ঢাকা   ০২:৩৪:২১ এএম, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আমজাদ এন্টারপ্রাইজের কেমিক্যালের ড্রাম ব্যবসা, দূষণের ঝুঁকিতে কর্ণফুলী নদী, আতঙ্কে নোমান কলেজ রোডের বাসিন্দারা মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত টঙ্গীর রাজনগরে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, মাফিজুরের গ্রেপ্তার দাবি ভুক্তভোগীদের নকলায় জাতীয় যুব দিবসে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও ঋণ বিতরণ সাউন্ড গ্রেনেডে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ, মিরপুরে যান চলাচল স্বাভাবিক এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী মাগুরার শ্রীপুরে মাদ্রাসার ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি হত্যা 

বৃষ্টিতে মুগ ডালের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

মাহমুদুল হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মে, ২০২২
  • ৩৩০ বার
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মুগ ডালের খেত তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মুগ ডালের পাশাপাশি একই সময়ে কাচা মরিচ, বাদাম, মিষ্টি আলুসহ অন্য রবি সশ্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ডালসহ কয়েকটি রবিসশ্য ঘরে তোলার উপযোগী খেতের ডাল বেশি নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা রাঙ্গাবালীর কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, এবছর উপজেলার ৬ ইউনিয়নে মুগ ডালের আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৯৫০ হেক্টর, এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৮৫ হেক্টর প্রবল বৃষ্টির পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। আর চিনাবাদাম এক হাজার ৫২০ হেক্টর আবাদ হয়েছে এবং পুরোটাই এখন পানিতে নিমজ্জিত। মরিচ আবাদ হয়েছে এক হাজার ৫৮০ হেক্টর, বৃষ্টির পানিতে আক্রান্ত হয়েছে ৭১১ হেক্টর, তিল ফসল ৪ হেক্টর আবাদ হয়েছে এবার পুরোটাই পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। মিষ্টি আলু ২১০ হেক্টরের মধ্যে বৃষ্টির পানিতে আক্রান্ত হয়েছে ১০৫ হেক্টর।

এছাড়া ও শাকসবজি বৃষ্টির পানিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি অফিস।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোটবাইশদিয়া, রাঙ্গাবালী, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবী ইউনিয়নের মাঠের পর মাঠ মুগ ডালের খেতে পানি জমে আছে। শুকনো ডাল পানিতে ভিজে ডাল থেকে চারা গজাচ্ছে এবং শিশু কিশোরসহ পরিবারের সবাই তারাহুরা করে ডাল তুলছেন। কেউ আবার তোলা ডাল রোদে শুকানোর জন্য বাসায় নিয়ে যাচ্ছে।
কৃষক আবুল কালাম জানান, মুগডাল পরিপক্ক হয়েছে। ঈদের কারণে ডাল তুলতে লোকজন পাওয়া যাচ্ছে না। ভারী বৃষ্টিতে ডাল খেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে পানি কমছেনা। তাই ডালসহ গাছ তুলে রোদে শুকানোর ব্যবস্থা করছি। তবে আজও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, যেকোন সময় বৃষ্টি হতে পারে। এখনো মাঠে অনেক ফসল রয়েগেছে শ্রমিক ও পাওয়া যাচ্ছেনা।
তিনি জানান, এবছর ৭৫ শতাংশ জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির পানিতে তার বাদাম খেত ডুবে গিয়েছিল। নিচু খেত তাই পানি নামাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এদিকে মাঝে মধ্যে প্রচন্ড রোদ উঠায় গাছ মরে যাচ্ছে এবং চিনাবাদার পচে যাচ্ছে। ফসল কিভাবে রক্ষা করবে তা নিয়ে চিন্তায় পরেছেন তিনি।

একই গ্রামের আবদুল কাদের ৪৫ শতাংশ জমিতে মুগ ফসলের আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে সাগে ৭ হাজার টাকা। প্রচন্ড রোদে ডাল পরিপক্ক হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে একবার খেত থেকে ডাল তুলছেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার তোলার আগেই প্রবল বৃষ্টি। এখন তার খেতে মুগডালের গাছের প্রায় অর্ধেক অংশই ডুবে যাওয়ায় ডাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
শুধু কৃষক আবুল কালামই নয় উপকূলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলায় রবি ফসলের অনেক খেতই ঘূর্নিঝড় অশনির প্রভাবে প্রবল বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে মুগডাল ফসলসহ চিনাবাদাম, কাচা মরিচসহ বিভিন্ন রবি ফসলের খেত। দ্রুত ফসল ঘরে তুলে রোদে শুকাতে হবে।
উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, আমরা গাছসহ ডাল একেবারে ঘরে তুলি এবছর এই বৃষ্টির কারনে আমাদের ডাল, চিনাবাদাম, মিষ্টিআলু, মরিচসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো কিনা জানিনা। মৌসুমের শুরুতে তরমুজ দিয়েছিলাম ভাইরাসের কারনে তাও খেতে নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানে আমরা অনেকেই তরমুজে লসখেয়েছি এবং ডালসহ অন্যঅন্য ফসল বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার যার ফসল সে সে ঘরে তুলছে তাই শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা।

রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন ফসলের খেত ঘুরে দেখা গেছে এখনও খেতে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। ইতিমধ্যে মুগ ডাল রক্ষা করতে খেত থেকে গাছ উপড়ে তুলে নিয়ে সড়কের পাশে শুকানোর চেষ্টা করছে। চিনা বাদাম মিষ্টি আলু খেতেই ডুবে রয়েছে।
মৌডুবী ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি র্কমর্কতা হুমায়ন কবির বলেন, মৌডুবী ইউনিয়নের কৃষকরা ডাল একবারে ঘরে তোলেন তাই তাদেও এই বৃষ্টিতে ডালের ক্ষতির পরিমার অন্য এলাকার চেয়ে একটু বেশি। তার পরেও আমরা কৃষকদের মাঠ র্পযায়ে পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছি।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘূনিঝড় অশনির প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিচু জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের খেত আক্রান্ত হয়েছে । কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে মাঠে কৃষকদের পরামর্শসহ জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষায় কাজ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি