ঢাকা   ০১:২৮:০৮ পিএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
জাপান সফর শেষে দেশে  ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির ৫৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মাগুরার বিনোদপুরে ১০ম বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল ও ইছালে সওয়াব অনুষ্ঠিত মাগুরায় হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল কারাগারে খাদ্যের উন্নত মান ও স্বাদে আস্থার নাম ‘সাদিয়া’স কিচেন’ প্রদৃপ্ত প্রকল্পের, ৯০ জেলের মাঝে সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ নাঙ্গলকোটের মক্রবপুরে বিএনপি’র দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে; যুবদলের মিছিলে হামলা,আহত-৯ এনসিপির শিল্প, বাণিজ্য, অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন চৌদ্দগ্রামের কাজী ফখরুল ইসলাম আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে রংধনু ইউসিএলসিতে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপন

ধর্ষণের প্রতিবাদকারীদের ‘পাড়িয়ে মিশিয়ে ফেলা‘র হুমকি : গোলাম মুর্তজা

গোলাম মুর্তজা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬২২ বার
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

একটি মেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সত্য-অসত্য যাই হোক,প্রমাণ হবে তদন্তে।তার আগে সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর যে অশোভন ভাষায় অভিযোগকারী সম্পর্কে কথা বলেছেন,তার প্রতিবাদ প্রত্যাশিতই।মেয়েটির অধিকার আছে আইনের আশ্রয় নেওয়ারও। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেহেতু কার্যকর আছে, সেহেতু তিনি সেই আইনেই মামলা করেছেন।করতেই পারেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, যারা সমর্থন করছেন তাদেরকে নিয়ে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি কালো আইন এবং এটার প্রয়োগ করে মানুষকে, গণমাধ্যমকে নিপীড়ন করা হচ্ছে।তাহলে সেই আইনের মামলার সমর্থন করছেন কীভাবে? মামলা তো প্রচলিত আইনেই হতে পারতো। এরপর যখন গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে, তখন আপনাদের অবস্থান কী হবে?
আরও একটি গুরুতর প্রশ্ন, অভিযোগকারী মেয়েটি এই অভিযোগ করেনি যে নূরু ধর্ষণ করেছে।পরিস্কার করে বলেছেন, নূরুর বিরুদ্ধে তার ধর্ষণের অভিযোগ নেই।নূরু তার করা ধর্ষণের অভিযোগের বিচার করেনি,ধমক দিয়েছেন বা হুমকি দিয়েছেন।এসব মেয়েটির অভিযোগ।সঠিক তদন্তে সত্য-অসত্য প্রমাণ করা অসম্ভব নয়।
আরও একটি প্রশ্ন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নূরুকে যারা ‘ধর্ষক‘ হিসেবে উল্লেখ করে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন,তাদের ক্ষেত্রে কোন আইনের প্রয়োগ হবে? প্রতিবাদে সেই বিষয়টি উল্লেখ থাকছে না কেন? নূরুকে ইতিপূর্বে সাত আটবার যে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হলো, তার বিচার কে করবে? নূরু তা ভুলে গেছে এবং আবার পেটানো হবে, সেই হুমকিও দেওয়া হয়েছে।এই হুমকি কী প্রতিবাদযোগ্য বিষয় নয়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দু‘এক বছরে একাধিকবার ছাত্রীরা যৌন নিপীড়ন ও মারধরের শিকার হয়েছেন। নূরুর বিরুদ্ধের প্রতিবাদকারীদের তখন খুঁজে পাওয়া যায়নি। নূরুদের ছাত্র অধিকার পরিষদ নতুন সংগঠন। একটি ধর্ষণের অভিযোগে তারা অভিযুক্ত।অবশ্যই সঠিক তদন্ত ও বিচার হতে হবে।
অন্য ছাত্র সংগঠনের অবস্থা কী?
গত ২০-২২ বছরে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে? ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কোনো ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে? আর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কতগুলো ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে? সত্য-সঠিক পরিসংখ্যান কী কারও অজানা!
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ‘সেঞ্চুরি মানিক‘র ধর্ষণের অভিযোগ, শুধুই অভিযোগ নয়।‘সেঞ্চুরি মানিক‘ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তে প্রমাণিত ধর্ষক।মানিক ধর্ষক নয়,এটা প্রমাণ করতে হলে পুণরায় তদন্ত করে প্রমাণ করতে হবে যে,জাবি প্রশাসনের সেই সময়ের তদন্ত সঠিক ছিল না। তাছাড়া ‘সেঞ্চুরি মানিক‘ ধর্ষক নয়, বলার কোনো সুযোগ নেই।

অন্যায়-অপরাধ-ধর্ষণ-নারী নিপীড়ন, ধর্ষণের প্রতিবাদকারীদের ‘পাড়িয়ে মিশিয়ে ফেলা‘র হুমকি- প্রতিবাদ তো সবক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত,না কি?

নারী নিপীড়নের প্রতিবাদ করতে গিয়ে, যার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ অভিযোগকারী করেননি,সেই অভিযোগে প্রপাগান্ডা চালানোর নামও নিপীড়ন, প্রতিবাদ নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি