কচিখালী এবং দুবলার চর, আলোর কোল, হিরণ পয়েন্ট সহ বিভিন্ন এলাকা । বিশেষ করে শীত মৌসুমে মায়াবী চিত্রল হরিণের পাল দেখা যায় ওই সকল স্থানে। যা প্রতি বছর প্রায় অর্ধলাখ দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
১৯৯৫ সালের এক পশু শুমারী অনুযায়ী সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার। ১৯৯৬-৯৭ সালের জরিপে ছিল এক লাখ থেকে দেড় লাখ। ২০০১ সালের জরিপে ছিল একই। বর্তমানে বনে হরিনের সংখ্যা বাড়লেও শিকার প্রতিযোগতিায় তা কমতে বসেছে।
শিকারী চক্র ছাড়াও মাছ বা কঁাকড়া আহরনের অনুমতি নিয়ে বনে ঢুকে এক শ্রেনীর অসাধু বনজীবিরাও ফঁাদ, বিষটোপ, কলার মধ্যে বরশি , খাবারের সাথে চেতনা নাশক ঔষধ সহ জাল পেতে বিপুল পরিমান হরিণ নিধন করে থাকেন । ওই সব হরিণের মাংস, চামড়া পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকা ও শহরের এক শ্রেণির উচ্চবিলাসী সমাজ পতিদের বাসায়। আবার হরিণের মাংসের ব্যাবহার করে চাকুরী সহ নানা কাজের তদবীরও চলে। সুত্র জানায়, বনরক্ষীরা গত ২৯ মার্চ বন সংলগ্ন খুরিয়াখালী এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলা মঠবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে দুটি জীবিত হরিন উদ্ধার করেন। এছাড়া ৩১মার্চ, উপজেলার সোনাতলা গ্রাম থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকা ১৫ কেজি মাংস উদ্ধার করেন এবং ১৭,এপ্রিল বনের চান্দেশ্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭শ ফুট ফঁাদ উদ্ধার করেন বনরক্ষীরা। ১মে, ডিমের চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫শ ফুট ফঁাদ সহ দুই শিকারী ২৮,মার্চ বনের চরখালী এলাকা থেকে ৫শ ফুট ফঁাদ ও দুই শিকারী ২ এপ্রিল কচিখালী থেকে ৫শ ফুট ফঁাদ ও দুই শিকারি, এবং সর্বশেষ গত ৪ মে, রাতে শরনখোলা রেঞ্জের টিয়ার চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিন শিকারের ফঁাদ ৭শ,ফুট, ৩ চোরা শিকারী, ৩০কেজি মাংস এবং ২২টি জীবিত উদ্ধার করে বনরক্ষীরা।
পুর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, হরিণ শিকার ও পঁাচার রোধে বনবিভাগ সব সময়ই কঠোর অবস্থানে আছে। তবে, হরিণ শিকার বন্ধে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net