1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
দুঃস্বপ্ন - মাহবুবুর রহমান - দৈনিক শ্যামল বাংলা
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
চন্দনাইশে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১, আহত-২ চন্দনাইশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মাগফেরাত কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল চন্দনাইশে বিমরুলের কামড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ‘দৌড়ান সুস্থতার জন্য, এগিয়ে চলুন বিজয়ের পথে’—স্লোগানে রামগড়ে ম্যারাথনে অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ মাগুরায় লোডশেডিংয়ের গরম থেকে বাঁচতে মসজিদের ছাদে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু! রুপনগর প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ রুহুল আমিন এর মমতাময়ী মায়ের মৃত্যু প্রান্তিক শহরে উন্নত আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি নিয়ে উইপ্রো জিই হেলথকেয়ারের ‘হেলথ এক্সপ্রেস’ চালু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মাগুরায় ১১দলীয় ঐক্য জোটের স্মারকলিপি প্রদান হাটহাজারী মাদরাসা ছাত্র আরিফুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যু : মাগফিরাত কামনায় জামেয়ার মহাপরিচালক আলেমগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই জুলাই আন্দোলন সফল হয় : আল্লামা শেখ আহমদ

দুঃস্বপ্ন – মাহবুবুর রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০
  • ৩১৪ বার


লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক

হঠাৎ মোবাইলের রিং টোন বেজে উঠল। ও পাশ থেকে রোমেল ভাই এর ফোন কই তুমি আমি বাড়ি তাড়াতাড়ি চলে আয়। আর বের হওয়ার সময় সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে বের হবি। প্রাধান সড়কে এসে গাড়ির জন্য দাঁড়াতে দাঁড়াতে বিরক্ত হয়ে গেলাম। কারন একা গাড়ী করে যাব যেন অন্তত সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত হয় কিন্তু কোন গাড়ি না পাওয়ায় ভাগাভাগি করে গাড়ি উঠলাম। পাশে বসেই মাথায় সুরক্ষা ক্যাপ, মাস্ক ও হ্যান্ড স্পে এখন নিয়মিত একটা বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। অনেকটা মানিব্যাগের মত। মেইন সড়কে যেতেই গাড়ি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে। এত দেরি করলি ক্যান বলে রোমেল ভাই দ্রুত ইশারা দিল গাড়িতে উঠতে। গাড়ি উঠেই কিছুটা সামাজিক দুরত্ব দিয়ে বসলাম। সবাই সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করছি।

যেহুতু আমরা প্রতিনিয়ত মহামারীর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ নিয়ে কাজ করি তাই মাঝে মাঝে এক অজানা শংঙ্কা মনের ভিতর প্রায় কাজ করে। এ জন্য সবাই সকল ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে হয়। প্রথম প্রথম মহামারিতে যখন কেউ আক্রান্ত হতো বা মৃত্যু বরণ করত তখন প্রচণ্ড আগ্রহ আর কৌতূহল নিয়ে কাজ করতাম কার আগে কে তথ্য সংগ্রহ করত প্রতিযোগিতাটা এমন ছিল। ছিলাম বেশ সচেতন। একই সাথে আক্রান্ত মানুষটির পূর্ণ তথ্য জানার আগ্রহ ছিল তৃষ্ণার্ত কাকের মত। কত রকম প্রশ্ন কে মারা গেছে বা আক্রান্ত হয়েছে, কখন হয়েছে, কোথায় তার বসবাস এরকম অনেক প্রশ্ন ?

গাড়ি চলে আসলো উপকূলীয় এলাকার কাছে গাড়ি থেকে নেমে দেখি অসহায়, কর্মহীন হয়ে পড়া নদীর পাড়ের মানুষ গুলোর মলিন ও চোখেমুখে অসহায়ের চাপ। সবাই এসেছে এক প্যাকেট খাদ্য সহতার জন্য। সবাইকে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু কেউ মানছেনা।হয়ত সামাজিক দুরত্বটা কি কেউ হয়ত জানে না আবার কারো মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক কি প্রশ্ন করলে অনেকে জানেই না। একজনকে জিজ্ঞেস করা হলো মাস্ক ছিনেন সে তো বলে উঠলো হ ভাই মাছ ছিনিতো তয় ভাই এখানে মাছ নাই বাড়িতে আছে ! অজানা এক হাসি…

ত্রাণ বিতরণ শেষ করে যখন ফিরছিলাম তখন অসহায় মানুষদের কিছু দিতে পেরে মনের মধ্যে আনন্দগুলো সমুদ্রে কুড়িয়ে পাওয়া মুক্তোর মত ঝরে পড়ছে হঠাৎ রিহান ফোন দিয়ে বলল ভাই এ মাত্র দুজন মারা গেছে । খবরটা শুনে যখন আপডেটটা করছিলাম তখন নিমিষে মনটা খারাপ হয়ে গেল কিছু দিন আগেও দশকের ঘর পার করতে কত সময় লাগছিল আজ সেই অংকটা দশক,শতক ও সহস্রের ঘর ফেরিয়ে যেন গুল্মলতার মত বেড়েই চলেছে।

শরীরটা খুব ক্লান্ত সারাদিন প্রচণ্ড রোদের মধ্যে তথ্যের সন্ধানে ছুটাছুটি শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে সহকর্মী কাজল ভাইয়ের সাথে দেখা তার অফিসে বসতেই তিনি এক চমৎকার জিনিস বের করলেন। বের করে বললেন এটা আমার এক ভাই বিদেশ থেকে পাঠিয়েছে এটা দিয়ে এ মহামারির রোগটা আছে কিনা তা নিমিষেই জানা যাবে। তখন উপস্থিত সবাই প্রথমে পরিক্ষা করাতে চাইনে যদি রোগটা ধরা পড়ে তহলে সবার সামনে মুখ দেখবো কি করে। বন্ধু – বান্ধব, আত্নীয় – স্বজন এমনকি নিজের সহকর্মীরা শুনলে কি বলবে এ ভয়ে তখন উপস্থিত আমরা কেউ টেষ্ট করাতে চাইনি পরে কাজল ভাই কৌতূহলে নিয়ে কি যেন বলায় সাবই টেষ্ট করালাম।

দুই মিনিট পর ভাই যখন আমাদের রিপোর্টটা আনলো তখন দেখলাম উনার মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। বলল আমাদের সবার ভিতরে রোগটা আছে। এ কথা শুনার পর সবাই যেন বাজ পাখি হয়ে গেলাম। সাহস নিয়ে দ্রুত বের হয়ে সবাই নিজে নিজে আইশোলেশন সেন্টারে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি আরো কত পরিচিত মানুষ আপানারা এখানে তখন তারা বলে উঠলো আমরা ও তো এ রোগে আক্রান্ত। তখন তাদের দেখে সকল শঙ্কা কেটে গেল এ যেন কালো মেঘ সরে সাদা মেঘের ভেলা ভাসতে শুরু করছে।

হঠাৎ মধ্য রাতে ঘুম ভেঙে গেলো। জেগে দেখি আমি এখনে ঠিক আছি ! ঘুমের ঘোরে জেগে নানা রকম প্রশ্ন আর সংশয় তৈরি হলো। আবার ঘুমিয়ে পড়লাম দুঃস্বপ্ন ভেবে। সকালে উঠে নিজেকে নিয়ে ভাবি এ ভাবে হয়ত আমার মত অনেকে এ ভাবে দুঃসপ্ন নিয়ে মধ্যে রাতে জেগে উঠে ! আর নতুন একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষায় থাকে……

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net