ঢাকা   ১১:৪০:৪৯ এএম, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আমজাদ এন্টারপ্রাইজের কেমিক্যালের ড্রাম ব্যবসা, দূষণের ঝুঁকিতে কর্ণফুলী নদী, আতঙ্কে নোমান কলেজ রোডের বাসিন্দারা মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত টঙ্গীর রাজনগরে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, মাফিজুরের গ্রেপ্তার দাবি ভুক্তভোগীদের নকলায় জাতীয় যুব দিবসে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও ঋণ বিতরণ সাউন্ড গ্রেনেডে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ, মিরপুরে যান চলাচল স্বাভাবিক এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী মাগুরার শ্রীপুরে মাদ্রাসার ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি হত্যা 

শরণখোলায় প্রতিবন্ধী পরিবারের বসতভিটা দখলে মরিয়া প্রভাবশালী চক্র!

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৭৫৩ বার
  • ১০ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

নইন আবু নাঈমঃ
বাগেরহাটের শরনখোলায় প্রতিবন্ধী পরিবারের বসতভিটা দখলের জন্য গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এমনকি প্রতিবন্ধী পরিবারটির বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করে অহেতুক হয়রানি করে চালাচ্ছেন। বর্তমানে প্রভাবশালী চক্রের হুমকি-ধামকি সহ মারপিটের ভয়ে তিন মাস ধরে গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পুর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে প্রভাবশালী মোঃ আবুল বাশার ফকির ও তার শ্যালক উপজেলার রাজৈর এলাকার বাসিন্দা মোঃ শাহআলম মোল্লা, মোঃ মোশারফ হোসেন মোল্লা ও মোঃ কামাল হোসেন মোল্লার ইন্ধনে একই এলাকার বাসিন্দা শ্রবণ প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ মোঃ আবুল কালাম ফকির ও তার পরিবারের সদস্যদের এলাকা থেকে তাড়ানো সহ একমাত্র সম্বল মাথাগোঁজার ঠাঁই বসতভিটার প্রায় ৮শতক সম্পত্তি দখল করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যহত রেখেছেন। নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী আবুল কালাম (৬৫) ও তার স্ত্রী রাহিমা বেগম (৪২) বলেন, আবুল বাশার তার পরিবারবর্গ নিয়ে দীর্ঘ বছর ঢাকায় চাকুরী করে বহু টাকার মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি তারা বাড়ীতে আসলে স্ত্রী নুরজাহান বেগমের ভাই উপজেলার রাজৈর এলাকার বাসিন্দা শাহআলম মোল্লা, মোশারফ হোসেন মোল্লা ও কামাল হোসেন মোল্লার ইন্ধনে আমাদের উপর নানা ধরনের নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি আমাদের বসতভিটার সম্পত্তি টুকু দখলের জন্য আমাদের ১০বছর বয়সী ছেলেকেও তাদের দ্বায়েরকৃত অভিযোগে আসামী করেছেন। ইতিমধ্যে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ রটিয়ে আবুল বাশার এবং তার ছেলে মিলন ফকির ইউনিয়ন পরিষদ সহ মানবাধিকার সংগঠনে ২টি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা অসুস্থ হয়েও চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খাঁনের কাছে গেলে তিনি আমাদের দেখে তাদেও বলেন, এই অসহায়দের আর কোন দিন অযথা হয়রানি করবা না। কিন্তু তার ৩/৪দিন পর বাশারের ছেলে মিলন ফকির উপজেলার একটা মানবাধিকার সংগঠনে আমাদের বিরুদ্ধে নুতন করে অভিযোগ করেন। সেখান থেকে একটা নোটিশ পাঠায় এবং নোটিশ নিয়ে আসা লোকটি আমাদের ধার্য্যকৃত তারিখের দিন ঠিক টাইমে অফিসে হাজির হতে বলেন। তা না হলে আপনাদের অনেক ক্ষতি হবে। পরে আমরা সবাই সেখানে যাই। ওই সময় মিলন এবং তার মা নুরজাহান বলেন, আমরা ওদের জমি দখল করে খাই এবং মদ-গাঁজা সহ ইয়াবার ব্যবসা করি। এছাড়া ২৯ জুলাই বিকালে মানবাধিকার কর্মী পরিচয়ে একজন মহিলা সহ দুইজন পুরুষ আমাদের বাড়িতে আসেন। ওই সময় তারা আমাদের ঘরে ঢুকে বিভিন্ন ছবি তোলেন। পরবর্তীতে সাদা কাগজে একটি স্বাক্ষর নিয়ে চলে যায়। বাশার ও তার নিকট আত্মীয়দের ভয়ে আমরা প্রায় তিন মাস ধরে এক রকম গৃহবন্ধী অবস্থায় আছি। ওদের ভয়ে ছেলেটাকে ঠিকমতো মাদ্রাসায় পাঠাতে পারি না। অধিকাংশ সময়ে অন্যের বাড়িতে রাত কাটাই। বাশারের শ্যালক শাহ আলম মোল্লা আমাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে গেছেন হাটে বাজারে কিংবা বাড়ির বাহিরে বের হলে মেরে হাত পা গুড়িয়ে দিবেন। শাহ আলমের হাতে এই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বিগত দিনে লাঞ্চিত হয়েছেন কিন্তু কেউ কোন বিচার পায়নি। বাশারের বড় ছেলে রাসেল ফকির ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে ঢাকা থেকে আমাদের মোবাইলে ফোন করে বলেন, ঈদে আমি বাড়িতে আসলে তোদের যদি বাড়িতে দেখি তাহলে তোদের সকলের মাথা কেটে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, স্থানীয় বাসিন্দা আঃ হাকিম ফরাজী, আবু সাইয়েদ ফরাজী, আঃ ছালাম হাওলাদার, শহিদ হোসেন খাঁন, আলমগীর ফরাজী, ছিদ্দিক ফরাজী, মিজান ফরাজী, রিপন মিয়া, জাহাঙ্গীর ফরাজী, নয়ন ফরাজী, মিজান কবিরাজ, আল আমিন হাওলাদার, সোহাগ ফরাজী, হালিম মোল্লা ও সবুজ ফরাজী সহ ওই গ্রামের অনেকে বলেন, আবুল বাশার ও তার ছেলেরা খারাপ লোক উপজেলার রাজৈর এলাকায় তাদের কয়েকজন আত্মীয় আছে তাদের শেল্টারে বাশার ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবন্ধী আবুল কালামের বসত বাড়ির জমি টুকু দখলের জন্য নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এলাকা থেকে তাড়াতে আদা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক ভাবে তদন্ত করে প্রতারক বাশার সহ তার ইন্ধন দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত। যাতে ভবিষ্যতে এই এলাকার কোন নিরীহ মানুষকে ওই চক্রের হাতে হয়রানী হতে না হয়।
অপরদিকে, খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন খাঁন মহিউদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নছির উদ্দিন বলেন, প্রতিবন্ধী আবুল কালাম একজন অসহায় মানুষ তাকে সহ তার পরিবারকে কোন চক্র হয়রানী করলে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সকল বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল বাশারের ছেলে মিলন ফকির মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি মানবাধিকারের লোকজন দেখতেছেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) কিছু জানতে চাইলে আমার সাথে দেখা করবেন।
তবে, মানবাধিকার কমিশনের শরনখোলা উপজেলা (শাখার) সভাপতি মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহ মাশুক বলেন, আমার সংগঠন আর্ন্তজাতিক মানের সকল বিষয়ে শালিস বিচার করার অধিকার আমাদের আছে। যার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র প্রশাসনের সকল দপ্তরে দেওয়া আছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, প্রতিবন্ধীর জমি দখল চেষ্টার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, মানবাধিকারের নামে শালিস বিচারের বৈধতা কারো নেই। এটা সম্পুর্ন আইন বহিঃর্ভুত কাজ। মানবাধিকারের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ব্যক্তি বা চক্র সাধারন মানুষকে হয়রানী কিবা বø্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে থাকলে সে যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি