1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
গুইমারা হাটে পাহাড়ি নারীদের জীবন-সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের বুনন - দৈনিক শ্যামল বাংলা
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরার শ্রীপুরে কালবের উদ্যোগে মিউচ্যুয়াল এইড সার্ভিসেস ও লাইফ সেভিংসের বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির সামনের পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার  মাগুরার শ্রীপুরে কালবের উদ্যোগে মিউচ্যুয়াল এইড সার্ভিসেস ও লাইফ সেভিংসের বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নকলায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী মিথ্যা মামলায় ৩ বিএনপি নেতার সাজা বাতিল ও মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন  আনোয়ারায় একই চেয়ারে তিন বছরের বেশি মৎস্য কর্মকর্তা, ৭,৭৪৪ মৎস্যজীবীর তালিকা যাচাই ও প্রকাশের দাবি কুমিল্লায় প্রাডো গাড়িতে ৩ লাখ পিস ইয়াবা, আটক ২ বাংলাদেশে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার আশ্বাস এডিবির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তহীন পথ চলছে সরকার : মাহদী আমিন নবীনগরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান ভাঙ্গুড়ায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ১ যুবক আটক

গুইমারা হাটে পাহাড়ি নারীদের জীবন-সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের বুনন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৮৭ বার

মাঈন উদ্দিন বাবলু, গুইমারা প্রতিনিধি

 

সকালের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে নেমে আসতে দেখা যায় পাহাড়ি নারীদের। কারও কাঁধে ঝুড়ি, কারও সঙ্গে জুমচাষের ফলন। নির্দিষ্ট গন্তব্য—খাগড়াছড়ির গুইমারা হাট। উদ্দেশ্য একটাই, নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে সুতো ও বুননের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা।

 

হাটে পা রাখতেই চোখে পড়ে রঙিন দৃশ্যপট। নানা রঙের সুতো, ডোরা আর বুনন সামগ্রীতে সাজানো দোকানগুলো যেন এক একটি ক্যানভাস। পাহাড়ি নারীরা দলবেঁধে সুতো বাছাই করছেন, কোথাও চলছে দরকষাকষি, কোথাও আবার নকশা ও রঙ নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে আলোচনা। এই দৃশ্য কেবল কেনাবেচার নয়, এটি পাহাড়ি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার এক নীরব লড়াইয়ের প্রতিফলন।

 

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে পোশাক শুধুই দৈনন্দিন ব্যবহার্য বস্তু নয়; এটি তাদের পরিচয়, ইতিহাস ও আত্মসম্মানের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাহাড়ি নারীরা নিজ হাতে কাপড় বুনে আসছেন। আধুনিকতার প্রভাব পড়লেও উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহার আজও সমানভাবে চলমান। আর সেই পোশাক তৈরির যাত্রা শুরু হয় হাট থেকে সুতো কেনার মাধ্যমে।

 

হাটে আসা মেমাচিং মারমা জানান,“আমাদের পরিবারের কাপড় আমরা নিজেরাই তৈরি করি। মা আর দাদির কাছ থেকেই এই কাজ শেখা। ভালো কাপড়ের জন্য ভালো সুতো দরকার, তাই নিজের হাতে দেখে কিনি।”

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ি নারীদের উপস্থিতি হাটে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিশেষ করে উৎসব ঘনিয়ে এলে সুতো ও বুনন সামগ্রীর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এক সুতো ব্যবসায়ী বলেন,

 

“এই সময় পাহাড়ি নারীরাই সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তারা রঙ, মান—সবকিছু খুব ভালোভাবে যাচাই করেন।”

 

 

এই সুতো শুধু ঐতিহ্য রক্ষার উপকরণ নয়, অনেক পরিবারের জীবিকার মাধ্যমও। বহু পাহাড়ি নারী ঘরে বসেই কাপড় ও পোশাক তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এতে সংসারের খরচ মেটার পাশাপাশি নারীদের আর্থিক সক্ষমতাও বাড়ছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি বুননশিল্প ও পোশাকের উন্নয়নে পরিকল্পিত সহায়তা প্রয়োজন। কাঁচামালের সহজ প্রাপ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

 

গুইমারা হাটে পাহাড়ি নারীদের এই ব্যস্ততা আসলে এক জীবন্ত ইতিহাস–যেখানে প্রতিটি সুতোয় জড়িয়ে আছে সংস্কৃতি, সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আজও টিকে আছে পাহাড়ি নারীদের নিপুণ হাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net