দীর্ঘ ৩১ মাস ধরে একটি দৈনিক পত্রিকার উন্নয়ন, পরিচালনা, ডিজিটাল সম্প্রসারণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করার পরও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দৈনিক কুমিল্লার আলো পত্রিকার সহকারী বার্তা সম্পাদক মোঃ মামুনুর রশিদ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, পত্রিকাটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রকাশনা সচল রাখতে ব্যক্তিগতভাবে দুই লাখ টাকারও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করলেও এখন পর্যন্ত সেই অর্থ ফেরত পাননি।
তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে শ্রম, মেধা, সময় ও ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করেও তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বকেয়া বেতন, বিজ্ঞাপনের কমিশন এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগের অর্থসহ তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মামুনুর রশিদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে দৈনিক কুমিল্লার আলো পত্রিকার মালিক, সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ জসিম উদ্দিন কনকের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি পত্রিকাটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। সে সময় পত্রিকার প্রকাশনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমিত ছিল এবং অফিসের অবকাঠামোগত অবস্থাও ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
তিনি জানান, পত্রিকাটিকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদমাধ্যমে রূপ দিতে তিনি নিজ উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগত অর্থায়নে অনলাইন নিউজ পোর্টাল তৈরি করেন। পাশাপাশি পত্রিকার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও আইডি চালু করে নিয়মিত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, সংবাদ প্রচার ও ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ সম্পাদনা ও প্রকাশ, ফটোকার্ড ডিজাইন, সংবাদ লিংক প্রচার, অনলাইন আপডেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পুরো কার্যক্রম তিনি দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে পরিচালনা করেছেন।
এছাড়া অফিসের নষ্ট কম্পিউটার মেরামত, নতুন মনিটর ও চেয়ার ক্রয়, পত্রিকা প্রকাশে আর্থিক সহযোগিতা, বিভিন্ন উপজেলায় পত্রিকার প্রচার ও বিতরণ, অফিস পরিচালনার বিভিন্ন খরচ বহন এবং সম্পাদক অসুস্থ থাকাকালে ওষুধ ক্রয়সহ নানা ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবছর অনলাইন নিউজ পোর্টালের ডোমেইন, হোস্টিং, নবায়ন ও ডেভেলপার ফিও নিজের অর্থে পরিশোধ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
মামুনুর রশিদের দাবি, ১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দৈনিক কুমিল্লার আলো পত্রিকার সহকারী বার্তা সম্পাদক হিসেবে নিয়োগপত্র লাভ করেন। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি কোনো বেতন পাননি।
তার হিসাব অনুযায়ী, মাসিক ১০ হাজার টাকা হিসেবে ৩১ মাসে তার বকেয়া বেতনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের কমিশন, অনলাইন পোর্টাল নির্মাণ ও পরিচালনা ব্যয়, অফিস উন্নয়নে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত করলে মোট পাওনার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পত্রিকার প্রতিনিধি নিয়োগ ও বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতি রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান।
এ বিষয়ে মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন, “আমি একটি সংবাদমাধ্যমকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিজের শ্রম, সময়, মেধা এবং ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করেছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আমার বেতন ও বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। একজন সংবাদকর্মীর ন্যায্য অধিকার, প্রাপ্য সম্মান ও শ্রমের মূল্য নিশ্চিত হওয়া উচিত। আমি আমার বৈধ পাওনা ও আইনসম্মত অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছি।”
অন্যদিকে, এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দৈনিক কুমিল্লার আলো পত্রিকার মালিক, সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ জসিম উদ্দিন কনকের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।