ঢাকা   ০৩:৩১:১৬ পিএম, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরায় ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  আনোয়ারা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সাথে, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শিক্ষা সফরের আনন্দ রূপ নিল বিভীষিকায়, প্রাণ হারালেন শিক্ষিকাসহ দুজন- আহত ৩০ সাতকানিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ রোগী শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৫ আসামী গ্রেফতার নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের যারা গণহত্যা চালিয়েছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগুরার শ্রীপুরে স্মারক গ্রন্থ ‘স্বপ্ন সারথি’র মোড়ক উন্মোচন এবং বৃক্ষরোপণ মাগুরায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের শপথ নিলেন অধ্যাপক সাইদ আহমাদ বাচ্চু   

মাগুরায় আমজাদের সাড়ে সাত কিলোমিটার জার্মানীর পতাকা প্রদর্শন

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১৭২ বার
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মাগুরার সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের আমজাদ হোসেন বিশ্বের দীর্ঘতম জার্মানির পতাকা বানিয়ে প্রদর্শন করে বারবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন।

 

মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে বিশাল এলাকাজুড়ে এই পতাকা প্রদর্শন করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জার্মানী ফুটবল দলের ভক্তরা তার এ পদর্শনী দেখতে আসেন। প্রতি বিশ্বকাপেই তাঁর বানানো পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়ে।২০০৬ সালে প্রথমে দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জার্মানির পতাকা তৈরি করেন তিনি। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সময় পতাকা হয় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার। ২০১৮ সালে পতাকার দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার। এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমজাদ হোসেন তৈরি করছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা।

২০১৪ সালে এই অসামান্য সমর্থনের জন্য তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় আমজাদ হোসেনের বাড়িতে যান। সে সময় তাকে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং জার্মান ফুটবল দলের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়।

 

 

 

একসময় পরিবারের সবাই পতাকা তৈরির তার বিপক্ষে ছিল। কিন্তু আমি সে তার নিজের ইচ্ছা শক্তির কাছে পরাজিৎ হয়নি। তিনি তার নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রি করে এ পতাকা তৈরি করেছেন।

 

 

 

কিন্তু প্রতি বিশ্বকাপের সময় এত টাকা খরচ করে জার্মানির পতাকা তৈরির কারণ জানতে চাইলে আমজাদ বলেন, ২০০৫ সালের দিকে কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হন তিনি। বিভিন্ন ওষুধ খেয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। তখন মাগুরা শহরের একজন চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানির তৈরি হোমিও ওষুধ সেবন করে আরোগ্য লাভ করেন। এর পর থেকেই জার্মানির প্রতি তাঁর ভালোবাসা। ২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে। তখন তিনি মনে মনে ঠিক করেন, জার্মানির ওষুধ সেবন করে যেহেতু ভালো হয়েছেন, তাই দেশটিকে একটা উপহার দেবেন। তখন প্রায় ৩৫০ গজ লম্বা জার্মানির পতাকা তৈরি করেন তিনি।

 

আমজাদ আরো বলেন,জার্মানির তৈরি একটি হোমিও ওষুধ খেয়ে নিজের দুরারোগ্য ব্যাধি সেরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি জার্মানি ফুটবল দলের অন্ধ ভক্তে পরিণত হন। নিজের জমানো টাকা ও বাড়ির জমি বিক্রি করে তিনি পতাকাটির দৈর্ঘ্য ৭.৫ কিলোমিটারে উন্নীত করেন। ভালোবাসা থেকেই এগুলো করেছি। আর এটার জন্য কারও কাছে সাহায্যও চাইনি। এবার এই পতাকা জার্মানির জাদুঘরে সংরক্ষনের জন্য উপহার দেওয়ার কথা জানান জার্মান ফুটবল দলের অন্ধ এ ভক্ত।

 

ব্যক্তি চাহিদা নয়, জার্মানী দেশকে ভালোবেসে দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভালোবাসার নিদারুন উদাহরন দিয়েছেন মাগুরার দরিদ্র কৃষক আমজাদ হোসেন। তার এ ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ মাগুরার ফুটবল প্রেমি ভোক্তরা ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি