ঢাকা   ০৬:০৩:২০ এএম, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  চন্দনাইশে নানা আয়োজনে সাংসদ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত চন্দনাইশে উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল মাটিরাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশী নিহত মাগুরায় ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  আনোয়ারা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সাথে, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শিক্ষা সফরের আনন্দ রূপ নিল বিভীষিকায়, প্রাণ হারালেন শিক্ষিকাসহ দুজন- আহত ৩০

সোনারগাঁয়ে চৈতীর বিষাক্ত বর্জ্যে বিলের পানিতে প্রায় কোটি টাকার মাছ মরে ভেসে উঠেছে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০
  • ৩২৯ বার
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

শাহ জালাল, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) :
চৈতী কম্পোজিট নামের একটি কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে কয়েকটি বিলের প্রায় কোটি টাকার মাছ মরে ভেসে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সোনারগাঁ পৌরসভা বাগনাজিরপুর ও সনমান্দী ইউনিয়নের নাজিরপুর বিলে বিপুল এই ক্ষতি হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীরা সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের করিম মাওলানার ছেলে আল আমিন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ শেষে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে গ্রামের ২০ জন যুবক ১.৮০ একর জমি ভাড়া নিয়ে একটি মৎস্য প্রকল্প শুরু করেন। তাদের প্রকল্পে বর্তমানে বিভিন্ন প্রজাতের প্রায় ৫০ লাখ টাকার রয়েছে। এ ছাড়া সনমান্দী ও পৌরসভার রিপন, বদরুজ্জামান, কামালসহ প্রায় ৩০ জন মৎস্য চাষি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ভুক্তভোগী আল আমিন জানান, মাছ চাষ করতে বিলের চারিদিকে নেট, খুটি, বাঁশ ও মাছের খাবারসহ এ পর্যন্ত ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। মৌসুম শেষে এ প্রকল্পের মাছ প্রায় দেড় কোটি টাকা বিক্রি করতে পারতেন। রোববার রাত দুটার সময় চৈতী কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশনের কারণে বিলের সমস্ত মাছ মরতে শুরু করে। বিলে রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, কই, মাগুর ও সিলভারকার্প জাতীয় মাছসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ ছিল। সব মাছ মরে ভেসে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা এখন পথে বসেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চৈতী কম্পোজিট প্রকাশ্যে প্রতিঘণ্টায় ৭০ হাজার গ্যালন বর্জ্য বিভিন্ন খাল, বিল ও নদে অবৈধভাবে নিষ্কাশন করছে। ইটিপির মাধ্যমে বর্জ্য শোধন ব্যয়বহুল বলে তা ব্যবহার করছে না। প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকক্ষ কারখানা পর্যবেক্ষণ করতে আসলে অল্প সময়ের জন্য ইটিপি চালু করে। পরে আবার বন্ধ করে দেয়।

সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সাকে সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান বলেন, বর্জ্য পানির দুর্গন্ধে বায়ু দূষণ সোনারগাঁয়ে ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। দূষণযুক্ত এলাকায় মানুষ নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করছে নানা প্রকার বিষ ও স্বাস্থ্যহানীকর উপাদান। এ কারণে বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধির প্রকোপ ক্রমবর্ধমান। বলা যায়, পরিবেশের সব মৌলিক উপাদানই কোনো না কোনোভাবে দূষণের শিকার। পরিবেশ দূষণের মাত্রা সহনশীল পর্যায়ে রাখার জন্য উপযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য হলেও কোনো ক্ষেত্রেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঙ্খিত পর্যায়ে নেই।

এ ব্যাপারে চৈতী কম্পোজিটের জিএম মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান, আমরা ইটিপি ব্যবহার করে শোধনকৃত পানি আমাদের নিজস্ব জমিতে ফেলছি।

সদ্য যোগদান করা সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, আমি সোনারগাঁয়ে যোগদান করার পরপরই বিষাক্ত বর্জ্যে বিলের মাছ মারা যাওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি