৪ টা আগস্ট ২০২৪ বা ৩৫ জুলাই, যে স্মৃতি কোনো দিন ভোলার নয়! সেদিন মাগুরাসহ সারা দেশই টালমাটাল! আগের দিনই সিদ্ধান্ত হলো পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে মাগুরা শহরের ভায়না মোড় এলাকায়। ফজরের নামাজ পড়েই ছুটে এলাম ভায়না মোড় এলাকায়, তখনো তেমন কিছুই চোখে মত ছিলো না! সকাল ৯টার দিকে পূনরায় যখন ভায়না মোড়ে এসে পৌঁছিলাম তখনও তেমন কিছু চোখে পড়ল না! যেন আমিই সবার আগে এখানে! সকাল সোয়া ৯টার দিকে শুরু হলো খেলা! আমি তখন ভায়নার মোড়ের দক্ষিণ – পশ্চিম কোনায় দাড়িয়ে ছবি তোলা ও ভিডিও নেওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। কিছুক্ষনের ভিতরে ঘাতক আমাকে টার্গেট করে আধোলা ইট ছুরে মারে, যা আমার বাম পায়ের হাঁটুর উপরে( উরুতে) সোজোরে আঘাত করে। পরবর্তীতে যখন আমার অন্যান্য সহকর্মী এসে ভায়না মোড়ের ঠিক উত্তর দিকে অবস্থান নেয়, আমি ও সেখানে তাদের অবস্থান নিয়ে আমার পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করতে থাকি। এমতাবস্থায় সেখানে ও ভিডিও / ছবি তোলার একাধিকবার আমার উপর হামলা করা হয়, যা সহকর্মীরা প্রতিহত করে। এর মধ্যে খবর আসে ছাত্র নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি, ফরহাদ হোসেন শাহাদত বরণ করেছেন। আমি তখন হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে শ্রীপুর এসে প্রাইভেট ভাবে ডাক্তার দেখায়। কিন্তু আমি আর পুরাপুরি সুস্থ হতে পারিনি! ডাক্তার আমাকে বাইরে থেকে উন্নত মানের স্প্রে এনে দিয়েছিলেন যা এখনো ঐ স্প্রে এবং মুভ ব্যবহার করি । কিন্তু! আজ দু বছর পার হতে চলছে! আমি এখনো বাম কাঁথে শুতে পারি না”হাই কোমোট ছাড়া বাথরুম করতে পারিনা! জানিনা আর কত দিন এভাবে চলবো! চলতে চলতেই হয়তো একদিন ডাক এসে যাবে ওপারে যাওয়ার!
শহীদী তামান্না নিয়ে সবাইকে ছেড়ে ওপারের সুন্দর ভূবনে পাড়ি জমাতে পারি, এ প্রত্যাশা সবার নিকট করি। ১৯৭১ সালে আমার পরিবারের ৫ /৬জন শহীদ হন,২বোন, ২ ভাগিনী, ১ ভাগিনা, ১ চাচা এবং বোন ভাগনীদের শাহাদত বরণের খবর শুনে দুলাভাইও হার্ট এ্যাটাকে মারা যান! এরপরও মহান রব্বুল আলামীনের নিকট লক্ষ কোটি শুকরিয়া জানায় আলহামদুলিল্লাহ! অনেকের চেয়ে ভালো আছি! সবার নিকট দোয়া চাই, মহান রব্বুল আলামীন যেন আমাকে সুস্থ করে দেয়, আর ৭১ ও ২৪ এর শহীদসহ সকল শহীদদের সাথে জান্নাতের সিঁড়িতে যেন দেখা হয়। আমিন,০ ছুম্মা আমিন, ইয়া রব্বুল আলামীন ।