ঢাকা   ০২:০৮:০৭ পিএম, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
শিক্ষা সফরের আনন্দ রূপ নিল বিভীষিকায়, প্রাণ হারালেন শিক্ষিকাসহ দুজন- আহত ৩০ সাতকানিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৬০০ রোগী শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৫ আসামী গ্রেফতার নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের যারা গণহত্যা চালিয়েছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগুরার শ্রীপুরে স্মারক গ্রন্থ ‘স্বপ্ন সারথি’র মোড়ক উন্মোচন এবং বৃক্ষরোপণ মাগুরায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের শপথ নিলেন অধ্যাপক সাইদ আহমাদ বাচ্চু    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২) এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত পরীমণির সঙ্গে কি ঘটেছিল জানালেন সেই সাংবাদিক

সাতকানিয়ায় আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশা; চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯৩ বার
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি আঞ্চলিক সড়ক—খোদারহাট-ফুলতলা সড়ক এবং মৌলবির দোকান-দুরদুরী সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধীরগতির সংস্কার কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মৌলবির দোকান-দুরদুরী সড়কের আমিলাইষ শিশুতল, সারওয়ার বাজার, চেয়ারম্যান ঘাটা, রঘুনাথ পাড়া, যায়েদ বিন সাবিত মাদ্রাসা, পশ্চিম আমিলাইষ, চরতি কাটাখালী ব্রিজ, সুইপুরা সড়ক মোড়, মফজলের দোকান, চরতি-দুরদুরী স্কুল ও খতিরহাট থেকে দুরদুরী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, তা ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু যানবাহন নয়, অনেক স্থানে পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ।

 

খতিরহাট এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এরফান বলেন, “সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে। গর্তে পড়ে অনেক সময় বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

 

গাড়িচালকদের অভিযোগ, সংস্কার কাজ শুরু হলেও তার অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। অনেক স্থানে কাজ শুরু করেও দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে।

 

চালক মো. খোরশেদ বলেন, “যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছেন, পাশাপাশি আমাদের গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়।”

 

অন্যদিকে খোদারহাট-ফুলতলা সড়কের আমিলাইষ কালী বাড়ির পর দত্তবাড়ি, বিলাঞ্চল, পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, বটগাছ এলাকা থেকে নন্দলাল দীঘি পর্যন্ত অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে এবং ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

 

নিয়মিত এ সড়কে চলাচলকারী চিকিৎসক ডা. ইউনুচ রেজাউল বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিনিয়ত এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সংস্কার কাজ যেন থমকে আছে। কাদাময় ও গর্তে ভরা সড়কে চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত কাজ শেষ করা জরুরি।”

 

স্থানীয় যাত্রী জয়নাল আবেদীন বলেন, “মাসের পর মাস ধরে সংস্কারের নামে ধীরগতি চলছে। সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, “সড়ক দুটির সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। যেখানে গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সেখানে ইটের খোয়া দিয়ে প্রাথমিকভাবে চলাচলের উপযোগী করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের তাগিদ অব্যাহত রয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “সড়কের দুই পাশে ভবন ও দেয়াল নির্মাণের কারণে অনেক স্থানে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে সড়কে গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই দ্রুত সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি