https://www.dailyshamolbangla.com/
এক সময় ‘নির্মাণ শ্রমিক (কাঠমিস্ত্রি)’ ও অ্যালুমিনিয়াম ডেকোরেশনের কাজ করতেন, পরে সক্রিয় হন রাজনীতিতে। রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করে হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। বলা হচ্ছে বহুল আলোচিত সাংবাদিক খন্দকার রাকিবুল ইসলাম হামলার আসামি ও মূল হোতা মিঠাপুকুরের শালমারা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ভুমিদস্যু শরিফুল ইসলামের কথা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ভূমিদস্যু শরিফুল ইসলাম একসময় পায়রাবন্দ ইউনিয়নের নিজ এলাকায় কাঠমিস্ত্রি কাজ চালিয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করতেন। অভাব অনাটনে একসময় সেই কাঠমিস্ত্রি কাজ করে পরিবারের জোগান মেটাতে না পারলে যোগ দেন এলাকার এক ভাইয়ের অ্যালুমিনিয়াম ডেকোরেশন এর শোরুমে।সেই ভাই ছিলেন রাজনীতির এক বড় ক্যাডার। ভাইয়ের সেই ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সব জায়গায় নিজের দাপট দেখাতেন। একসময় প্রভাবশালী সেই রাজনৈতিক ভাইয়ের সহযোগিতায় যোগ দেন রাজনীতিতে। পরে সেই ভাইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অংকের অর্থের মালিক বনে যান শরিফুল ইসলাম। ফলে তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে এলাকাবাসীর সাহস ছিল না।
তারা আরো বলেন,ভুমিদস্যু শরিফুলের নানা ধরনের বৈধ-অবৈধ ব্যবসা রয়েছে। মাদক ব্যবসা, বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য সবই করেন। তার ক্ষমতার দাপটে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। কারণ কেউ তার বিরুদ্ধে গেলে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করতো। তাছাড়া তরুণ বয়সে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র যুবদল সংগঠন সক্রিয়ভাবে করলেও পরে
নিরপেক্ষতার ভান ধরেন শরিফুল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামীলীগ নেতা জানান, ভুমিদস্যু শরিফুল এক সময় বিএনপি’র রাজনীতি করতেন। ২০১৯ সালে রাজনৈতিক দলে থাকা ক্ষমতাশীল এক ভাইয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তিনি ইউনিয়নের ইমারত নির্মানশ্রমিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হন। ২০২৩ সালে এই ব্যানারকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে শালমারা দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকায় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।
খন্দকার রাকিবুল ইসলামের পরিবারের অভিযোগ, অবৈধ ভাবে শালমারা নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন রাকিবুল। এর পর থেকেই হুমকি পাচ্ছিলেন এই সাংবাদিক রাকিবুল। পরে শুক্রবার(৭ জুলাই ২০২৩) রাত আনুমানিক ৭টা ৩০মিনিটের দিকে উপজেলার পায়রাবন্দ থেকে মিঠাপুকুর যাওয়ার পথে শালমারা বাজার নামক স্থানে মোটরসাইকেলের পথরোধ করে লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারপিট করেন শরিফুল। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় আহত সাংবাদিককে চিকিৎসার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, আসামীকে ধরতে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি। এর নেপথ্যে কারা আছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।