প্রার্থী-ভোটারদের মধ্যে হতাশা, প্রশাসনের দাবি—প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সিদ্ধান্ত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্ধারিত নির্বাচন ভোটগ্রহণের মাত্র এক রাত আগে স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে প্রার্থী, ভোটার ও ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। ভোট গ্রহনের সময় ছিল বৃহস্পতিবার। প্রার্থীরাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা ও ভোটের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। তবে ভোটের আগের রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দিদারুল আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইব্রাহিম চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের প্রার্থী দিদারুল আলমের বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরেই একটি মহল ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে। ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর এমন সিদ্ধান্তে প্রার্থী, ভোটার ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশ হয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, “মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের ডেকে দিদারুল আলমকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। তবে আমরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি।”
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দিদারুল আলম বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে অবাধ ভোট হলে আমার বিজয় নিশ্চিত হবে—এমন আশঙ্কা থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচন স্থগিত করেছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভোটার ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভোটের আগের রাতে নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় আমরা বিস্মিত ও হতাশ।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোটগ্রহণের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।”
ভোটের মাত্র এক রাত আগে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনকে ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, আকস্মিক স্থগিতাদেশে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এখন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি নতুন তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেদিকেই।