1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
ফাহিম সালেহ, অমিত সম্ভাবনাময় এক বাঙালি তরুনের নির্মম হত্যাকান্ড! - দৈনিক শ্যামল বাংলা
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয়করণের দাবি  মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত  মাগুরায় শ্রীপুরে সোনালী ব্যাংকের এটি,এম বুথের উদ্বোধন  নকলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত  মাগুরায় জামায়াতের ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণ  নবীনগরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা নৈতিক চিত্তের মানুষ তৈরি করতে হলে শিক্ষার্থীদের আদব শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে : এস এম আকাশ অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি : ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর মা‌টিরাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেনির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

ফাহিম সালেহ, অমিত সম্ভাবনাময় এক বাঙালি তরুনের নির্মম হত্যাকান্ড!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০
  • ৩৪৫ বার

শহিদুল ইসলাম বাবুল :
মাত্র ৩৩ বছর বয়স। এত অল্প বয়সেই এই তরুন বাঙালি প্রতিভার জন্য কর্মসংস্থান হয়েছিল লাখ লাখ বাংলাদেশী পরিবারের আর বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার তরুণের।

সম্প্রতি তিনি নিউইয়র্কে নিজ ফ্ল্যাটে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
হাই স্কুলে পড়াকালীন সময়ই এই কিশোর ‘উইজ টিন’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রচুর অর্থ আয় করে এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে আমেরিকা হতে দেশে ফিরে প্রযুক্তি ভিত্তিক কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলো সে। এরমধ্যে ‘পাঠাও’ নামক মোটর বাইক শেয়ারিং ‘এপ’ বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ৷

ফাহিম চাইলে শুধু পাঠাও দিয়েই বিলাসী জীবনযাপন করতে পারত। কিন্তু ওর রক্তে ছিল নতুন নতুন আবিষ্কারের নেশা। ২০১৮ সালে পাঠাওয়ের শেয়ার বিক্রি করে ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে নজর দিয়েছিল। নাইজেরিয়ায় বাইক ভিত্তিক এপ “গোকাডা” চালু করে ১ম বছরেই উপার্জন করেছিল ৫৩ লাখ ডলার। কলম্বিয়াতেও চালু করেছিল এ ধরনের ব্যবসা আর ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিল ইন্দোনেশিয়াসহ আরো কিছু দেশে।
তবে নাইজেরিয়ায় রাইড শেয়ারিং, সরকার বন্ধ করে দিলে গোকাডা শুধু পণ্য ডেলিভারির কাজ করত।

সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে ফাহিম একটি নতুন কোম্পানি চালু করেছিল। ফাহিম বিল গেটস হতে পারত, জুকারবার্গ হতে পারত অথচ সে কিনা হয়ে গেলো টুকরো টুকরো লাশ। সম্ভবত ওর তুখোড় মেধার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না পেরে প্রতিপক্ষ ওকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিলো।

মাত্র ৩৩ বছর বয়সের একটা অবিবাহিত যুবক, যার নেয়া উদ্যোগে জীবিকা নির্বাহ করত হাজার হাজার তরুণ। ফাহিম বেঁচে থাকলে আরো কত লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারত ভেবেছেন?

ফাহিমের বাবা উনার ছোট ৩ ভাইকেই হারিয়েছেন অল্প বয়সে। এখন হারালেন একমাত্র ছেলেকে। আর বাংলাদেশ হারাল এক অমূল্য রত্ন। আমি জানি না ফাহিমের পরিবার কিভাবে এই কষ্ট ভুলে থাকবে।

নিউইয়র্ক পুলিশ ফাহিমের হত্যাকান্ড হাই প্রোফাইল কেইস হিসেবে নেয় এবং খুনের মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই খুনীকে গ্রেফতারে সমর্থ হয়।

খুব ঘনিষ্ঠ মানুষদেরই নাকি কারো ক্ষতি করার সবচেয়ে ভাল সুযোগ থাকে। ফাহিম হয়ত ভাবেইনি সবচেয়ে বিশ্বাস করা, একসাথে দিনরাত কাজ করা ছেলেটাই তাকে খুন করে খন্ড বিখন্ড করবে।

খুনী ফাহিমের শেষ ৪ বছরের ব্যক্তিগত সহকারী, ২১ বছরের তরুণ Tyrese Devon Haspil। ১৭ বছর বয়স হতেই একসাথে কাজ করা ডেভন, কিছুদিন ধরেই ফাহিমের হাজার হাজার ডলার চুরি করছিল। ধরা পড়ার পর ফাহিম পুলিশে রিপোর্ট না করে ডেভনকে ইন্সটলমেন্টে পুরো টাকা পরিশোধের সুযোগ করে দিয়েছিল। এইখানে ফাহিম মানুষ চিনতে বড় ভুল করেছে। পুলিশে রিপোর্ট করা থাকলে ডেভন ওর ক্ষতি করার সাহস করত না। মেরে দেয়া টাকা পরিশোধ না করার জন্য ডেভন ফাহিমকে খুনের পরিকল্পনা করে।

সোমবার দুপুরেই ফাহিমের এপার্টমেন্টে ওকে খুন করা হয়। লিফট হতে বের হবার পর এপার্টমেন্টে প্রবেশের আগে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়৷ ডেভন একটা টিজার গান ব্যবহার করে ফাহিমকে অজ্ঞান করে এবং পরে এপার্টমেন্টের ভিতরে নিয়ে গলা আর ঘাড়ে কয়েকবার ছুরি মেরে হত্যা করে। সেদিন ডেভন চলে গিয়ে পরদিন লাশ গুম করে দেয়ার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে আবার ফিরে আসে। ইলেক্ট্রিক করাত দিয়ে কেটে ব্যাগে ভরার সময় ওর বোন এসে বেল দিলে ডেভন ওভাবেই সব ফেলে পিছনের সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যায়।
যে মানুষটা ওকে চুরির দায়ে জেলে না দিয়ে আরেকটা সুযোগ দিয়েছিল, তাকেই হত্যা করল ডেভন। স।ভবত এজন্যই বলা হয়, মানুষের চাইতে নিষ্ঠুর আর অকৃতজ্ঞ প্রানী আর হয় না।
‘ডেভন’ শুধু একটা নিরীহ প্রানই হত্যা করেনি বরং হত্যা করেছে বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তানকে, হত্যা করেছে এক অমিত সম্ভাবনাময় বাঙালি যুবককে, হত্যা করেছে লাখ লাখ মানুষের জীবন আর জীবিকা গড়ে উঠার সম্ভাবনাকে।

‘ডেভন’কে শুধু একবার যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদন্ড দেয়াও অনেক কম শাস্তি হয়ে যায় বরং বারবার জীবিত করে বারবারই তাকে হত্যা করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net