কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লার ১৮ থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গতরাতে মোট ৬২৪ যুবক ও কিশোর আটক করা হয়েছে৷ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কিশোর চক্র থাকতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া বিভাগ।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লা জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার ১৮টি থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোরদের বখাটেপনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে জেলার সব থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ পূর্বের কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, “কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যেন কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। আটক ব্যক্তিদের পূর্বের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।”
পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।