প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে নিরাপদ অভিবাসন ইস্যুতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে
“নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা”অনুষ্টিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিয়ন জিএমসি কমিটি ও মাইগ্রেশন ফোরামের নারী-পুরুষ সদস্যরা অংশ নেন।
জিএমসি কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মাইগ্রেশান ফোরাম সেক্রেটারী সেলিম উদ্দিনের পরিচালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্প উপজেলা কোঅর্ডিনেটর মোঃ কামরুজ্জামান।
সভায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন সেইফ মাইগ্রেশন প্রজেক্ট অফিসার তৌহিদা জান্নাত শিমু, মাইগ্রেশন ফোরাম সভাপতি নাছির উদ্দীন ও ইউপি মেম্বার ছৈয়দ হোছাইন প্রমুখ।
সেইফ মাইগ্রেশন প্রজেক্ট অফিসার তৌহিদা জান্নাত শিমু বলেন- মূলত তথ্য ঘাটতি ও তথ্য বিভ্রাটের কারণে অধিকাংশ অভিবাসী কর্মীগণ সমস্যার শিকার হন। তাদের চ্যালেঞ্জগুলো নির্ধারণ করে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ সময় সমন্বয় সভার গুরুত্বপূর্ণ ফিডব্যাকগুলো অভিবাসন কমিটিতে উপস্থাপনের উপর গুরুত্বারূপ করেন।
তিনি আরো বলেন- যৌথভাবে কাজ করলে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। তাই এ ধরণের সমন্বয় সভা যত বেশি আয়োজন করা হবে, অভিবাসী কর্মীদের সেবা, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা তত বেশি সহজ হবে।
উপজেলা কো-অর্ডিনেটর কামরুজ্জামান বলেন- বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার নিশ্চিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শ্রম অভিবাসী, বিদেশফেরত ব্যক্তি অথবা প্রবাসী পরিবার প্রতারণার শিকার হলে লিগ্যাল এইড অফিসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অবশ্যই বিদেশগামী কর্মীদের ন্যায্য ও স্বচ্ছ চুক্তিপত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন-সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবাই একই প্লাটফর্মে অভিবাসীদের পাশে থাকতে প্রত্যাশী সব সময় এ ধরণের ইভেন্ট আয়োজনে আন্তরিক। তিনি আরও বলেন যে, তথ্যপ্রদান, প্রাসঙ্গিক পরামর্শ, আইনগত সহায়তা ও কমিউনিটি পর্যায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশগমন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
সভায় জেনে বুঝে ও দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন, প্রবাসী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সরকারি পরিষেবা সমূহ বর্ণনা করেন এবং তাকামল ও ওইপি সক্রান্ত আলোচনা করা হয়। সভায় মাইগ্রেশন ফোরাম সদস্য নারী মেম্বার রাজিয়া সোলতানার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করা হয়। এসময় মাইগ্রেশন ফোরাম, জিএমসি, অভিবাসিকর্মী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।