ঢাকা   ১১:৫৭:২৯ পিএম, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের যারা গণহত্যা চালিয়েছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগুরার শ্রীপুরে স্মারক গ্রন্থ ‘স্বপ্ন সারথি’র মোড়ক উন্মোচন এবং বৃক্ষরোপণ মাগুরায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের শপথ নিলেন অধ্যাপক সাইদ আহমাদ বাচ্চু    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২) এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত পরীমণির সঙ্গে কি ঘটেছিল জানালেন সেই সাংবাদিক কুমিল্লার গাংচরে বহুতল ভবনে ফাটলের পর হেলে পড়েছে, মালিকের দাবি ইঁদুরের কাণ্ড মাগুরায় নকল কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা মাগুরা-১ আসনের এম পি মনোয়ার খানের দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত কুমিল্লায় শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন, থাকছে ফ্রি পার্ক রাইড উপভোগের সুযোগ

এতটাকা কাদের জনগণ জানতে চায়!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০
  • ৫৯৭ বার
  • ৯ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার:
বিভিন্নমহল থেকেই এটা বলা হচ্ছে দেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। রাজনীতির কথা বাদ দিলে ও চলমান করোনা বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের ত্রাহী মধুসূধন অবস্থা। প্রতিদিনই খবর আসছে মানুষ তার ক্রয় ক্ষমতা হারাচ্ছে। দিন দিন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কোভিড- ১৯ -এর কারণে মানুষের আয় কমেছে, বেড়েছে বেকারত্ব ।যাদের আয় কম তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। এমন অনেক ব্যক্তি
আছেন যাদের আয়ের উৎস একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। গবেষনার ফলাফলে বলা হয়েছে ,করোনার কারণে দেশের ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুনকরে দরিদ্র হয়েছে।একথাও নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে এরা আগের বেকারে সাথে যুক্ত হলো।

বেকারে মিছিল বড় হবার কারণ ও সকলের জানা । যত কথাই বলা হোক মানুষ মূলত নিজেরা করি প্রকল্পেই জীবন ধারন করে। বিদ্যমান বাস্তবতায় মানুষ কাজহীন হয়ে পড়েছে । বাঁচতে গিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে জীবন বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সত্য নির্মম হলেও ভিত্তিহীন নয় । একটি কঠিন সময় আসছে। ইতিমধ্যে চিড়িয়াখানা ভয়ঙ্কর পশুগুলো খাদ্যাভাবে যেভাবে নির্জিব হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে ও এই প্রবণতা দেখা দিতে সময়ের অপেক্ষা মাত্র। যত মহল থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে মূলত এ দিয়ে অনির্দিষ্টকাল জীবন রক্ষা করানো অসম্ভব। মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছে । এরা গ্রামে গিয়ে কি করবে? জীবিকার প্রয়োজনেই তো গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছিল । বেঁচে থাকার জন্য যাকিছু করার মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এসেছিল। তবে এখন তার ভয়াবহ পরিণতির আলোচনা নিরর্থক। এই যে কর্মহীন এক কঠিন বাস্তবতা গ্রাস করছে চারিদিক এ থেকে উত্তরণের পথ কি?
আমাদের বিজ্ঞ অর্থনীতিবীদরা মূলত প্রচলিত নিয়মেই বাজেট দিচ্ছেন । ভাবছেন অথচ সময় যে আগের জায়গায় নেই বোধকরি সে ভাবনা তাদের ভাবিত করছে না অথবা মাথায় রাখছেন না। আসলে সবাইতো নিজের অবস্থা থেকে অন্যকে মূল্যায়ণ করতে চেষ্টা করেন। প্রকাশিত অন্য খবরে বলা হয়েছে ,২০১৮ সালে যেখানে কোটিপতির সংখ্যাছিল ৭৫ হাজার ৫৬৩ জন ২০১৯ -তা এখন এসে সেই সংখ্যা দাড়িয়েছে ৮৪ হাজারে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব।

প্রকৃত অর্থ হয়ত কোটিপতির সংখ্যা আরো অনেক। কারণ ইতিপূর্বে খবরে দেখা গেছে অনেকের বাসাবাড়িতেই কোটি কোটি টাকা ড্রয়ারে রয়েছে। এত টাকার উৎস কি? এসব টাকা কি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে? প্রথমত পরীক্ষার ফলাফলের মতই বাংলাদেশ ব্যাংকের গেজেট করে কোটিপতি অর্থধারীদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ তাহলে জনগণ বুঝতে পারবে এসব অর্থে‍র প্রকৃত উৎস বৈধ না অবৈধ।একদিকে মানুষের জীবন মরণ সংকট অন্যদিকে কারো কাছে টাকা রাখার জায়গা নেই ।বিদেশে সরকারি দলের লোকজন ধরা খাচ্ছেন অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য। লুণ্ঠিত হচ্চে দেশের মান ইজ্জত। টাকা ঘরে রেখে সূদ খাওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে এই টাকা থেকে জনগণের উপকার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। অর্থছাড়া বিনিয়োগ অসম্ভব।

যাদের টাকা আছে তারা যদি বিদেশে আরাম আয়েশে কাটাবার জন্য অর্থ জমা রাখেন তাহলে দেশে বিনিয়োগের কোন সুযোগ নেই। বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিছাড়া দেশের মানুষের আসন্ন বড় ধরনে বিপদ মোকাবিলার কোন উপায় নেই। বিদেশিরা কি করবে করতে পারবে সেটি সরকারের যারা যোগাযোগ রাখেন তারা বলতে পারবেন তবে বাস্তবতা হচ্ছে সকলেরই এখন ঘর সামলানো দায় হয়ে পড়েছে । এ বাস্তবতায় নিজস্ব উদ্যোগ এবং নিজস্ব প্রয়োজনের তালিকা তৈরি করে তাকে সংরক্ষণের মাধ্যমে কাজের পরিবেশ তৈরিকরা অত্যন্ত জরুরি। যাদের কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে ড্রয়ারে রয়েছে সে টাকাকে জনস্বার্থেই প্রকাশ্যে নিয়ে আসা দরকার । আইন করে হোক বা বাধ্যতামূলকভাবে হোক তা বিনিয়োগে বাধ্য করা জরুরি। বর্তমান কালীন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে । একটি পূরনো শ্লোগান হচ্ছে , “কেউ খাবে তো কেউ খাবেনা তা হবে না তা হবেনা।” সম্পদ মূলত কারো নয় -এটি জনগণের তাই সময় এসেছে জনগণকে সাথে নিয়ে জাতীয় উৎপাদনে সামিল হওয়া এবং এই মুহুর্তে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করে যাওয়া হচ্ছে প্রকৃত নৈতিকতার দায়িত্ব।

অজানার উদ্দেশ্যে পা বাড়ানোয় একধরনের অস্বস্তি আছে। এই অস্বস্তিতেও শান্তির খোঁজ করা খুব জরুরি, এটা আমাদের সবার শিখতে হবে। সব প্রশ্নের উত্তর জানতেই হবে, এমন কথা নেই। উত্তর তোমার কাছে আসবেই, যখন তুমি অজ্ঞতাকে স্বীকার করে নেবে। নতুন কিছু জানার জন্য নিজেকে স্থির করো। চারপাশের শোরগোলে ডুবে তুমি যখন নিজের ভেতরের ডাক শুনতে পাবে না, তখন নিজেকে স্থির করে নিজেকে জানার চেষ্টা করো।

তুমি কীভাবে নিজেকে সমাজের জন্য অপরিহার্য আর প্রয়োজনীয় করে তুলতে চাও? তোমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী? এখন পর্যন্ত তুমি সুস্থ আছ, বেঁচে আছ, এর মানে হলো তুমি ওপরের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সক্ষম আছ। এই সক্ষমতাকে কীভাবে তুমি নিজের, সমাজের আর বিশ্বের কাজে লাগাবে? কীভাবে তুমি হয়ে উঠবে অপরিহার্য? নিজেকে প্রশ্ন করো, স্থির মনে গভীরভাবে ভেবে দেখো।

লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক দ্য ন্যাশনাল ট্রিবিউন -| বিশেষ প্রতিবেদকঃ শ্যামল বাংলা -| সাবেক কাউন্সিলরঃ বিএফইউজে-বাংলাদেশ ও সদস্য( ডিইউজে)

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি