ঢাকা   ১০:২০:০৮ এএম, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  চন্দনাইশে নানা আয়োজনে সাংসদ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত চন্দনাইশে উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল মাটিরাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশী নিহত মাগুরায় ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  আনোয়ারা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সাথে, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শিক্ষা সফরের আনন্দ রূপ নিল বিভীষিকায়, প্রাণ হারালেন শিক্ষিকাসহ দুজন- আহত ৩০

গুইমারা হাটে পাহাড়ি নারীদের জীবন-সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের বুনন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৫৬ বার
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মাঈন উদ্দিন বাবলু, গুইমারা প্রতিনিধি

 

সকালের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে নেমে আসতে দেখা যায় পাহাড়ি নারীদের। কারও কাঁধে ঝুড়ি, কারও সঙ্গে জুমচাষের ফলন। নির্দিষ্ট গন্তব্য—খাগড়াছড়ির গুইমারা হাট। উদ্দেশ্য একটাই, নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে সুতো ও বুননের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা।

 

হাটে পা রাখতেই চোখে পড়ে রঙিন দৃশ্যপট। নানা রঙের সুতো, ডোরা আর বুনন সামগ্রীতে সাজানো দোকানগুলো যেন এক একটি ক্যানভাস। পাহাড়ি নারীরা দলবেঁধে সুতো বাছাই করছেন, কোথাও চলছে দরকষাকষি, কোথাও আবার নকশা ও রঙ নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে আলোচনা। এই দৃশ্য কেবল কেনাবেচার নয়, এটি পাহাড়ি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার এক নীরব লড়াইয়ের প্রতিফলন।

 

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে পোশাক শুধুই দৈনন্দিন ব্যবহার্য বস্তু নয়; এটি তাদের পরিচয়, ইতিহাস ও আত্মসম্মানের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাহাড়ি নারীরা নিজ হাতে কাপড় বুনে আসছেন। আধুনিকতার প্রভাব পড়লেও উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহার আজও সমানভাবে চলমান। আর সেই পোশাক তৈরির যাত্রা শুরু হয় হাট থেকে সুতো কেনার মাধ্যমে।

 

হাটে আসা মেমাচিং মারমা জানান,“আমাদের পরিবারের কাপড় আমরা নিজেরাই তৈরি করি। মা আর দাদির কাছ থেকেই এই কাজ শেখা। ভালো কাপড়ের জন্য ভালো সুতো দরকার, তাই নিজের হাতে দেখে কিনি।”

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ি নারীদের উপস্থিতি হাটে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিশেষ করে উৎসব ঘনিয়ে এলে সুতো ও বুনন সামগ্রীর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এক সুতো ব্যবসায়ী বলেন,

 

“এই সময় পাহাড়ি নারীরাই সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তারা রঙ, মান—সবকিছু খুব ভালোভাবে যাচাই করেন।”

 

 

এই সুতো শুধু ঐতিহ্য রক্ষার উপকরণ নয়, অনেক পরিবারের জীবিকার মাধ্যমও। বহু পাহাড়ি নারী ঘরে বসেই কাপড় ও পোশাক তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এতে সংসারের খরচ মেটার পাশাপাশি নারীদের আর্থিক সক্ষমতাও বাড়ছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি বুননশিল্প ও পোশাকের উন্নয়নে পরিকল্পিত সহায়তা প্রয়োজন। কাঁচামালের সহজ প্রাপ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

 

গুইমারা হাটে পাহাড়ি নারীদের এই ব্যস্ততা আসলে এক জীবন্ত ইতিহাস–যেখানে প্রতিটি সুতোয় জড়িয়ে আছে সংস্কৃতি, সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আজও টিকে আছে পাহাড়ি নারীদের নিপুণ হাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি