ঢাকা   ১০:২৭:০৪ পিএম, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের যারা গণহত্যা চালিয়েছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগুরার শ্রীপুরে স্মারক গ্রন্থ ‘স্বপ্ন সারথি’র মোড়ক উন্মোচন এবং বৃক্ষরোপণ মাগুরায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরের শপথ নিলেন অধ্যাপক সাইদ আহমাদ বাচ্চু    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২) এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত পরীমণির সঙ্গে কি ঘটেছিল জানালেন সেই সাংবাদিক কুমিল্লার গাংচরে বহুতল ভবনে ফাটলের পর হেলে পড়েছে, মালিকের দাবি ইঁদুরের কাণ্ড মাগুরায় নকল কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা মাগুরা-১ আসনের এম পি মনোয়ার খানের দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত কুমিল্লায় শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন, থাকছে ফ্রি পার্ক রাইড উপভোগের সুযোগ

মাগুরায় খবরের কাগজ বিক্রি কমে যাওয়ায় হকারদের মানবেতর জীবনযাপন

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০৫ বার
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

কাক ডাকা ভোরের আগেই ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে  মাগুরা শহরের পিটিআই এর আসেন হকার নুরু মিয়া। শুধু নুর মিয়া নয় এ কাজে ভোর হতে ছুটে আসেন বারাসিয়া গ্রামের খোকন,  আবালপুর গ্রামের  আবু মিয়া,শহরের নতুন বাজার থেকে অসিত বিশ্বাস ও সাগর। বাড়ীর  সকালের  নাস্তা তাদের ভাগ্যে জোটে না। সকালে চা বিস্কুট খেতে খেতেই খবরের কাগজ পৌঁছে যায় পিটিআই এর সামনে। এরপর শুরু হয় সংগ্রাম। প্রতিটি খবরের কাগজের বান্ডিল খুলে সাইকেলে বেধে ছুটে চলা তাদের। রোদ বৃষ্টি ঝড়  মাথায় নিয়েই যেতে হয় বিভিন্ন অফিস আদালত বাড়ি বাড়ি  ও হাটে বাজারে।

 

হকার নুরু মিয়া ( ৫৫) বলেন, আমি ৩৪ বছর ধরে  কাগজের সাথে জড়িত। কাজের পাশাপাশি আমি বাড়িতে কৃষি কাজ করি। অনেক আগে থেকেই এ পেশার সাথে জড়িত বিধায় এখনো নানা সংগ্রাম নিয়ে এ পেশার সাথে টিক আছি। আযানের পর থেকে নামাজ পড়ে তারপরেই রওনা দিই মাগুরা শহরে। সকালের খাবার আমাদের ভাগ্যে জোটে না। পথে ঘাটে যা পাই তা খেয়েই খবরের কাগজ নিয়ে ছুটে চলি বিভিন্ন জায়গায়। বছরে তিন মাস আমাদের খুবই কষ্ট হয়। বিশেষ করে আষাঢ় শ্রাবণ ভাদ্র  এ ৩ মাসে আমাদের কাগজ বিলি করতে খুব কষ্ট হয়। এক সময় বৃষ্টিতে ভিজে যায় কাগজ। সেই কাগজ আর কোথাও দিতে পারি না। ফলে নানা সমস্যা নিয়েই আমাদের জীবন সংগ্রাম। বর্তমানে কাগজ বিক্রি কমে যাওয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।

 

হকার অসিত বলেন,প্রায় ৩০ বছর এ কাজের সাথে আমি জড়িত। বর্তমানে বিক্রি করে বেঁচে  আমাদের সংসার চলে না। এ কাজের পাশাপাশি আমি অন্য পেশা অন্য পেশায় কাজ করতে পারিনা। ভোর থেকেই আমরা এ কাজের সাথে জড়িত। শহর থেকে গ্রামে অফিস আদালত হাটে বাজারে দোকানে দোকানে গিয়ে  কাগজ বিলি করতে করতে। মাস শেষে  বিল উঠাতে উঠাতে আমাদের প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন লেগে যায়। আবার অনেক সময় গ্রাহকরা টাকা বাকি রাখেন।আমার সংসারে  দুই মেয়ে এক ছেলে। সংসারে প্রতি মাসেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ। বর্তমান বাজারে কাগজের এই পেশায় আমাদের যে আয় হয় তাতে সংসার চলে না।

 

বারাসিয়া গ্রামের হকার খোকন মিয়া জানান, আমি এ পেশার সাথে প্রায় বিশ বছর যাবৎ জড়িত। ভোর হতেই প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে না খেয়ে আসতে হয় মাগুরা শহরে। খবরের কাগজ বিলি করতে করতে আমাকে ইছাখাদা বাজার পর্যন্ত যেতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে  মহাসড়কের পথ পাড়ি দিয়ে সাইকেল চালিয়ে আমাদের এ জীবন জীবিকা। এ কাজের পাশাপাশি আমি সংসারে কিছুটা কৃষি কাজ করি। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে কাগজ কেউ পড়তে চায় না। অনেকে মোবাইলে অনলাইনে রাতেই খবরে কাগজ পড়ে নিন। তাই এ পেশা জীবন জীবিকার পথে  ঝুঁকি হয়ে পড়েছে।

 

খবরের কাগজ বিক্রেতা  সাগর জানান,আমি অল্প কয়েক বছর হল এ পেশার সাথে আছি। সকাল থেকেই দুপুর ২ টা পর্যন্ত খবরের কাগজ নিয়ে ছুটে চলতে হয় বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এ পেশায় টিকে থাকা কষ্টসাধ্য। মাস গেলে খবরের কাগজের বিল ঠিকমতো আদায় করতে পারিনা। ফলে অনেক স্থানে বাকিই থেকে যায়। এক এক কাগজের মূল্য এক এক রকম। তাই অনেকটা কম দামেই আমাদের বিক্রি করতে হয় কাগজ।

 

এই অবস্থায় আমাদের জীবনজীবিকা হুমকির পথে।

 

এদিকে জেলার  শ্রীপুর উপজেলার মের্সাস এম আর জিন্নাহর পত্রিকা এজেন্সির পরিচালক মোঃ মনিরুল ইসলাম মিন্টু বলেন -পত্রিকার গ্রাহক কমতে কমতে অর্ধেকের বেশি কমে গেছে, গ্রাহক কমে যাওয়ায় হকার ও কমে গেছে, তাদের আর শুধু পত্রিকা বিত্রুি করে সংসার চলেনা, তাই তারা অন্য পেশা বেছে নিচ্ছে। যেসব হকার এখনো আছে তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি