1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
বিত্তশালীদের জন্য সব উন্মুক্ত, বন্ধ নিম্নবিত্তদের আয়ের পথ - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে চোলাই মদ সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নোয়াখালীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিএনসিসি কুমিল্লা রিজিওনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান  আনোয়ারায় ভোজনবাড়ী রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা  সরকার আমার সাথে মনে হয় নাটক করতেছে– মাগুরায় ক্ষুব্ধ আছিয়ার মা আয়েশা বেগম নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টের রায় পেছালো শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন এমপি সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যের সার বিক্রি করায় ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-কে ১০টি নতুন বাস উপহার দিচ্ছে জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন

বিত্তশালীদের জন্য সব উন্মুক্ত, বন্ধ নিম্নবিত্তদের আয়ের পথ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০
  • ৩৪৮ বার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :
করোনার মধ্যেও বিত্তশালীদের আয়ের পথ সুগম হচ্ছে।আর সাধারণ মানুষের অবস্থা দিনদিন করুণ পরিনতির দিকে যাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ধনী-গরিব বৈষম্যে ফুঁসছে মানুষ।বিশেষ করে পোশাক শ্রমিক কারখানা খুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে বিত্তশালীদের আয়ের পথ ঠিকই থাকছে আর সেখানে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়ার ব্যাপারে গড়িমসি হচ্ছে।কারখানার মালিকরা সরকারের দেয়া প্যাকেজ প্রণোদনাও পাচ্ছেন। আর সেক্ষেত্রে শ্রমিকদের মধ্যে অনেকের চাকরি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ দেশের সব শিল্প-কারখানা খুলতে শুরু করেছে।ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে খুলছে শপিং মলগুলোও।বড় বড় রেস্টুরেন্টগুলোও বাহারি ইফতারের পসরা সাজানোর সুযোগ পাচ্ছে।সঙ্গত কারণেই ঢাকার রাস্তায় বাড়ছে বিত্তশালীদের বহনকারী প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা।ব্যবসা-বাণিজ্যের রাস্তা খুলে যাওয়ায় করোনায় সাধারণ মানুষের যে দশাই হোক, আয়ের পথ সুগম হচ্ছে বিত্তশালীদের।এছাড়া করোনা ভাইরাসকে উপলক্ষ্য করে সরকারের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা প্রণোদনা নেয়ার বিষয়টি তো আছেই।সবমিলিয়ে করোনা যেন অনেকটাই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বিত্তশালীদের জন্য।

অপরদিকে নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তও মধ্যবিত্তদের অবস্থা খুবই নাজুক। লকডাউনের নামে ফুটপাতের দোকান এমনকি পাড়ার চায়ের দোকানটাও বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ রাস্তায় কিংবা ফুটপাতে সিজনাল ক্ষুদ্র ব্যবসা চালাতেন তাদেরকে পিটিয়ে বাসায় পাঠানো হচ্ছে।সাধারণ ছুটি থাকায় অনেক দিন আগে থেকেই আয় রোজগার বন্ধ হয়ে আছে রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে পরিবারের অন্ন যোগান দেয়া সব মানুষেরই।সরকার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন দ্বিচারি ভূমিকা এবং বিত্তশালীও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এই বৈষম্যকরণে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে সাধারণ মানুষ।রাগে,দুঃখে অনেকে লকডাউন ভেঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।পুলিশের সাথে বাধানুবাধ বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন,এই দেশে এমনিতেই ধনী-গরিবের বিভাজন যুগ যুগ ধরে চলছে। করোনাকালে সাধারণ মানুষকে ঘরবন্দি করে রেখে, তাদের আয়ের সব পথ বন্ধ করে দিয়ে বিত্তশালীদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং রাস্তায় তাদের নির্বিঘ্নে চলাচল এই বিভাজনকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।তারা বলছেন,যেহেতু সরকারের পক্ষে নিম্ন আয়ের সব মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছেনা,আগে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা কিংবা তাদের আয়ের পথ খুলে দিয়ে বিত্তশালীদের এসব সুবিধা দেয়ার প্রয়োজন ছিলো।এটি না করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,সরকার কি তাহলে শুধু বিত্তশালীদের জন্যই?তারা মনে করছেন,ধনী-গরিবের এই বৈষম্য নিরসন না করে এমনটি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন ভাঙ্গার প্রবণতা বাড়তে পারে এবং সেইসাথে বাড়তে পারে করোনার ঝুঁকিও।

সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে,কোভিড-১৯ প্রভাবে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আক্রান্ত শহরও গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।যারা মূলত ক্ষুদ্রও মাঝারি ব্যবসায়ী,যারা স্বল্প পুঁজি এবং ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার ঋণ নির্ভর হয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র নিত্য খাদ্যসামগ্রীও ওষুধের খুচরাও পাইকারি দোকান সীমিত পরিসরে চালু রাখা ছাড়া সকল ব্যবসায়ী এখন ক্ষতিগ্রস্ত।গ্রামীণ কৃষি,মৎস্য,প্রাণীসম্পদ তথা ডেইরি,পোলট্রি শিল্পে নিয়োজিত কৃষক,চাষি,খামারি সকল উদ্যোক্তাও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। লকডাউনের কারণে বীজ,সার,খাদ্যসহ নানাবিদ উপকরণ সরবরাহে বিঘœতা, সীমিত পরিবহন সুবিধা, শ্রমিক স্বল্পতা সর্বোপরি কাজে যেতে না পারা,এই সকল কারণে ফসলভেদে শস্য উৎপাদন, আহরণ,প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন প্রতিটি ধাপে বিগত দিনে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় এবং নিকট ভবিষ্যতে সমস্যামুক্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়ায় এই ক্ষুদ্র্র ব্যবসায়ী শ্রেণি বিপুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিভিন্ন খাতও উপ-খাতের দিনমজুর,শ্রমিক,চালক, গৃহকর্মী,পরিবহন শ্রমিকও আজ বিপর্যস্ত।শহরে নিত্যখাদ্যদ্রব্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া আসবাব, কারখানা,মেরামতকারী,নির্মাণ সামগ্রী,ইলেক্ট্রিকও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য,গার্মেন্টস,জুতা,শোপিচ ও ফ্যাশন আইটেম ইত্যাদি বহুবিধ ব্যবসায় জড়িত যারা বিপণী বিতান অথবা শহরের রাস্তার দুধারে,অলিতে-গলিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসায়ী বা ছোট দোকানি,পরিবহন ব্যবসায়ী,সরবরাহকারী যারা আত্ম-কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠানে একাধিক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তারাও এখন আয়হীন।

তদুপরি রিকশা,ট্যাক্সি,টেম্পু, রাইডার,কার,মাইক্রো,ট্রাক,বাস ইত্যাদির চালকসহ কোটি শ্রমিক কর্মও আয়হীন হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। অথচ এসব নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের পথ তৈরি করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)তথ্যমতে,২০১৯ সালের জুন মাস শেষে অতি গরিব বা হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা ১কোটি৬০ লাখেরও বেশি। বাংলাদেশে এখন১৭কোটি জনসংখ্যা রয়েছে।সব মিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সোয়া তিন কোটি মানুষ। সরকারি,প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তার জন্য প্রাথমিক দিকে পরিস্থিতি সামলানো গেলেও এখন পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে।বিশেষ করে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী সমাজকে রক্ষায় সরকারের দেয়া প্রণোদনা এবং কল-কারখানা খুলে দিয়ে তাদের আয়ের পথ সুগম করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে এসব নিম্ন আয়ের মানুষ।এছাড়া বিত্তশালীদের মালিকানাধীন বড় বড় শপিংমল, রেস্টুরেন্ট খুলে দেয়ার ঘোষণা এসব মানুষকে আরো ক্ষেপিয়ে তুলেছে।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রমিক দিনমজুর হতে শুরু করে ক্ষুদ্রও মাঝারি ব্যবসায়ীও তাতে নিয়োজিত কর্মী,কৃষক, চাষি,খামারি যারা দেশের মোট কর্মজীবীর বৃহৎ অংশ আয়হীন হওয়ায় সামাজিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
যার পরিণতি হতে ধনী-দরিদ্র কেউ রেহাই পাবে না।তাই যতো দ্রুত সম্ভব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি এসব নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য স্বল্প,মধ্যও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরী।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net